
প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত দুই দিনের কর্মসূচির প্রথম দিন মঙ্গলবার সকালে নয়াপল্টনে যুবদলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়সহ সংগঠনটির বিভিন্ন কার্যালয়ে জাতীয় ও দলীয় পতাকা উত্তোলনের মধ্য দিয়ে আনুষ্ঠানিকতা শুরু হয়। পরে শেরেবাংলা নগরের জিয়া উদ্যানে সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার কবরে পুষ্পস্তবক অর্পণ করে শ্রদ্ধা জানান যুবদলের নেতাকর্মীরা।
এ সময় বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব ও প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা রুহুল কবির রিজভীসহ দলের কেন্দ্রীয় নেতারা উপস্থিত ছিলেন। শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন রিজভী। তিনি বলেন, রাজনৈতিক দলগুলো কৌশলগত কারণে বিভিন্ন কর্মসূচি নিতে পারে। তবে যেসব স্লোগান বা কর্মকাণ্ড পতিত ফ্যাসিবাদীদের উৎসাহিত করে, সেগুলো এড়িয়ে চলা উচিত।
রক্তদান ও বিনামূল্যে চিকিৎসাসেবা
প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে জনকল্যাণমূলক কার্যক্রমের অংশ হিসেবে মঙ্গলবার দুপুরে নয়াপল্টনে যুবদলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের নিচতলায় স্বেচ্ছায় রক্তদান কর্মসূচি ও বিনামূল্যে চিকিৎসাসেবা ক্যাম্পের উদ্বোধন করেন রুহুল কবির রিজভী।
এ সময় তিনি প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমানের বিভিন্ন সামাজিক ও উন্নয়নমূলক পরিকল্পনার কথা উল্লেখ করেন। রিজভী বলেন, তরুণদের স্বাধীনভাবে দক্ষ করে গড়ে তোলা এবং দেশের উৎপাদন ও উন্নয়ন কর্মকাণ্ডের সঙ্গে সম্পৃক্ত করাই বিএনপির মূল লক্ষ্য।
প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে নেওয়া বিভিন্ন কর্মসূচির মধ্যে রক্তদান ও বিনামূল্যে স্বাস্থ্যসেবা ছিল উল্লেখযোগ্য। পাশাপাশি বিভিন্ন পর্যায়ে বৃক্ষরোপণ, পরিচ্ছন্নতা অভিযান, মাছের পোনা অবমুক্তকরণ এবং দুস্থ মানুষের মধ্যে খাদ্যসামগ্রী বিতরণের আয়োজন করা হয়। এসব কর্মসূচির মাধ্যমে সামাজিক কর্মকাণ্ডে অংশগ্রহণের পাশাপাশি সাংগঠনিক কার্যক্রমও পরিচালনা করেন নেতাকর্মীরা।
সংগঠনটির ঘোষিত কর্মসূচি অনুযায়ী, আজ বুধবার দেশের সব উপজেলা, থানা, পৌরসভা ও বিভিন্ন ইউনিট পর্যায়ে প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর কর্মসূচি পালনের কথা রয়েছে। এর মধ্য দিয়ে কেন্দ্রীয় পর্যায়ের আয়োজনের ধারাবাহিকতা তৃণমূল পর্যায়েও ছড়িয়ে দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
কর্মসূচি ঘিরে রাজধানীতে তীব্র যানজট
যুবদলের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে মঙ্গলবার সকাল থেকেই রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় যানজট দেখা দেয়। দুপুরের দিকে পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে ওঠে। বিশেষ করে শেরেবাংলা নগরের জিয়া উদ্যানে শ্রদ্ধা নিবেদনের কর্মসূচিতে অংশ নিতে সকাল থেকেই বিভিন্ন এলাকা থেকে খণ্ড খণ্ড মিছিল নিয়ে নেতাকর্মীরা সেখানে জড়ো হতে থাকেন।
ঢাকার আশপাশের এলাকা থেকেও পিকআপ ভ্যান, মিনিবাস ও মোটরসাইকেলে করে অনেকে কর্মসূচিতে যোগ দিতে আসেন। এসব যানবাহনের একটি বড় অংশ মানিক মিয়া অ্যাভিনিউর দুই পাশের লেন ঘেঁষে সারিবদ্ধভাবে পার্ক করে রাখা হয়। এতে ওই এলাকার সড়কে যান চলাচল ব্যাহত হয়। জিয়া উদ্যানে শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে অনেক নেতাকর্মী নয়াপল্টনে যুবদলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আয়োজিত পরবর্তী কর্মসূচিতেও অংশ নেন।
নেতাকর্মীদের ব্যাপক উপস্থিতি এবং যানবাহনের চাপের প্রভাব পড়ে রাজধানীর গুরুত্বপূর্ণ সড়কগুলোতে। মিরপুর রোড, আসাদ অ্যাভিনিউ, বেগম রোকেয়া সরণি, বিজয় সরণি, মানিক মিয়া অ্যাভিনিউ, কাজী নজরুল ইসলাম অ্যাভিনিউ, শাহবাগ, ফার্মগেট, নয়াপল্টন, কাকরাইল, বিজয়নগর ও পুরানা পল্টন এলাকায় যান চলাচলে বিঘ্ন ঘটে।
এ ছাড়া সচিবালয়, জাতীয় প্রেস ক্লাব, মহাখালী, বনানী ও গুলশানসহ বিভিন্ন এলাকায় যানজটের প্রভাব দেখা যায়। গুরুত্বপূর্ণ সড়কগুলোতে যানবাহনের ধীরগতির কারণে নির্ধারিত সময়ে গন্তব্যে পৌঁছাতে সমস্যায় পড়েন যাত্রীরা। গণপরিবহনে চলাচলকারী মানুষ এবং ব্যক্তিগত গাড়ির যাত্রীরাও দীর্ঘ সময় সড়কে আটকে থাকেন।
বিকেলের দিকে কয়েকটি সড়কে যান চলাচল কিছুটা স্বাভাবিক হতে শুরু করলেও পরিস্থিতি পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে আসেনি। সন্ধ্যা পর্যন্ত বিভিন্ন এলাকায় যানজট অব্যাহত থাকায় অফিসফেরত যাত্রী ও পথচারীদের দুর্ভোগ পোহাতে হয়।
ঢাকা মহানগর পুলিশের ট্রাফিক বিভাগের সহকারী কমিশনার ওমর আলী বলেন, যুবদলের কর্মসূচিতে বিপুলসংখ্যক নেতাকর্মীর উপস্থিতির কারণে রাজধানীতে যানজটের সৃষ্টি হয়েছিল।
রাজধানীর ব্যস্ত সড়কগুলোতে রাজনৈতিক কর্মসূচি, মিছিল ও অংশগ্রহণকারীদের যানবাহনের চাপ একসঙ্গে পড়লে স্বাভাবিক চলাচল ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা থাকে। মঙ্গলবারের কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে সৃষ্ট যানজটেও নগরবাসীকে সেই পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে হয়েছে। প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর আয়োজনে রাজনৈতিক ও সামাজিক কর্মসূচি চলার পাশাপাশি সাধারণ মানুষের চলাচলে বিঘ্ন সৃষ্টি হওয়ায় দিনজুড়ে রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় ভোগান্তি ছিল চোখে পড়ার মতো।