আধুনিক ও মানসম্মত শিক্ষাব্যবস্থা গড়ে তুলতে ফলাফলভিত্তিক শিক্ষা কারিকুলাম (আউটকাম বেজড এডুকেশন—ওবিই) যথাযথভাবে বাস্তবায়নের ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের (বাউবি) উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ ছিদ্দিকুর রহমান খান। তিনি বলেছেন, প্রচলিত পরীক্ষা ও সনদনির্ভর শিক্ষাব্যবস্থা থেকে বেরিয়ে শিক্ষার্থীদের বৈশ্বিক প্রতিযোগিতার উপযোগী করে গড়ে তুলতে এ শিক্ষাপদ্ধতি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। তবে এর সফল বাস্তবায়নে শিক্ষকদের প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষণ ও দক্ষতা উন্নয়ন জরুরি।
শুক্রবার (৯ অক্টোবর) গাজীপুরে বাউবির উপাচার্যের সম্মেলনকক্ষে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাস বিভাগের উদ্যোগে আয়োজিত দিনব্যাপী ‘আউটকাম বেজড এডুকেশন কারিকুলামে শিক্ষাদান ও মূল্যায়ন’ শীর্ষক কর্মশালায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ ছিদ্দিকুর রহমান খান বলেন, দীর্ঘদিন ধরে প্রচলিত শিক্ষাপদ্ধতিতে অভ্যস্ত শিক্ষকদের নতুন কারিকুলামের সঙ্গে খাপ খাইয়ে নিতে প্রশিক্ষণ প্রয়োজন। ফলাফলভিত্তিক শিক্ষাক্রমে পাঠদানের পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের অর্জিত জ্ঞান, দক্ষতা ও যোগ্যতা যথাযথভাবে মূল্যায়নের বিষয়টিও গুরুত্বপূর্ণ। এ ধরনের কর্মশালা শিক্ষকদের নতুন পদ্ধতি সম্পর্কে সুস্পষ্ট ধারণা দিতে এবং শ্রেণিকক্ষে এর কার্যকর প্রয়োগে সহায়তা করবে।
তিনি আরও বলেন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাস বিভাগের এ উদ্যোগ অন্য বিভাগের জন্যও অনুসরণযোগ্য হতে পারে। শিক্ষার গুণগত মান উন্নয়নে তিনি কলা অনুষদের অন্যান্য বিভাগেও এ ধরনের কর্মশালা আয়োজনের আহ্বান জানান।
কর্মশালায় বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কলা অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. মো. আবুল কালাম সরকার। তিনি বলেন, ফলাফলভিত্তিক শিক্ষা কারিকুলাম বাস্তবায়নে বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের (ইউজিসি) মাস্টার ট্রেইনার হিসেবে অভিজ্ঞ শিক্ষকদের দক্ষতা কাজে লাগানো প্রয়োজন। পাঠদান ও মূল্যায়নের বিদ্যমান সীমাবদ্ধতা চিহ্নিত করে সেগুলো দূর করা গেলে শিক্ষার মান উন্নয়নে ইতিবাচক অগ্রগতি সম্ভব হবে।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাস বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. আশফাক হোসেনের সভাপতিত্বে কর্মশালায় শিক্ষকদের সক্রিয় অংশগ্রহণ, শিক্ষার্থীদের সঙ্গে কার্যকর যোগাযোগ এবং পাঠদান ও মূল্যায়নের সীমাবদ্ধতা দূর করার বিষয়ে গুরুত্ব দেওয়া হয়।
সভাপতির বক্তব্যে অধ্যাপক ড. আশফাক হোসেন বলেন, শিক্ষার্থীর সংখ্যার তুলনায় শিক্ষক ও প্রয়োজনীয় সহযোগিতার সীমাবদ্ধতা থাকলেও সম্মিলিত উদ্যোগ এবং কলা অনুষদের সহযোগিতায় ফলাফলভিত্তিক কারিকুলাম সফলভাবে বাস্তবায়ন করা সম্ভব।
কর্মশালায় ফলাফলভিত্তিক শিক্ষাব্যবস্থার গুরুত্ব, পাঠদানে এর কার্যকর প্রয়োগ এবং শিক্ষার্থীদের অর্জন মূল্যায়নের উপযুক্ত পদ্ধতি নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়। এতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাস বিভাগের শিক্ষকরা অংশ নেন।