
ইউক্রেনের সামরিক সরবরাহব্যবস্থা ও গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো লক্ষ্য করে বড় ধরনের ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালানোর দাবি করেছে রাশিয়া। মস্কোর ভাষ্য অনুযায়ী, হামলায় টেলিযোগাযোগ অবকাঠামো, সামরিক রসদ পরিবহনের রেলপথ, জ্বালানি স্থাপনা এবং ড্রোন তৈরির কারখানা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। হামলার প্রভাবে ইউক্রেনের কয়েকটি অঞ্চলের বিস্তীর্ণ এলাকায় বিদ্যুৎ সরবরাহও ব্যাহত হয়েছে।
রাশিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের বরাত দিয়ে দেশটির রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা তাস জানিয়েছে, হামলার অন্যতম লক্ষ্য ছিল ইউক্রেনের শীর্ষ মোবাইল অপারেটর কিয়েভস্টারের একটি ভবন। রুশ বাহিনীর দাবি, প্রতিষ্ঠানটি ইউক্রেনীয় সামরিক বাহিনীকে মোবাইল যোগাযোগ ও ইন্টারনেট সেবা দিয়ে আসছিল।
রুশ সামরিক বাহিনীর ভাষ্য অনুযায়ী, ‘ভারিয়াগ সেপারেট ব্রিগেড’-এর ড্রোন অপারেটররা কিয়েভস্টারের একটি স্থাপনায় হামলা চালান। একই অভিযানে কিয়েভে ইউক্রেনীয় সামরিক কমান্ডের ব্যবহৃত একটি জ্বালানি স্টেশনেও আঘাত হানা হয়েছে বলে দাবি করেছে মস্কো।
তবে এসব হামলায় স্থাপনাগুলোর ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ বা হতাহতের বিষয়ে প্রতিবেদনে বিস্তারিত তথ্য দেওয়া হয়নি। যুদ্ধের পরিস্থিতিতে দুই পক্ষের দেওয়া হামলা ও ক্ষয়ক্ষতির তথ্য স্বাধীনভাবে যাচাই করা অনেক সময় কঠিন হয়ে পড়ে।
রাশিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের দাবি, ইউক্রেনের সামরিক রসদ পরিবহনে ব্যবহৃত লোকোমোটিভ ও ট্রেন লক্ষ্য করে ‘গেরান-৪’ স্ট্রাইক ড্রোন ব্যবহার করা হয়েছে। নিপ্রোপেত্রোভস্ক, জাপোরিঝিয়া, পলতাভা, মিকোলাইভ ও ওডেসা অঞ্চলের কয়েকটি রেলপথেও হামলা চালানো হয়েছে বলে জানিয়েছে মস্কো।
ইউক্রেনের জন্য রেল যোগাযোগ সামরিক ও বেসামরিক—দুই ক্ষেত্রেই গুরুত্বপূর্ণ। দীর্ঘদিন ধরে চলমান যুদ্ধে সেনা, সামরিক সরঞ্জাম, জ্বালানি ও অন্যান্য রসদ পরিবহনে দেশটির রেল নেটওয়ার্ক গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। ফলে রেল অবকাঠামোয় হামলা সরবরাহ ব্যবস্থায় চাপ তৈরি করতে পারে।
রুশ বাহিনী আরও দাবি করেছে, খারকিভ ও সুমি অঞ্চলে ইউক্রেনীয় বাহিনীর অস্থায়ী ক্যাম্প এবং ড্রোন নিয়ন্ত্রণকেন্দ্র লক্ষ্য করে হামলা চালানো হয়েছে। এসব অভিযানে ৫০০ কেজি ওজনের FAB-500 গাইডেড বোমা এবং Kh-39 ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহারের কথা জানিয়েছে মস্কো।
এ ছাড়া গ্রিগোরোভকা এলাকায় ইউক্রেনের মনুষ্যবিহীন ড্রোন-নৌকা তৈরির একটি কারখানায় সরাসরি হামলা চালানো হয়েছে বলেও রুশ পক্ষ দাবি করেছে।
হামলার প্রভাব পড়েছে ইউক্রেনের জ্বালানি অবকাঠামোতেও। দেশটির জ্বালানি মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, নিপ্রোপেত্রোভস্ক, সুমি ও খারকিভ অঞ্চলের বড় একটি অংশ বিদ্যুৎহীন হয়ে পড়ে।
বিদ্যুৎ সরবরাহব্যবস্থার ওপর চাপ কমাতে ইউক্রেনের নাগরিকদের সন্ধ্যার সময়ে উচ্চক্ষমতাসম্পন্ন বৈদ্যুতিক যন্ত্রপাতি ব্যবহার না করার আহ্বান জানানো হয়েছে। একই সময়ে ইউক্রেন-নিয়ন্ত্রিত খেরসন শহরের প্রশাসন জানিয়েছে, সেখানে বিদ্যুৎ সরবরাহ পুরোপুরি বিচ্ছিন্ন হয়ে গেছে। বিদ্যুৎব্যবস্থা পুনরায় সচল করতে প্রকৌশলীরা কাজ করছেন বলে জানিয়েছে স্থানীয় প্রশাসন।
রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের শুরু থেকেই জ্বালানি, বিদ্যুৎ, রেল ও যোগাযোগ অবকাঠামো সংঘাতের গুরুত্বপূর্ণ অংশ হয়ে উঠেছে। সামরিক সরবরাহব্যবস্থাকে দুর্বল করার পাশাপাশি বিদ্যুৎ অবকাঠামোয় হামলা সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন জীবনেও সরাসরি প্রভাব ফেলে। সর্বশেষ হামলার পর ইউক্রেনের কয়েকটি অঞ্চলে বিদ্যুৎ সরবরাহ স্বাভাবিক করতে কর্তৃপক্ষকে একসঙ্গে সামরিক পরিস্থিতি ও অবকাঠামোগত ক্ষয়ক্ষতি মোকাবিলা করতে হচ্ছে।