গাজীপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের (জিএমপি) নতুন কমিশনার হিসেবে দায়িত্ব পেয়েছেন পুলিশের উপমহাপরিদর্শক (ডিআইজি) মো. আশিক সাঈদ। রাজশাহী ক্যাডেট কলেজের সাবেক এই শিক্ষার্থী এর আগে রাজশাহী রেঞ্জের ডিআইজি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। গত ৩ নভেম্বর ২০২৬, মঙ্গলবার স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জননিরাপত্তা বিভাগ থেকে জারি করা এক প্রজ্ঞাপনে তাঁকে গাজীপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের কমিশনার পদে পদায়ন করা হয়।
নতুন এই দায়িত্বের মধ্য দিয়ে দেশের গুরুত্বপূর্ণ শিল্পাঞ্চল গাজীপুর মহানগরের পুলিশ প্রশাসনের নেতৃত্বে আসছেন অভিজ্ঞ এই কর্মকর্তা। তিনি সদ্য সাবেক কমিশনার ইসরাইল হাওলাদারের স্থলাভিষিক্ত হচ্ছেন। একই প্রজ্ঞাপনে পুলিশের আরও কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ পদে রদবদল আনা হয়েছে।
রাজশাহী রেঞ্জ থেকে গাজীপুরে
মো. আশিক সাঈদ ২০২৬ সালের ১১ জুলাই রাজশাহী রেঞ্জের ডিআইজি হিসেবে আনুষ্ঠানিকভাবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন। দায়িত্ব নেওয়ার পর তিনি আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখা, মাদক, কিশোর গ্যাং ও অনলাইন জুয়ার মতো অপরাধ নিয়ন্ত্রণে কাজ করার কথা জানিয়েছিলেন। অপরাধ দমন ও মাদক প্রতিরোধে সংশ্লিষ্ট সবার সমন্বিত উদ্যোগের ওপরও গুরুত্ব দিয়েছিলেন তিনি।
রাজশাহী রেঞ্জে দায়িত্ব পালনের আগে তিনি বরিশাল মেট্রোপলিটন পুলিশের (বিএমপি) কমিশনার হিসেবে কর্মরত ছিলেন। এ ছাড়া পুলিশ সদর দপ্তরসহ বাংলাদেশ পুলিশের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ ইউনিটে দায়িত্ব পালনের অভিজ্ঞতা রয়েছে তাঁর। এসব দায়িত্ব পালনের মধ্য দিয়ে মাঠপর্যায়ের পুলিশিং এবং প্রশাসনিক ব্যবস্থাপনা—দুই ক্ষেত্রেই কাজের অভিজ্ঞতা অর্জন করেছেন এই কর্মকর্তা।
২০তম বিসিএস পুলিশ ক্যাডারের কর্মকর্তা
মো. আশিক সাঈদ ২০তম বিসিএস (পুলিশ) ব্যাচের কর্মকর্তা। তাঁর পেশাগত জীবন শুরু হয় ২০০১ সালের ৩১ মে বাংলাদেশ পুলিশে যোগদানের মধ্য দিয়ে। শিক্ষাজীবনে তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ভূতত্ত্ব (জিওলজি) বিষয়ে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন। কর্মজীবনে পুলিশের বিভিন্ন ইউনিটে দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি তিনি রাষ্ট্রপতির পুলিশ পদক (পিপিএম-সেবা) অর্জন করেছেন বলে বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
রাজশাহী ক্যাডেট কলেজের সাবেক শিক্ষার্থী হিসেবে তাঁর নতুন দায়িত্ব পাওয়ার খবরটি সাবেক শিক্ষার্থী ও সংশ্লিষ্ট মহলে আগ্রহ তৈরি করেছে।
গাজীপুরে নতুন কমিশনারের সামনে যেসব চ্যালেঞ্জ
গাজীপুর দেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ শিল্পাঞ্চল। এখানে বিপুলসংখ্যক শিল্পকারখানা, তৈরি পোশাক কারখানা, শ্রমজীবী মানুষের বসতি এবং দ্রুত সম্প্রসারিত নগর এলাকা রয়েছে। ফলে মহানগরের আইনশৃঙ্খলা রক্ষা ও নাগরিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে জিএমপির দায়িত্ব বেশ বিস্তৃত।
বিশেষ করে শিল্পকারখানার নিরাপত্তা, শ্রমিক অসন্তোষ ও শ্রমিক-প্রতিষ্ঠানসংক্রান্ত বিরোধের সময় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ, মাদক ও চাঁদাবাজি প্রতিরোধ, ছিনতাই-চুরি এবং অন্যান্য অপরাধ দমন নতুন কমিশনারের জন্য গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব হয়ে উঠবে। পাশাপাশি যানজট নিয়ন্ত্রণ, জনসাধারণের অভিযোগের দ্রুত প্রতিকার এবং থানাভিত্তিক পুলিশি সেবার মান উন্নয়নেও তাঁকে কাজ করতে হবে।
নগরবাসীর প্রত্যাশা, নতুন কমিশনারের নেতৃত্বে গাজীপুর মহানগরে আইনশৃঙ্খলা রক্ষা ও অপরাধ নিয়ন্ত্রণে কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া হবে। পুলিশের সেবা যেন সাধারণ মানুষের কাছে আরও সহজলভ্য হয় এবং নাগরিকদের সঙ্গে পুলিশের যোগাযোগ ও আস্থার সম্পর্ক জোরদার হয়, সেদিকেও গুরুত্ব দেওয়া হবে বলে আশা করা হচ্ছে।