স্থানীয় সরকারের ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) নির্বাচন সাত ধাপে আয়োজনের প্রাথমিক সিদ্ধান্ত নিয়েছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। পরিকল্পনা অনুযায়ী, প্রথম ধাপের ভোট অনুষ্ঠিত হতে পারে আগামী ১২ নভেম্বর। তবে ভোটের এই তারিখগুলো এখনো সম্ভাব্য পর্যায়ে রয়েছে। আনুষ্ঠানিক তফসিল ঘোষণার পরই চূড়ান্ত সময়সূচি নিশ্চিত হবে।
সোমবার নির্বাচন কমিশনের বৈঠক শেষে নির্বাচন কমিশনার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) আবুল ফজল মো. সানাউল্লাহ সাংবাদিকদের এ তথ্য জানান। প্রধান নির্বাচন কমিশনার এ এম এম নাসির উদ্দিনের নেতৃত্বে সকালে কমিশন সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন আয়োজনের প্রস্তুতি ও সম্ভাব্য সময়সূচি নিয়ে আলোচনা করা হয়।
বৈঠক শেষে মো. সানাউল্লাহ বলেন, ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন নিয়ে কমিশন প্রাক-প্রস্তুতিমূলক সভা করেছে। সেখানে সারাদেশের ইউপি নির্বাচন সাত ধাপে আয়োজনের প্রাথমিক সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
ইসি সূত্রে জানানো পরিকল্পনা অনুযায়ী, দেশের প্রায় সাড়ে চার হাজার ইউনিয়ন পরিষদে পর্যায়ক্রমে ভোট নেওয়া হবে। প্রথম ধাপের ভোটের সম্ভাব্য তারিখ ১২ নভেম্বর। এরপর দ্বিতীয় ধাপে ১৩ ডিসেম্বর, তৃতীয় ধাপে ৩০ ডিসেম্বর ভোট আয়োজনের পরিকল্পনা রয়েছে।
চতুর্থ ধাপের ভোট আগামী বছরের ১৭ জানুয়ারি, পঞ্চম ধাপের ভোট ৪ ফেব্রুয়ারি, ষষ্ঠ ধাপের ভোট ২২ এপ্রিল এবং সপ্তম তথা শেষ ধাপের ভোট ২৭ মে আয়োজনের প্রাথমিক পরিকল্পনা করা হয়েছে।
প্রথম ধাপে ৮০টি উপজেলার ইউনিয়ন পরিষদে ভোট অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। এর মধ্য দিয়ে ধাপে ধাপে ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন কার্যক্রম শুরু হবে।
ইউনিয়ন পরিষদ দেশের স্থানীয় সরকার ব্যবস্থার গুরুত্বপূর্ণ একটি স্তর। গ্রামীণ পর্যায়ে নাগরিক সেবা, স্থানীয় উন্নয়ন ও বিভিন্ন সামাজিক কার্যক্রমে ইউপি পরিষদের ভূমিকা রয়েছে। ফলে এই নির্বাচনকে ঘিরে সংশ্লিষ্ট এলাকাগুলোতে রাজনৈতিক দল, সম্ভাব্য প্রার্থী ও ভোটারদের মধ্যে আগ্রহ তৈরি হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
তবে নির্বাচন কমিশনার সম্ভাব্য সময়সূচি জানালেও এটিকে এখনই চূড়ান্ত তফসিল হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে না। কমিশনের আনুষ্ঠানিক সিদ্ধান্তের পর নির্বাচন কমিশন তফসিল ঘোষণা করবে। তখন মনোনয়নপত্র জমা, যাচাই-বাছাই, প্রত্যাহার এবং ভোটগ্রহণের বিস্তারিত সময়সূচিও স্পষ্ট হবে।
ইউপি নির্বাচন সাত ধাপে সম্পন্ন করার এই পরিকল্পনা বাস্তবায়িত হলে দীর্ঘ সময় ধরে পর্যায়ক্রমে স্থানীয় সরকারের এ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। এখন কমিশনের আনুষ্ঠানিক তফসিল ঘোষণার অপেক্ষায় সংশ্লিষ্টরা।