চিত্রনায়ক ও নিরাপদ সড়ক চাই (নিসচা) আন্দোলনের চেয়ারম্যান ইলিয়াস কাঞ্চনের মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়াকে কেন্দ্র করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিভ্রান্তি তৈরি হয়েছে। তবে তাঁর পরিবারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, মৃত্যুর খবরটি সম্পূর্ণ মিথ্যা। বর্তমানে লন্ডনে চিকিৎসাধীন ইলিয়াস কাঞ্চন জীবিত ও ভালো আছেন।
পরিবারের তথ্য অনুযায়ী, চিকিৎসার অংশ হিসেবে বুধবার লন্ডন সময় সন্ধ্যায় তাঁর সিটি স্ক্যান ও এমআরআই করার কথা রয়েছে। অর্থাৎ, তাঁর চিকিৎসা ও শারীরিক অবস্থা পর্যবেক্ষণের প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে। এ অবস্থায় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তাঁর মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়ায় স্বজন, সহকর্মী ও শুভানুধ্যায়ীদের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হয়।
ইলিয়াস কাঞ্চনের মৃত্যুর গুজব ছড়িয়ে পড়ার ঘটনায় তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছে তাঁর প্রতিষ্ঠিত সংগঠন নিরাপদ সড়ক চাই। সংগঠনটির কেন্দ্রীয় নেতাদের পাশাপাশি দেশের প্রায় ১২০টি শাখার নেতা-কর্মীরাও বিষয়টি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। একই সঙ্গে গুজবটির উৎস শনাক্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে প্রশাসনের প্রতি আহ্বান জানানো হয়েছে।
নিসচার মহাসচিব লিটন এরশাদ বলেন, দ্রুত সংবাদ প্রকাশের প্রতিযোগিতা কখনোই সত্য ও দায়িত্বশীল সাংবাদিকতার বিকল্প হতে পারে না। কোনো তথ্য প্রকাশের আগে সেটি সত্য কি না, তা নিশ্চিত করা জরুরি। বিশেষ করে মৃত্যু, দুর্ঘটনা কিংবা গুরুতর অসুস্থতার মতো সংবেদনশীল বিষয়ে যাচাই-বাছাই ছাড়া সংবাদ প্রকাশ বা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তা ছড়িয়ে দেওয়া বড় ধরনের সামাজিক ও মানসিক ক্ষতির কারণ হতে পারে।
নিসচার নেতারা মনে করেন, কারও মৃত্যুর মতো স্পর্শকাতর খবর প্রকাশের আগে পরিবারের সদস্য, নিকটজন কিংবা নির্ভরযোগ্য সূত্রের কাছ থেকে তথ্য যাচাই করা প্রয়োজন। একজন জীবিত ব্যক্তিকে মৃত ঘোষণা করে গুজব ছড়িয়ে পড়লে তাঁর পরিবার ও স্বজনদের মধ্যে আতঙ্ক সৃষ্টি হওয়ার পাশাপাশি সহকর্মী ও শুভানুধ্যায়ীদের মধ্যেও মানসিক চাপ তৈরি হয়। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে যাচাই না করে এমন তথ্য শেয়ার করলে গুজব আরও দ্রুত ছড়িয়ে পড়তে পারে।
সংগঠনটি জানিয়েছে, ইলিয়াস কাঞ্চনের মৃত্যুর গুজব প্রথম কোথা থেকে ছড়িয়েছে, তা শনাক্ত করে তদন্ত করা প্রয়োজন। তদন্তে যদি ইচ্ছাকৃতভাবে মিথ্যা তথ্য ছড়ানোর প্রমাণ পাওয়া যায়, তাহলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ারও দাবি জানিয়েছে নিসচা।
একই সঙ্গে ইলিয়াস কাঞ্চনের পরিবার, নিসচার নেতারা এবং তাঁর শুভানুধ্যায়ীদের পক্ষ থেকে সবাইকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচারিত তথ্য যাচাই ছাড়া বিশ্বাস বা শেয়ার না করার আহ্বান জানানো হয়েছে। তাঁর চিকিৎসার সর্বশেষ অবস্থা সম্পর্কে পরিবারের পক্ষ থেকে পাওয়া নির্ভরযোগ্য তথ্যকেই গুরুত্ব দেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
বাংলাদেশের চলচ্চিত্র অঙ্গনে দীর্ঘদিনের পরিচিত মুখ ইলিয়াস কাঞ্চন। নিরাপদ সড়ক নিয়ে জনসচেতনতা তৈরিতেও তিনি দীর্ঘ সময় ধরে সক্রিয়। তাঁর অসুস্থতার খবরের সঙ্গে মৃত্যুর মতো স্পর্শকাতর গুজব যুক্ত হওয়ায় বিষয়টি নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারকারীদের মধ্যে নতুন করে আলোচনা তৈরি হয়েছে। তবে পরিবারের বক্তব্য অনুযায়ী, তাঁর মৃত্যুর খবরের কোনো সত্যতা নেই এবং লন্ডনে তাঁর চিকিৎসা চলছে।