প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের রাজশাহী সফরের ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশের পর সেখানে আপত্তিকর মন্তব্য করার অভিযোগে আবু বক্কর সিদ্দিক নামের এক ব্যক্তিকে আটক করেছে স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়ন (এসআরবি)-৫। বুধবার (২১ অক্টোবর) বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে রাজশাহীর পবা উপজেলার পারিলা ইউনিয়নের রামচন্দ্রপুর এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাঁকে আটক করা হয়।
বৃহস্পতিবার (২২ অক্টোবর) স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, গত ২০ অক্টোবর প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান রাজশাহী সফর করেন। সফরকে কেন্দ্র করে তাঁর বিভিন্ন ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পোস্ট করা হয়। এসব ছবির একটি পোস্টে আবু বক্কর আপত্তিকর মন্তব্য করেন বলে অভিযোগ ওঠে। ওই মন্তব্যের সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিকে শনাক্ত করতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর একাধিক ইউনিট কাজ শুরু করে।
স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, অভিযুক্ত ব্যক্তির পরিচয় শনাক্তে রাজশাহী মহানগরের চন্দ্রিমা থানা পুলিশ, স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়ন (এসআরবি), গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি), সিটিএসবি ও সিআরটি কাজ করে। সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর সমন্বিত তৎপরতায় একপর্যায়ে আবু বক্কর সিদ্দিকের পরিচয় শনাক্ত করা সম্ভব হয়।
পরিচয় শনাক্তের পর এসআরবির সদস্যরা তাঁর বাবার সঙ্গে কথা বলেন। জিজ্ঞাসাবাদে তাঁর বাবা আয়নাল হক জানান, আবু বক্কর রাজশাহীর কচুয়াতৈল গ্রামের বাসিন্দা হলেও বর্তমানে তাঁর মামার বাড়িতে অবস্থান করছেন। এই তথ্যের ভিত্তিতে অভিযান পরিচালনার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
পরে এসআরবি-৫ রাজশাহী ব্যাটালিয়নের একটি দল পবা উপজেলার পারিলা ইউনিয়নের রামচন্দ্রপুর এলাকায় তাঁর মামার বাড়িতে অভিযান চালায়। সেখান থেকেই আবু বক্কর সিদ্দিককে আটক করা হয়।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বদের ছবি ও বক্তব্য ঘিরে মন্তব্যের ক্ষেত্রে ব্যক্তিগত মতপ্রকাশ, শালীনতা এবং প্রচলিত আইন মেনে চলার বিষয়টি প্রায়ই আলোচনায় আসে। তবে কোনো মন্তব্য আপত্তিকর বলে অভিযোগ উঠলেই সেটিকে স্বয়ংক্রিয়ভাবে অপরাধ হিসেবে গণ্য করা যায় না; সংশ্লিষ্ট বক্তব্যের প্রকৃতি, প্রযোজ্য আইন এবং তদন্তের ফলাফলের ভিত্তিতেই বিষয়টি মূল্যায়ন করা প্রয়োজন।
স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বিজ্ঞপ্তিতে আবু বক্কর সিদ্দিককে আটকের তথ্য জানানো হলেও তাঁর বিরুদ্ধে নির্দিষ্ট কোন ধারায় মামলা হয়েছে কি না, পরবর্তী আইনি পদক্ষেপ কী এবং অভিযোগের বিষয়ে তাঁর বক্তব্য কী—এসব তথ্য বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়নি। ফলে অভিযোগের চূড়ান্ত সত্যতা ও এ ঘটনায় পরবর্তী আইনগত প্রক্রিয়া সম্পর্কে নিশ্চিত হতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের আনুষ্ঠানিক বক্তব্যের অপেক্ষা করতে হবে।