২০২৫ সালের তুলনায় বর্তমানে দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি অনেক ভালো অবস্থায় রয়েছে বলে দাবি করেছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাউদ্দিন আহমদ। তবে জনসাধারণের প্রত্যাশা অনুযায়ী পরিস্থিতি আরও উন্নত করতে সময় লাগবে বলেও স্বীকার করেছেন তিনি। বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে সরকার সন্তুষ্ট বলেও মন্তব্য করেন মন্ত্রী।
বৃহস্পতিবার সচিবালয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ২০২৫ সালের তুলনায় দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির দৃশ্যমান উন্নতি হয়েছে। পরিস্থিতি মূল্যায়নে সরকারি পরিসংখ্যানকে ভিত্তি হিসেবে নেওয়া হচ্ছে বলে জানান তিনি। তার ভাষ্য অনুযায়ী, খুন, অপহরণ, ধর্ষণ, অস্ত্র মামলা, নারী নির্যাতনসহ বিভিন্ন ধরনের অপরাধের মাসিক তথ্য পুলিশ সদর দপ্তরে কেন্দ্রীয়ভাবে সংরক্ষণ করা হয়। দেশের প্রতিটি জেলা থেকে নিয়মিত এসব তথ্য সংগ্রহ করে তা সংকলন করা হয়। পরে আগের বছরের একই সময়ের অপরাধের পরিসংখ্যানের সঙ্গে তুলনা করে সার্বিক পরিস্থিতি মূল্যায়ন করা হচ্ছে।
মন্ত্রী বলেন, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে সরকারি কর্মকর্তা বা উপদেষ্টাদের বক্তব্যে যদি পুলিশের সংরক্ষিত তথ্যের সঙ্গে কোনো পার্থক্য থাকে, তাহলে ভিন্ন কোনো পরিসংখ্যান থাকলে তা পুলিশকে সরবরাহ করা উচিত। যাচাইয়ের মাধ্যমে প্রকৃত চিত্র বের করা সম্ভব বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
দেশের অপরাধ পরিস্থিতি মূল্যায়নের ক্ষেত্রে জেলা পর্যায়ের তথ্যকে কেন্দ্রীয়ভাবে একত্র করার প্রক্রিয়ার কথাও তুলে ধরেন সালাউদ্দিন আহমদ। তিনি জানান, প্রতিটি জেলা থেকে মাসভিত্তিক অপরাধের তথ্য সংগ্রহ করা হয় এবং সেগুলো বিশ্লেষণ করে সারাদেশের অপরাধচিত্র তৈরি করা হয়। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির পরিবর্তন বোঝার জন্য এসব তথ্য নিয়মিত পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে।
সাম্প্রতিক একটি ছিনতাইয়ের ঘটনায় এক শিক্ষিকার মৃত্যুর প্রসঙ্গও উঠে আসে সাংবাদিকদের প্রশ্নে। এ বিষয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, ঘটনার ১২ ঘণ্টার মধ্যে একজন আসামিকে গ্রেপ্তার করা হয় এবং ছিনতাইয়ে ব্যবহৃত মোটরসাইকেল উদ্ধার করা হয়। পরবর্তী সময়ে গোয়েন্দা পুলিশের অভিযানে আরও কয়েকজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে বলেও জানান তিনি।
তবে ছিনতাইকারীরা এখনো সক্রিয়—সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী বলেন, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ধারাবাহিক অভিযানের ফলে ছিনতাইয়ের প্রবণতা ইতোমধ্যে কমেছে। ভবিষ্যতে এ ধরনের অপরাধ আরও কমবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।
এদিকে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ভেতরে থাকা কোনো কোনো পুলিশ সদস্য সরকারকে বিব্রত করা কিংবা আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়নে গোপনে বাধা দিচ্ছেন কি না—এমন প্রশ্নও করা হয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে।
জবাবে তিনি বলেন, এ ধরনের কোনো নির্দিষ্ট তথ্য থাকলে তা আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কাছে দিতে হবে। বাহিনীর অভ্যন্তরীণ গোয়েন্দা কার্যক্রম চালু রয়েছে এবং সেই ব্যবস্থার মাধ্যমেও অনিয়ম বা সংশ্লিষ্ট বিষয়গুলো শনাক্ত করার চেষ্টা করা হয়। কারও কাছে এ বিষয়ে তথ্য থাকলে তা যাচাই করে দেখার আশ্বাস দেন তিনি।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর বক্তব্যে একদিকে গত বছরের তুলনায় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নতির দাবি উঠে এসেছে, অন্যদিকে সাধারণ মানুষের প্রত্যাশা পূরণে আরও সময় প্রয়োজন বলেও তিনি স্বীকার করেছেন। ফলে সরকারের মূল্যায়নের পাশাপাশি মাঠপর্যায়ের বাস্তবতা ও অপরাধের পরিসংখ্যান—দুই দিকই পরিস্থিতি বোঝার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠছে।