
বুধবার (২৮ অক্টোবর) ভোর সাড়ে ৬টার দিকে বৈরাগীগঞ্জ এলাকায় শাহ আমানত পেট্রোল পাম্পের সামনে এ দুর্ঘটনা ঘটে। নিহত ব্যক্তিদের পরিচয় তাৎক্ষণিকভাবে জানা যায়নি। তাঁদের পরিচয় শনাক্তের চেষ্টা করছে পুলিশ।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ফজরের নামাজের পর বৈরাগীগঞ্জ এলাকায় মাটিভর্তি একটি ডাম্প ট্রাক দাঁড়িয়ে ছিল। ট্রাকটি শাহ আমানত পেট্রোল পাম্পের বিপরীত পাশে মাজার মসজিদের সামনে অবস্থান করছিল। এ সময় ঢাকা থেকে কুড়িগ্রামের ভূরুঙ্গামারীগামী খান এন্টারপ্রাইজের একটি যাত্রীবাহী বাস দ্রুতগতিতে এসে ট্রাকটির পেছনে সজোরে ধাক্কা দেয়।
ধাক্কার পর বাসটি সড়কের আইল্যান্ডে গিয়ে আঘাত করে। এতে বাসটির সামনের অংশ দুমড়েমুচড়ে যায়। আকস্মিক এ সংঘর্ষে বাসের কয়েকজন যাত্রী গুরুতর আহত হন। দুর্ঘটনার পর মহাসড়কের ওই অংশে স্থানীয় লোকজনের মধ্যে উদ্বেগ ছড়িয়ে পড়ে। আহতদের উদ্ধারে এগিয়ে আসেন আশপাশের লোকজন।
পরে খবর পেয়ে হাইওয়ে পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা ঘটনাস্থলে পৌঁছান। স্থানীয় বাসিন্দাদের সহায়তায় বাসের ভেতর থেকে আহত যাত্রীদের উদ্ধার করা হয়। তাঁদের দ্রুত রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় আরও দুজনের মৃত্যু হলে এ দুর্ঘটনায় মোট নিহতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়ায় তিনজনে।
পীরগঞ্জের বড়দরগাহ হাইওয়ে পুলিশের ইনচার্জ মোয়াজ্জেম হোসেন দুর্ঘটনা ও প্রাণহানির বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, ভোরে মাটিভর্তি ডাম্প ট্রাকটি সড়কের পাশে দাঁড়িয়ে ছিল। এ সময় ঢাকা থেকে ভূরুঙ্গামারীগামী খান এন্টারপ্রাইজের বাসটি এসে ট্রাকের পেছনে ধাক্কা দেয়। পরে বাসটি আইল্যান্ডে আঘাত করে দুমড়েমুচড়ে যায়।
পুলিশের এ কর্মকর্তা আরও জানান, দুর্ঘটনায় আহত ব্যক্তিদের উদ্ধার করে হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে। নিহতদের নাম-পরিচয় এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি। তাঁদের পরিচয় শনাক্তের কাজ চলছে।
দুর্ঘটনার কারণ খতিয়ে দেখা জরুরি
ঢাকা-রংপুর মহাসড়ক উত্তরাঞ্চলের সঙ্গে রাজধানীর যোগাযোগের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সড়ক। এ পথে প্রতিদিন যাত্রীবাহী বাসসহ বিভিন্ন ধরনের যানবাহন চলাচল করে। ভোরের দিকে দৃষ্টিসীমা, যানবাহনের গতি এবং সড়কে দাঁড়িয়ে থাকা ভারী যানবাহনের অবস্থান দুর্ঘটনার ঝুঁকিতে প্রভাব ফেলতে পারে। তবে বৈরাগীগঞ্জের এ দুর্ঘটনার সুনির্দিষ্ট কারণ তদন্তের মাধ্যমে নিশ্চিত হওয়া প্রয়োজন।
মহাসড়কে ভারী যানবাহন দাঁড় করিয়ে রাখার ক্ষেত্রে নিরাপদ স্থান নির্বাচন, পর্যাপ্ত সতর্কসংকেত ব্যবহার এবং চলাচলকারী যানবাহনের গতি নিয়ন্ত্রণ গুরুত্বপূর্ণ। একই সঙ্গে চালকদের সামনে থাকা যানবাহনের দূরত্ব বজায় রাখা ও সতর্কতার সঙ্গে গাড়ি চালানো প্রাণহানি কমাতে সহায়ক হতে পারে।
বৈরাগীগঞ্জের এ দুর্ঘটনায় তিনজনের মৃত্যু এবং অন্তত ১৮ জন আহত হওয়ার ঘটনা মহাসড়কে নিরাপদে যান চলাচল নিশ্চিত করার গুরুত্ব আবারও সামনে এনেছে। নিহত ব্যক্তিদের পরিচয় শনাক্তের পাশাপাশি দুর্ঘটনার প্রকৃত কারণ নির্ধারণে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের পদক্ষেপের অপেক্ষায় রয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।