ভারতের তামিলনাড়ুর নাগেরকোইলে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দামি গয়না ও বিপুল পরিমাণ নগদের ভিডিও প্রকাশের কয়েক দিনের মধ্যেই চুরির শিকার হয়েছেন এক ইউটিউবার দম্পতি। তাঁদের বাড়ি থেকে প্রায় ৯৬০ গ্রাম সোনার গয়না, হিরের অলঙ্কার ও নগদ ৫০ হাজার টাকা চুরি হয়েছে। পুলিশের হিসাবে, সব মিলিয়ে চুরি যাওয়া সম্পদের আনুমানিক মূল্য প্রায় ১ কোটি রুপি।
শনিবার (২৬ সেপ্টেম্বর) টাইমস অব ইন্ডিয়ার এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
কন্যাকুমারী জেলার নাগেরকোইলের কাছে থামাথুকোনম এলাকায় স্বামী বিনোদ কুমার, স্ত্রী মধুমিতা ও তাঁদের সন্তান বসবাস করেন। মধুমিতা একজন সোশ্যাল মিডিয়া ইনফ্লুয়েন্সার। নিয়মিত বিভিন্ন বিষয় নিয়ে ভিডিও ও পোস্ট প্রকাশ করতেন তিনি। এর মধ্যে নিজের দামি গয়না, নগদ টাকা এবং সম্পদের প্রদর্শন করা কয়েকটি ভিডিওও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছিল।
ঘটনার দিন বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় স্বামী, স্ত্রী ও তাঁদের সন্তান কেনাকাটার জন্য বাড়ি থেকে বের হন। কয়েক ঘণ্টা পর রাতে ফিরে এসে তাঁরা দেখতে পান, বাড়ির শোয়ার ঘরের আলমারি ভাঙা। ভেতরে রাখা গয়না ও টাকা-পয়সা নেই। পরে বিষয়টি জানানো হয় রাজাক্কামঙ্গলম থানায়।
খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে তদন্ত শুরু করে। প্রাথমিকভাবে তদন্তকারীদের ধারণা, বাড়ির পেছনের দরজা দিয়ে চোরেরা প্রবেশ করেছিল। দরজার তালা কাটতে কাটিং মেশিনের মতো কোনো যন্ত্র ব্যবহার করা হয়েছে বলে পুলিশ জানিয়েছে। এরপর তারা শোয়ার ঘরে ঢুকে আলমারি ভেঙে মূল্যবান সামগ্রী নিয়ে পালিয়ে যায়।
চুরি যাওয়া সম্পদের মধ্যে রয়েছে প্রায় ৯৬০ গ্রাম সোনার গয়না, হিরের অলঙ্কার এবং ৫০ হাজার টাকা নগদ। অভিযোগের ভিত্তিতে এসব সম্পদের মোট মূল্য প্রায় ১ কোটি রুপি বলে জানানো হয়েছে।
চুরির তদন্তে মধুমিতার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের অ্যাকাউন্টও খতিয়ে দেখছে পুলিশ। তদন্তকারীরা তাঁর একাধিক ভিডিও ও পোস্টে এমন কিছু তথ্য পেয়েছেন, যা তাঁদের কাছে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। কোনো ভিডিওতে তাঁকে দামি সোনার গয়না পরে থাকতে দেখা গেছে। আবার অন্য একটি ভিডিওতে বিছানার ওপর সাজানো টাকার বান্ডিল দেখা যায়। এমনকি সন্তানের ওপর টাকার নোট ছড়িয়ে দেওয়ার ভিডিওও তাঁর প্রোফাইলে ছিল বলে জানিয়েছে পুলিশ।
এ ছাড়া কোথা থেকে গয়না কেনা হয়েছে, সেই তথ্যও মধুমিতা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশ করতেন বলে তদন্তকারীদের দাবি।
পুলিশ এখন খতিয়ে দেখছে, এসব প্রকাশ্য পোস্ট থেকে চোরেরা পরিবারের আর্থিক অবস্থান এবং তাঁদের চলাফেরার বিষয়ে কোনো ধারণা পেয়েছিল কি না। বিশেষ করে পরিবারের সদস্যরা কখন বাড়ির বাইরে থাকেন, সেই তথ্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের পোস্ট থেকে আগেই জানা সম্ভব হয়েছিল কি না, সেটিও তদন্তের অংশ।
ঘটনার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যক্তিগত সম্পদ, নগদ অর্থ কিংবা বাড়ি ফাঁকা থাকার তথ্য প্রকাশের ঝুঁকিও নতুন করে সামনে এসেছে। মধুমিতার ক্ষেত্রেও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের পোস্ট ও চুরির সময়ের মধ্যে কোনো সম্পর্ক ছিল কি না, তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত তা নিশ্চিতভাবে বলা যাচ্ছে না।