নাটোরের লালপুরে ওহিদুল মোল্লা নামে এক ব্যক্তিকে হ্যাকিং ও মাদক ব্যবসার সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। পুলিশের দাবি, এলাকায় ‘হ্যাকিং গুরু’ হিসেবে পরিচিত ওহিদুলের কাছ থেকে ৬৮টি সিম উদ্ধার করা হয়েছে। হ্যাকিং কার্যক্রমে ব্যবহৃত এসব সিম তিনি সাতটি মুঠোফোনে অদলবদল করে ব্যবহার করতেন বলে জানিয়েছে পুলিশ।
ওহিদুল লালপুর উপজেলার বিলমাড়িয়া ইউনিয়নের মোহরকয়া গ্রামের প্রয়াত রব্বেল মোল্লার ছেলে। সোমবার দিবাগত রাতে অভিযান চালিয়ে তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়। তাঁর গ্রেপ্তারের পর স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে তাঁর জীবনযাপন ও দ্রুত সম্পদ গড়ে তোলার বিষয়টি নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে।
পরিবারের সদস্যদের ভাষ্য অনুযায়ী, ছোটবেলায় গ্রামের একটি মাদ্রাসায় পড়াশোনা করতেন ওহিদুল। হেফজ শেষ করার আগেই বাবার মৃত্যু হলে জীবিকার প্রয়োজনে রাজমিস্ত্রির সহকারী হিসেবে কাজ শুরু করেন। কিছুদিন পর সেই কাজও ছেড়ে রিকশা চালানো শুরু করেন। প্রায় পাঁচ বছর আগে রিকশা চালানো ছেড়ে হ্যাকিং কার্যক্রমে যুক্ত হন বলে জানিয়েছেন তাঁর চাচাতো ভাই সেন্টু মোল্লা।
সেন্টুর দাবি, রিকশা চালানোর সময় এলাকার কয়েকজন হ্যাকারের সঙ্গে ওহিদুলের পরিচয় ও সখ্য গড়ে ওঠে। পরে অল্প সময়ের মধ্যেই তিনি হ্যাকিংয়ে দক্ষ হয়ে ওঠেন। এরপর তাঁর আয় ও সম্পদ দ্রুত বাড়তে থাকে। মোহরকয়ায় বাবার বাড়ি থাকলেও বিলমাড়িয়া এলাকায় পদ্মা নদীর পাশে তিনি একটি পাকা বাড়ি নির্মাণ করেন। সেখানে মহিষ ও কবুতরের খামারও গড়ে তোলেন।
পুলিশ ও স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, গ্রেপ্তার এড়াতে বাড়ির নিরাপত্তায় বিশেষ ব্যবস্থা নিয়েছিলেন ওহিদুল। গ্রামের প্রধান সড়ক থেকে নিজের বাড়ি পর্যন্ত প্রায় ২০টি সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপন করেছিলেন। বাড়িটি ছিল উঁচু ইটের প্রাচীর দিয়ে ঘেরা এবং প্রবেশের জন্য ছিল একটি মাত্র ফটক। বাড়ির একটি কক্ষ কবুতরের ঘরের আড়ালে তৈরি করা হয়েছিল বলে জানা গেছে। সেখানে দামি আসবাব, শীতাতপনিয়ন্ত্রণ যন্ত্র ও সিসিটিভি মনিটর ছিল।
স্থানীয় কয়েকজন বাসিন্দার ভাষ্য, বাড়িতে সাধারণ মানুষের যাতায়াত খুব একটা না থাকলেও বিভিন্ন এলাকা থেকে তরুণদের মোটরসাইকেলে সেখানে আসতে দেখা যেত, অনেক সময় গভীর রাত পর্যন্ত। সিসিটিভি ক্যামেরা নিয়ে জানতে চাইলে ওহিদুল কবুতরচোর ঠেকানোর জন্য এগুলো লাগানো হয়েছে বলে প্রতিবেশীদের জানিয়েছিলেন।
পুলিশের দাবি, হ্যাকিং ও মাদক ব্যবসার মাধ্যমে অল্প সময়ের মধ্যে ওহিদুল দামি গাড়ি নিয়ে চলাফেরা করতেন। লালপুরে ভাড়ায় গাড়ি চালানো এক চালকের ভাষ্য, ওহিদুল ভাড়া করা গাড়িতে পাবনা ও রাজশাহীতে যেতেন এবং কখনো কখনো সারা রাত গাড়ি নিয়ে ঘুরতেন। খাবারের হোটেলে কর্মীদের অতিরিক্ত বকশিশ দেওয়ার কথাও জানান ওই চালক।
লালপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শফিকুল ইসলাম বলেন, ওহিদুল এলাকায় ‘হ্যাকিং গুরু’ হিসেবে পরিচিত। তাঁর কাছ থেকে হ্যাকিং কার্যক্রমে ব্যবহৃত ৬৮টি সিম উদ্ধার করা হয়েছে। পুলিশের ভাষ্য, তাঁর কাছ থেকে প্রশিক্ষণ নিয়ে আরও অনেকে এ ধরনের কার্যক্রমে জড়িয়েছেন। ওহিদুলকে গ্রেপ্তারের মাধ্যমে এ ধরনের কর্মকাণ্ডে জড়িতদের বিরুদ্ধে পুলিশের অভিযান অব্যাহত থাকার বার্তা দেওয়া হয়েছে।