চট্টগ্রাম নগরে কেক কেটে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার জন্মদিন পালনের ঘটনায় তিন নারীসহ সাতজনকে কারাগারে পাঠিয়েছেন আদালত। সোমবার চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালত ও শিশু আদালত পৃথক আদেশে তাদের কারাগারে পাঠান। গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের মধ্যে দুজন অপ্রাপ্তবয়স্ক হওয়ায় তাদের বিষয়ে শিশু আদালতে শুনানি হয়েছে। ঘটনাটি ঘটেছে নগরের বায়েজিদ বোস্তামী থানার অক্সিজেন আবাসিক এলাকায়।
পুলিশের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, রোববার (২৭ সেপ্টেম্বর) রাত ১২টার দিকে অক্সিজেন আবাসিক এলাকায় অভিযান চালিয়ে সাতজনকে আটক করা হয়। তাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ, তারা শেখ হাসিনার জন্মদিন উপলক্ষে কেক কেটে অনুষ্ঠান করার প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন। পুলিশ বলছে, আটক ব্যক্তিরা ছাত্রলীগের সঙ্গে সম্পৃক্ত।
গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলেন—আসিফ মাহমুদ (১৬), সুফিয়া বেগম (৫০), শারমিন আক্তার (৩০), শারমিন বেগম (২৭), মোহাম্মদ সানি (১৭), হাবিবুর রহমান (১৯) ও নুরুল হাকিম রাব্বি (২৫)। তাদের মধ্যে সুফিয়া বেগম, শারমিন আক্তার ও শারমিন বেগম নারী। আসিফ মাহমুদ ও মোহাম্মদ সানি অপ্রাপ্তবয়স্ক।
পুলিশের ভাষ্য, এই ঘটনায় নুরুল হাকিম রাব্বির ভূমিকা থেকেই অন্যদের আটকের সূত্র পাওয়া যায়। রাব্বি এর আগে নগরের পাঁচলাইশ এলাকায় শেখ হাসিনার জন্মদিন উপলক্ষে আয়োজিত একটি কেক কাটার অনুষ্ঠানে অংশ নিয়েছিলেন। পরে তিনি বায়েজিদ এলাকায় একটি বৃদ্ধাশ্রমে খাবার নিয়ে যান। সেখানে বৃদ্ধদের খাবার খাওয়ানোর সময় পুলিশ তাকে আটক করে বলে জানিয়েছে পুলিশ। এরপর তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে একই ঘটনায় আরও ছয়জনকে আটক করা হয়।
বায়েজিদ বোস্তামী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. ইখতিয়ারউদ্দিন ঘটনাটি নিশ্চিত করেছেন। পুলিশ জানিয়েছে, সাতজনের বিরুদ্ধে আইনগত প্রক্রিয়া শেষে তাদের আদালতে পাঠানো হয়। পরে আদালত তাদের কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন।
পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের মধ্যে আসিফ মাহমুদ ও সুফিয়া বেগম হাটহাজারীর বড়দীঘির পাড়-খিল্লাপাড়া এলাকার বাসিন্দা। শারমিন আক্তারের বাড়ি ফটিকছড়ির সুন্দরপুরের তালুকদার বাড়ি এলাকায়। শারমিন বেগম নগরের অক্সিজেন-লোহারপোল এলাকায় থাকেন। মোহাম্মদ সানির বাড়ি হাটহাজারীর ফতেহপুর এলাকায়। হাবিবুর রহমান বায়েজিদ বোস্তামী থানার কুঞ্জছায়া আবাসিক এলাকায় বসবাস করেন। আর নুরুল হাকিম রাব্বির বাড়ি রাউজানের নাদিমপুর এলাকায়; বর্তমানে তিনি বায়েজিদ এলাকার লোহারফুল এলাকায় থাকেন।
ঘটনাটি এমন সময়ে ঘটল, যখন শেখ হাসিনার জন্মদিনকে ঘিরে বিভিন্ন এলাকায় ছাত্রলীগের কর্মসূচির খবর সামনে এসেছে। তবে চট্টগ্রামের এই ঘটনায় পুলিশের বক্তব্যই গ্রেপ্তার ও মামলার প্রাথমিক তথ্যের প্রধান ভিত্তি। আদালতের আদেশের মধ্য দিয়ে সাতজনের বিরুদ্ধে পরবর্তী আইনগত প্রক্রিয়া এগিয়ে যাবে।