

কুষ্টিয়ার দৌলতপুর উপজেলার ফিলিপনগরে দাফনের পাঁচ মাস পর ‘কথিত পীর’ মো. আব্দুর রহমান ওরফে শ্রী শামীম জাহাঙ্গীর কালান্দার বাবার মরদেহ কবর থেকে তুলে তার দরবারে পুনঃপ্রতিস্থাপনের ঘটনা ঘটেছে।শুক্রবার (৪ সেপ্টেম্বর) দিবাগত গভীর রাতে কোনো এক সময় ভক্তরা কবর থেকে মরদেহটি উত্তোলন করে দরবারে নিয়ে গিয়ে পুনরায় প্রতিস্থাপন করেন বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে।
[caption id="attachment_1154" align="aligncenter" width="225"]
রাতের আঁধারে কথিত পীর শামীমের লাশ উত্তোলন, ফিলিপনগরে নতুন করে চাঞ্চল্য[/caption]
স্থানীয়দের ভাষ্য,শামীমের মৃত্যুর পর থেকেই তার ভক্তদের একটি অংশ মরদেহ কবর থেকে তুলে দরবারে পুনঃপ্রতিস্থাপনের চেষ্টা চালিয়ে আসছিলেন।এ কারণে দাফনের পর বেশ কিছুদিন কবরস্থানে পুলিশি পাহারাও ছিল। তবে শুক্রবার গভীর রাতে সুযোগ বুঝে মরদেহটি কবর থেকে তুলে দরবারে নিয়ে যাওয়া হয় বলে জানা গেছে।বিষয়টি জানাজানি হলে ফিলিপনগর এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়। পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।শামীমের ভাই মো. ফজলুর রহমান বলেন, “রাতের আঁধারে কারা কীভাবে কবরস্থান থেকে মরদেহ উত্তোলন করে দরবারে নিয়ে গেছে, সে বিষয়ে আমরা কিছুই জানি না।সকালে ঘুম থেকে উঠে বিষয়টি দেখতে পেয়ে পুলিশ প্রশাসনকে খবর দিই।”দৌলতপুর থানার ওসি খালেদুর রহমান বলেন, শামীম জাহাঙ্গীর কালান্দার বাবার মরদেহ কবরস্থান থেকে উত্তোলন করে দরবারে প্রতিস্থাপনের খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গেছে। বিষয়টি নিয়ে জেলা প্রশাসনের সঙ্গে কথা বলে পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।
[caption id="attachment_1155" align="aligncenter" width="225"]
রাতের আঁধারে কথিত পীর শামীমের লাশ উত্তোলন, ফিলিপনগরে নতুন করে চাঞ্চল্য[/caption]
তিনি জানান, বর্তমানে পরিস্থিতি পুলিশের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে এবং অপ্রীতিকর ঘটনার আশঙ্কা নেই।দৌলতপুর উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) প্রদীপ কুমার দাস জানান, মরদেহ কবরস্থান থেকে উত্তোলন করে দরবারে পুনঃপ্রতিস্থাপনের খবর পেয়ে তিনি ঘটনাস্থলে যান। বিষয়টি নিয়ে জেলা প্রশাসকের সঙ্গে কথা হয়েছে। পরবর্তী সিদ্ধান্ত জানানো হবে।
পূর্বাপর ঘটনা: গত ১১ এপ্রিল দৌলতপুর উপজেলার ফিলিপনগর ইউনিয়নে শামীম জাহাঙ্গীর ওরফে আব্দুর রহমানের দরবারে পবিত্র কোরআন অবমাননার অভিযোগকে কেন্দ্র করে বিক্ষুব্ধ জনতা ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ করে। এ সময় তাকে পিটিয়ে হত্যা করা হয় বলে অভিযোগ রয়েছে।এ ঘটনায় ১৩ এপ্রিল নিহতের বড় ভাই মো. ফজলুর রহমান বাদী হয়ে দৌলতপুর থানায় হত্যা মামলা করেন। মামলায় মুহাম্মদ খাজা আহমেদকে প্রধান আসামি করে তিনজনের নাম উল্লেখ করা হয় এবং অজ্ঞাতনামা আরও ১৮০ থেকে ২০০ জনকে আসামি করা হয়েছে।