
শ্রমিকদের আন্দোলনের প্রভাবে মিরপুর মেট্রোরেল স্টেশন বন্ধ রাখা হয়েছে। এতে ওই এলাকায় সড়ক ও গণপরিবহন চলাচলের পাশাপাশি নগরবাসীর স্বাভাবিক যাতায়াতেও বিঘ্ন সৃষ্টি হয়েছে। সকাল থেকে থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে শিল্পাঞ্চলজুড়ে।
ন্যূনতম মজুরি ৩০ হাজার টাকা নির্ধারণের দাবিতে পোশাকশ্রমিকদের আন্দোলনকে কেন্দ্র করে দেশের প্রধান শিল্পাঞ্চলগুলোতে শ্রমিক অসন্তোষ তীব্র আকার ধারণ করেছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে না আসায় এবং শ্রমিকরা কাজ বন্ধ করে কারখানা থেকে বেরিয়ে যাওয়ায় মিরপুর, গাজীপুর-ময়মনসিংহ এবং সাভার-আশুলিয়া-জিরানীসহ বিভিন্ন শিল্পাঞ্চলে শত শত পোশাক কারখানার উৎপাদন বন্ধ হয়ে গেছে।
বাংলাদেশ পোশাক প্রস্তুতকারক ও রপ্তানিকারক সমিতির (বিজিএমইএ) তথ্য অনুযায়ী, শ্রমিক অসন্তোষের কারণে দেশের বিভিন্ন শিল্পাঞ্চলের ৬৭৯টি পোশাক কারখানা বন্ধ রয়েছে। এসব কারখানায় কর্মরত ১৬ লাখ ৮০ হাজার ৫৭২ জন শ্রমিক কাজ না করেই বাড়ি ফিরে যেতে বাধ্য হয়েছেন। সোমবার (২ নভেম্বর) বিজিএমইএ সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।
সংগঠনটির হিসাব অনুযায়ী, দেশের পাঁচটি শিল্পাঞ্চলে মোট দুই হাজার ১৩৪টি কারখানা রয়েছে। এর মধ্যে সোমবার বেলা সাড়ে ৩টা পর্যন্ত এক হাজার ৪৫৫টি কারখানা চালু ছিল। বাকি ৬৭৯টি কারখানায় শ্রমিকদের কর্মবিরতি ও অসন্তোষের কারণে উৎপাদন কার্যক্রম বন্ধ হয়ে যায়।
শিল্পাঞ্চলভিত্তিক পরিসংখ্যানে দেখা যায়, মিরপুরে মোট ৩২০টি পোশাক কারখানার মধ্যে ৫৫টি কারখানা থেকে শ্রমিকরা কাজ ছেড়ে বেরিয়ে যান। এতে কর্মস্থল ত্যাগ করেন ৫৩ হাজার ৮৪০ জন শ্রমিক।
সবচেয়ে বেশি কারখানা বন্ধের ঘটনা ঘটেছে গাজীপুর ও ময়মনসিংহ অঞ্চলে। এই দুই এলাকায় থাকা ৮৩৬টি কারখানার মধ্যে ৩৮২টি কারখানার উৎপাদন বন্ধ ছিল। অন্যদিকে সাভার, আশুলিয়া ও জিরানী শিল্পাঞ্চলে মোট ৪৪১টি কারখানার মধ্যে ২২৩টি কারখানার শ্রমিকরা কাজ বন্ধ করে দেন। এ অঞ্চলে কর্মবিরতিতে অংশ নেওয়া শ্রমিকের সংখ্যা ছিল প্রায় সাত লাখ ৪৩ হাজার।
নারায়ণগঞ্জেও শ্রমিক অসন্তোষের প্রভাব পড়েছে। সেখানে মোট ১৯৯টি কারখানার মধ্যে ৯টি কারখানা থেকে শ্রমিকরা বের হয়ে যাওয়ায় উৎপাদন ব্যাহত হয়। তবে চট্টগ্রামের চিত্র ছিল ভিন্ন। ওই অঞ্চলের ৩৪০টি পোশাক কারখানায় কোনো শ্রমিক অসন্তোষ কিংবা কাজ বন্ধের ঘটনা ঘটেনি বলে বিজিএমইএর তথ্যে উল্লেখ করা হয়েছে।
পোশাকশিল্প বাংলাদেশের রপ্তানি আয়ের অন্যতম প্রধান উৎস। এ খাতের উৎপাদন কার্যক্রমে দীর্ঘস্থায়ী অচলাবস্থা তৈরি হলে পণ্য সরবরাহ, রপ্তানি আদেশ বাস্তবায়ন এবং সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়িক কার্যক্রমে চাপ তৈরি হওয়ার আশঙ্কা থাকে। বিশেষ করে একই সময়ে একাধিক শিল্পাঞ্চলে কারখানা বন্ধ থাকায় পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে।
শ্রমিকদের মূল দাবি ন্যূনতম মাসিক মজুরি ৩০ হাজার টাকা নির্ধারণ। তবে এ দাবির বিষয়ে মালিকপক্ষ ও শ্রমিকদের মধ্যে সমঝোতা না হলে অসন্তোষ আরও ছড়িয়ে পড়তে পারে। শ্রমিকদের বেতন-ভাতা, জীবনযাত্রার ব্যয় এবং শিল্প খাতের সক্ষমতার মধ্যে ভারসাম্য প্রতিষ্ঠা করা এখন সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর জন্য গুরুত্বপূর্ণ চ্যালেঞ্জ।
এদিকে মিরপুর-১১ এলাকায় মঙ্গলবারের সংঘর্ষের পর পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর তৎপরতা অব্যাহত রয়েছে। অন্যান্য শিল্পাঞ্চলেও সতর্ক অবস্থানে রয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ। তবে শ্রমিক আন্দোলন কখন স্বাভাবিক হবে এবং বন্ধ কারখানাগুলোতে কবে উৎপাদন শুরু হবে, সে বিষয়ে এখনো নিশ্চিত কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি।