শিশুদের প্রতিভা বিকাশের পাশাপাশি মানবিক মূল্যবোধ ও নৈতিকতার চর্চায় গড়ে তোলার আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি বলেছেন, ভবিষ্যতের বাংলাদেশকে আরও শক্তিশালী ভিত্তির ওপর দাঁড় করাতে শিশুদের এমনভাবে তৈরি করতে হবে, যাতে তারা মানবিকতা ও মূল্যবোধকে নিজেদের জীবনে ধারণ করে।
মঙ্গলবার (৬ অক্টোবর) শিশু অধিকার দিবস এবং বাংলাদেশ শিশু একাডেমির ৫০ বছর পূর্তি উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী এসব কথা বলেন। রাজধানীর বাংলাদেশ শিশু একাডেমিতে আয়োজিত অনুষ্ঠানে শিশুদের বিকাশের জন্য সরকারের পরিকল্পনার কথাও তুলে ধরেন তিনি।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, শিশুদের প্রতিভা বিকাশের জন্য ২০২৮ সাল থেকে সরকারি কার্যক্রম পুরোদমে শুরু হবে। শিশুদের নিজেদের মেধা ও সৃজনশীলতা বিকাশের পর্যাপ্ত সুযোগ দেওয়া গেলে তারা ভবিষ্যতে দেশের জন্য গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারবে। এ কারণে শুধু শিক্ষাগত বা সৃজনশীল প্রতিভার বিকাশ নয়, তাদের মানবিক মূল্যবোধের চর্চার দিকেও গুরুত্ব দিতে হবে।
তিনি বলেন, ‘মানবিক বাংলাদেশ গড়ে তুলতে চাই।’ শিশুদের শৈশব থেকেই মানবিকতা, মূল্যবোধ ও দায়িত্ববোধের সঙ্গে পরিচিত করে তোলার প্রয়োজনীয়তার কথাও তুলে ধরেন প্রধানমন্ত্রী। তার মতে, আগামী দিনের নাগরিক হিসেবে শিশুদের যথাযথভাবে গড়ে তুলতে পারলে তারা ভবিষ্যতের বাংলাদেশ নির্মাণে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারবে।
অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী শিশুদের বিকশিত হওয়ার সুযোগ তৈরির ওপর গুরুত্ব দেন। তার বক্তব্যে শিশুদের মেধা, প্রতিভা ও মানবিক গুণাবলির সমন্বিত বিকাশের বিষয়টি গুরুত্ব পায়।
এর আগে মঙ্গলবার সকালে প্রধানমন্ত্রী বাংলাদেশ শিশু একাডেমিতে পৌঁছালে ১৫০ জন শিশু তাকে বরণ করে নেয়। পরে জাতীয় সংগীত পরিবেশনের মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠানের আনুষ্ঠানিকতা শুরু হয়। জাতীয় সংগীত শেষে প্রধানমন্ত্রী অনুষ্ঠানে উপস্থিত অতিথিদের সঙ্গে আসন গ্রহণ করেন।
মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রী অধ্যাপক ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেনের সভাপতিত্বে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রীর সহধর্মিণী ও জিয়াউর রহমান ফাউন্ডেশনের ভাইস চেয়ারম্যান ডা. জুবাইদা রহমান উপস্থিত ছিলেন।
শিশু অধিকার দিবস এবং বাংলাদেশ শিশু একাডেমির ৫০ বছর পূর্তির এই আয়োজন শিশুদের অধিকার, প্রতিভা বিকাশ ও মানবিক মূল্যবোধের গুরুত্বকে সামনে নিয়ে আসে। অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্যেও শিশুদের ভবিষ্যৎ গড়ে তোলার ক্ষেত্রে এই দুই দিকের সমন্বয়ের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়।