রাজধানীর উত্তরায় শেখ হাসিনার জন্মদিন পালন, রাষ্ট্রবিরোধী কর্মকাণ্ড ও নাশকতার প্রস্তুতির অভিযোগে সন্ত্রাসবিরোধী আইনে করা মামলায় গ্রেপ্তার ১৫ জনকে রিমান্ড শেষে কারাগারে পাঠিয়েছেন আদালত। শুক্রবার বিকেলে ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আলবিরুনী মীর তদন্ত কর্মকর্তার আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে এ আদেশ দেন।
রিমান্ড শেষে আসামিদের আদালতে হাজির করেন মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ও উত্তরা পশ্চিম থানার উপপরিদর্শক ইকবাল হোসেন। শুনানিতে তিনি আসামিদের কারাগারে আটক রাখার আবেদন জানান। পুলিশের পক্ষ থেকে বলা হয়, রিমান্ডে জিজ্ঞাসাবাদের সময় আসামিরা ঘটনার বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য দিয়েছেন। সেসব তথ্য যাচাই এবং মামলার তদন্ত এগিয়ে নিতে তাদের কারাগারে রাখা প্রয়োজন।
এর আগে মঙ্গলবার ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট সেফাতুল্লাহর আদালত ১৪ আসামিকে তিন দিন এবং নারী আসামি ফারজানাকে এক দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছিলেন। মামলার তদন্ত কর্মকর্তা তখন প্রত্যেকের সাত দিনের রিমান্ড চেয়েছিলেন। শুনানি শেষে আদালত জামিনের আবেদনও নাকচ করে দেন।
মামলার আসামিরা হলেন—মো. ইয়াকুব হোসাইন রাজিব (২৬), আরাফাত মিয়া (২২), রিফাত হাওলাদার (১৯), হৃদয় হাসান (২১), ফাহিম (১৯), রাজিব হোসেন রানা (২৪), মো. ফিরোজ (২৬), মো. আরিফ (২৮), মো. ওমর ফারুক (২১), আব্দুল্লাহ আল আমান (১৯), মো. আব্দুল্লাহ আল নোমান (২১), মো. সোহানুর হোসেন শাহীন (২২), মো. হাসিব (১৯), মো. হাসিব মিয়া (২৩) এবং ফারজানা (২১)।
প্রসিকিউশন বিভাগের এসআই হেলাল উদ্দিন আদালতের আদেশের বিষয়টি নিশ্চিত করেন। আদালতে ১১ আসামির পক্ষে আইনজীবী মো. কামাল হোসাইন মেহরাব জামিন আবেদন করেন। শুনানি শেষে আদালত সেই আবেদনও নাকচ করে দেন।
পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, ২৮ সেপ্টেম্বর উত্তরার পশ্চিম থানার ৭ নম্বর সেক্টরের একটি বাসায় অভিযান চালিয়ে ওই ১৫ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়। মামলার অভিযোগে তাদের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রকে অস্থিতিশীল করার উদ্দেশ্যে রাষ্ট্রবিরোধী কর্মকাণ্ড ও নাশকতার প্রস্তুতির অভিযোগ আনা হয়েছে। একই ঘটনায় আরও কয়েকজন পালিয়ে যাওয়ার কথাও মামলার নথিতে উল্লেখ করা হয়েছে।
রিমান্ড আবেদনে মামলার ঘটনার বিস্তারিত তদন্ত, সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের শনাক্ত এবং পলাতক আসামিদের বিষয়ে তথ্য সংগ্রহের প্রয়োজনীয়তার কথা উল্লেখ করা হয়েছিল। পুলিশ আরও দাবি করেছে, জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের কাছ থেকে তদন্তের জন্য গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাওয়া গেছে। এখন সেই তথ্য যাচাই-বাছাই করে মামলার পরবর্তী কার্যক্রম এগিয়ে নেওয়া হবে।