‘মাদকের ব্যাপারে জিরো টলারেন্স’ নীতি বাস্তবায়নের অংশ হিসেবে খাগড়াছড়ির রামগড়ে প্রায় ৩ কোটি টাকা মূল্যের বিভিন্ন ধরনের মাদকদ্রব্য ধ্বংস করেছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)। বুধবার (৭ অক্টোবর) রামগড় পৌরসভার তৈচালাপাড়ায় বিজিবির ব্যাটালিয়ন সদর দপ্তরের বাস্কেটবল গ্রাউন্ডে এসব মাদক রোলারের চাপায় ধ্বংস করা হয়।
বিজিবি সূত্র জানায়, ২০২২ সালের ফেব্রুয়ারি থেকে ২০২৬ সালের আগস্ট পর্যন্ত বিভিন্ন সময়ে খাগড়াছড়ির সীমান্তবর্তী এলাকায় অভিযান চালিয়ে এসব মাদক জব্দ করা হয়। গুইমারা সেক্টরের অধীন যামিনীপাড়া ব্যাটালিয়ন (২৩ বিজিবি), খেদাছড়া ব্যাটালিয়ন (৪০ বিজিবি) এবং রামগড় ব্যাটালিয়ন (৪৩ বিজিবি) এসব অভিযানে মাদকগুলো জব্দ করে।
ধ্বংস করা মাদকের তালিকায় ছিল বিভিন্ন ব্র্যান্ডের ভারতীয় মদ, ফেনসিডিল, গাঁজা, ইয়াবা ও নেশাজাতীয় ওষুধ। এর পাশাপাশি বিপুল পরিমাণ বিদেশি সিগারেট এবং দেশীয় চোলাই মদও ধ্বংস করা হয়। দীর্ঘ সময় ধরে সীমান্ত এলাকায় পরিচালিত অভিযানে জব্দ করা এসব মাদক আইনগত প্রক্রিয়া শেষে ধ্বংস করা হয়েছে বলে জানিয়েছে বিজিবি।
মাদকদ্রব্য ধ্বংসের এ কার্যক্রমে উপস্থিত ছিলেন খাগড়াছড়ির জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মো. মাজেদ হোসাইন। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিজিবির চট্টগ্রাম রিজিয়ন কমান্ডার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল সোহেল আহমেদ।
বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন গুইমারা সেক্টর কমান্ডার কর্নেল মো. মিজানুর রহমান, রামগড় ব্যাটালিয়ন (৪৩ বিজিবি) অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মো. আহসান উল ইসলাম, খেদাছড়া ব্যাটালিয়ন (৪০ বিজিবি) অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মুহাঃ শাহীনুল ইসলাম এবং যামিনীপাড়া ব্যাটালিয়ন (২৩ বিজিবি) অধিনায়ক (ভারপ্রাপ্ত) মেজর মো. মঈনুল আলম।
এ ছাড়া অনুষ্ঠানে রামগড় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা কাজী শামীম এবং খাগড়াছড়ি মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক আবদুল হামিদ উপস্থিত ছিলেন।
বিজিবি জানিয়েছে, সীমান্ত এলাকায় মাদক চোরাচালান ঠেকাতে নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে। এসব অভিযানে জব্দ করা মাদক পরবর্তী আইনগত প্রক্রিয়া অনুসরণ করে ধ্বংস করা হয়। রামগড়ে প্রায় ৩ কোটি টাকা মূল্যের মাদক ধ্বংসের ঘটনাটি সীমান্ত এলাকায় মাদকবিরোধী অভিযানের ধারাবাহিকতারই অংশ।