কিশোরগঞ্জের মিঠামইনে বিয়ের অনুষ্ঠান শেষে নববধূকে নিয়ে বাড়ি ফেরার পথে বরযাত্রীদের ওপর হামলার ঘটনা ঘটেছে। অটোরিকশাচালক ও তাঁদের সহযোগীদের বিরুদ্ধে হামলা, মারধর এবং টাকা ও স্বর্ণালংকার লুটের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় এক পুলিশ সদস্যসহ অন্তত ১৫ জন আহত হয়েছেন। আহতদের মধ্যে উভয় পক্ষের লোকজন রয়েছেন বলে জানা গেছে।
শনিবার (তারিখ উল্লেখ নেই) সন্ধ্যার পর উপজেলার কাটখাল বাজারসংলগ্ন গরুর হাট এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। আহত পুলিশ সদস্যের নাম কাওসার মিয়া। তিনি কাটখাল পুলিশ ফাঁড়িতে কর্মরত।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, মিঠামইন উপজেলার কেওয়ারজোড় ইউনিয়নের রানীগঞ্জ গ্রামের স্বপন মিয়ার সঙ্গে একই উপজেলার বৈরাটি ইউনিয়নের মাইজচর গ্রামের জোনাকি আক্তারের বিয়ে হয় গত বৃহস্পতিবার। বিয়ের আনুষ্ঠানিকতা শেষে শনিবার দুপুরে নবদম্পতিকে নিয়ে বৌভাতের আয়োজন করা হয়। অনুষ্ঠান শেষ হলে কনের পরিবারের সদস্যরা বর-কনেকে সঙ্গে নিয়ে অটোরিকশায় করে বাড়ির উদ্দেশে রওনা হন।
পথে সন্ধ্যার পর তাঁদের বহনকারী অটোরিকশাটি কাটখাল বাজারের গরুর হাট এলাকায় পৌঁছালে পেছন থেকে ছরকাটখাল এলাকার অটোরিকশাচালক দয়াল মিয়া কনের পরিবারের এক সদস্যকে ধাক্কা দেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। এ ঘটনার প্রতিবাদ জানালে দয়াল মিয়া ও তাঁর সহযোগী কয়েকজন অটোরিকশাচালক বরযাত্রীদের সঙ্গে বাগ্বিতণ্ডায় জড়িয়ে পড়েন। একপর্যায়ে তা সংঘর্ষে রূপ নেয়। এ সময় কনের পরিবারের সদস্যদের ওপর হামলা চালিয়ে মারধর করা হয় বলে অভিযোগ করেছেন স্বজনেরা।
হামলায় কনের পরিবারের অন্তত ১৫ জন আহত হন। খবর পেয়ে কাটখাল পুলিশ ফাঁড়ির সদস্যরা ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করেন। তবে অভিযোগ রয়েছে, এ সময় হামলাকারীরা পুলিশের ওপরও চড়াও হন। তাঁদের হামলায় কাওসার মিয়া নামে এক পুলিশ সদস্য আহত হন। পরে আহত ব্যক্তিদের উদ্ধার করে মিঠামইন উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়।
কনের স্বজন মোহাম্মদ বাচ্চু মিয়া অভিযোগ করেন, কাটখাল অটোরিকশা স্ট্যান্ডের সুপারভাইজার দয়াল মিয়ার নেতৃত্বে তাঁদের ওপর হামলা চালানো হয়েছে। শুধু মারধরই নয়, এ সময় তাঁদের সঙ্গে থাকা টাকা ও স্বর্ণালংকারও লুট করা হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি। ঘটনার পর আহত স্বজনদের হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
তবে হামলার অভিযোগ অস্বীকার করেছেন দয়াল মিয়ার স্ত্রী রুপনাহার। তাঁর দাবি, অটোরিকশার হর্ন বাজিয়ে সাইড চাওয়াকে কেন্দ্র করে মাইজচর গ্রামের লোকজন ক্ষিপ্ত হয়ে তাঁর স্বামীর ওপর হামলা চালান। ওই ঘটনায় দয়াল মিয়াও আহত হয়েছেন এবং তাঁকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
এ বিষয়ে কাটখাল পুলিশ ফাঁড়ির সহকারী উপপরিদর্শক (এএসআই) আব্দুল গাফফার জানান, দুই পক্ষের মধ্যে মারামারির খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে যায়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করার সময় দয়াল মিয়া ও তাঁর লোকজন পুলিশের ওপর হামলা চালান। এতে ফাঁড়ির এক পুলিশ সদস্য আহত হন। বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের জানানো হয়েছে।
পরে রাতে মিঠামইন থানা থেকে অতিরিক্ত পুলিশ ঘটনাস্থলে পাঠানো হয়। তবে এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত কোনো পক্ষের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে কি না, কিংবা কাউকে আটক করা হয়েছে কি না, সে বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য পাওয়া যায়নি।
বিয়ের মতো আনন্দঘন একটি আয়োজন শেষে নবদম্পতিকে নিয়ে ফেরার পথে এমন সহিংসতার ঘটনায় স্থানীয়দের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। সামান্য সড়কবিরোধ বা ভুল বোঝাবুঝি থেকে সংঘর্ষের সূত্রপাত হয়ে থাকলেও হামলা, লুটপাট এবং পুলিশের ওপর আক্রমণের অভিযোগগুলো গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা প্রয়োজন। প্রকৃত ঘটনা উদ্ঘাটন এবং জড়িত ব্যক্তিদের আইনের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।