সৌদি আরবে হুথিদের সাম্প্রতিক হামলা এবং এর জেরে তৈরি হওয়া নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে জরুরি বৈঠকে বসছে পাকিস্তান, সৌদি আরব ও তুরস্ক। মক্কা জয়েন্ট ডিফেন্স অ্যাগ্রিমেন্টের (এমজেডিএ) আওতায় গঠিত কৌশলগত রাজনৈতিক ও প্রতিরক্ষা কমিটির এই বৈঠক আগামী সপ্তাহে সৌদি রাজধানী রিয়াদে অনুষ্ঠিত হবে বলে জানিয়েছেন পাকিস্তানের উপপ্রধানমন্ত্রী ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইসহাক দার।
শুক্রবার (২ অক্টোবর) এক সংবাদ ব্রিফিংয়ে ইসহাক দার বলেন, মক্কা চুক্তির আওতায় গঠিত কৌশলগত রাজনৈতিক ও প্রতিরক্ষা কমিটির পূর্ণাঙ্গ বৈঠক শিগগিরই রিয়াদে অনুষ্ঠিত হবে। সেখানে সৌদি আরবের বর্তমান পরিস্থিতিসহ সাম্প্রতিক আঞ্চলিক নিরাপত্তা বাস্তবতা পর্যালোচনা করা হবে। বৈঠকে যেসব সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে, তা চূড়ান্ত হওয়ার পর জনসাধারণকে জানানো হবে বলেও জানান তিনি।
গত ৭ আগস্ট পাকিস্তান, সৌদি আরব ও তুরস্ক মক্কা জয়েন্ট ডিফেন্স অ্যাগ্রিমেন্টে স্বাক্ষর করে। দীর্ঘদিনের কৌশলগত সম্পর্ককে আরও প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দিতে এই প্রতিরক্ষা কাঠামো গড়ে তোলা হয়। চুক্তির লক্ষ্য হিসেবে তিন দেশ যৌথ প্রতিরোধ সক্ষমতা বৃদ্ধি, সামরিক সহযোগিতা জোরদার এবং আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখার কথা জানিয়েছে।
সৌদি আরবের নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে এই বৈঠক এমন সময়ে অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে, যখন মধ্যপ্রাচ্যে বিভিন্ন সংঘাত ও উত্তেজনার প্রভাব আঞ্চলিক নিরাপত্তার পাশাপাশি আন্তর্জাতিক বাণিজ্য ও যোগাযোগব্যবস্থার ওপরও পড়ছে। বিশেষ করে হরমুজ প্রণালি ও বাব আল-মান্দাব ঘিরে অস্থিতিশীলতা নিয়ে উদ্বেগ রয়েছে।
জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনের উচ্চপর্যায়ের সপ্তাহেও বিষয়টি গুরুত্ব পেয়েছে। ইসহাক দারের ভাষ্য অনুযায়ী, ২১ থেকে ২৫ সেপ্টেম্বর নিউইয়র্কে অনুষ্ঠিত বিভিন্ন বৈঠকে পাকিস্তান আঞ্চলিক নিরাপত্তা, ফিলিস্তিন সংকট, ভারত-পাকিস্তান সম্পর্ক এবং সীমান্তপারের সন্ত্রাসবাদ নিয়ে নিজেদের অবস্থান তুলে ধরেছে।
প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদে দেওয়া বক্তব্যেও ফিলিস্তিন ইস্যুতে পাকিস্তানের দীর্ঘদিনের অবস্থান পুনর্ব্যক্ত করেন। পাকিস্তান ১৯৬৭ সালের পূর্ববর্তী সীমান্তের ভিত্তিতে পূর্ব জেরুজালেমকে রাজধানী করে একটি স্বাধীন ফিলিস্তিন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার পক্ষে রয়েছে বলে জানান তিনি।
জাতিসংঘ অধিবেশনের ফাঁকে শাহবাজ শরিফ বিভিন্ন দেশের রাষ্ট্র ও সরকারপ্রধানের সঙ্গে বৈঠক করেন। জাতিসংঘ মহাসচিবসহ কুয়েত, কেনিয়া, বসনিয়া ও হার্জেগোভিনা, ইরান, সিরিয়া, বাংলাদেশ ও লেবাননের প্রতিনিধিদের সঙ্গে তাঁর বৈঠক হয়। ইউরোপীয় কমিশন ও ইউরোপীয় কাউন্সিলের শীর্ষ কর্মকর্তাদের পাশাপাশি আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) ব্যবস্থাপনা পরিচালকের সঙ্গেও পাকিস্তানি প্রতিনিধিদলের আলোচনা হয়েছে বলে জানান ইসহাক দার।
এদিকে ৩০ সেপ্টেম্বর জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের নির্বাচিত সদস্য হিসেবে পাকিস্তানের দুই বছরের মেয়াদ শেষ হয়েছে। ইসহাক দারের দাবি, এ সময়ে বহুপাক্ষিকতা এবং বিরোধের শান্তিপূর্ণ সমাধানে পাকিস্তান সক্রিয় ভূমিকা রেখেছে। নিরাপত্তা পরিষদে ১২ বছর পর পাকিস্তানের উত্থাপিত একটি প্রস্তাব সর্বসম্মতিক্রমে গৃহীত হয়েছে বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
রিয়াদের আসন্ন বৈঠকে তিন দেশের প্রতিরক্ষা ও রাজনৈতিক সহযোগিতার পরবর্তী পদক্ষেপ নিয়ে আলোচনা হওয়ার কথা রয়েছে। বিশেষ করে সৌদি আরবের বর্তমান নিরাপত্তা পরিস্থিতি এবং আঞ্চলিক উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে মক্কা চুক্তির আওতায় কী ধরনের সমন্বয় জোরদার করা হবে, সেদিকেই নজর থাকবে। তবে বৈঠক থেকে কী সিদ্ধান্ত আসছে, তা আনুষ্ঠানিক ঘোষণা না হওয়া পর্যন্ত নিশ্চিতভাবে বলা যাচ্ছে না।