
ইরানের ভূখণ্ডে যুক্তরাষ্ট্রের চালানো ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় অন্তত ১১ জন নিহত হয়েছেন। দেশটির রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে। বুধবার (২ সেপ্টেম্বর) দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলীয় খুজেস্তান প্রদেশে যুক্তরাষ্ট্রের সর্বশেষ হামলার পর নতুন করে প্রাণহানির তথ্য সামনে আসে।
খুজেস্তান প্রদেশের নিরাপত্তা ও আইন প্রয়োগকারী বিষয়ক উপ-গভর্নর জানিয়েছেন, রাতের বেলায় প্রদেশটির তিনটি স্থানে যুক্তরাষ্ট্রের ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালানো হয়। এসব হামলায় সাতজন নিহত এবং আরও আটজন আহত হয়েছেন। ইরানের সরকারি বার্তা সংস্থা ইরনা এ তথ্য প্রকাশ করেছে।
এর আগে দক্ষিণাঞ্চলীয় সিরিক কাউন্টিতে একটি বিয়ের অনুষ্ঠানে হামলার ঘটনায় আরও চারজন নিহত হওয়ার খবর পাওয়া যায়। ইরানের রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটির দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ওই হামলায় নিহতদের মধ্যে একটি শিশুও রয়েছে। হামলায় আহত হয়েছেন ৫০ জনের বেশি মানুষ।
দুটি হামলার তথ্য একত্র করলে ইরানে যুক্তরাষ্ট্রের সাম্প্রতিক হামলায় মোট নিহতের সংখ্যা দাঁড়ায় ১১ জন। আহতের সংখ্যা অন্তত ৫৮। তবে বিভিন্ন হামলার পর হতাহতদের বিষয়ে স্থানীয় কর্তৃপক্ষ ও মানবিক সহায়তা সংস্থাগুলোর তথ্য আলাদাভাবে প্রকাশিত হওয়ায় পরিস্থিতির পূর্ণ চিত্র পরে আরও স্পষ্ট হতে পারে।
খুজেস্তান ইরানের একটি গুরুত্বপূর্ণ দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলীয় প্রদেশ। দেশটির জ্বালানি অবকাঠামো ও শিল্পকারখানার বড় একটি অংশ এ অঞ্চলে অবস্থিত। অন্যদিকে সিরিক কাউন্টি দক্ষিণাঞ্চলে অবস্থিত এবং উপকূলীয় এলাকার সঙ্গে যুক্ত। ফলে এসব এলাকায় সামরিক হামলার ঘটনা স্থানীয় মানুষের মধ্যে উদ্বেগ বাড়িয়েছে।
বিয়ের অনুষ্ঠানে হামলার ঘটনায় শিশু হতাহত হওয়ার তথ্য বিশেষভাবে উদ্বেগ তৈরি করেছে। রেড ক্রিসেন্টের মতো মানবিক সংস্থাগুলো সাধারণত আহতদের উদ্ধার ও চিকিৎসা সহায়তায় কাজ করে থাকে। হামলার পর আহতদের সংখ্যা বেশি হওয়ায় স্থানীয় স্বাস্থ্যসেবা ব্যবস্থার ওপরও চাপ তৈরি হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
তবে এসব হামলার সুনির্দিষ্ট লক্ষ্য, হামলায় ব্যবহৃত ক্ষেপণাস্ত্রের ধরন এবং যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে হতাহতের বিষয়ে বিস্তারিত কোনো তথ্য এই প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়নি। ফলে হামলাগুলোর সামরিক উদ্দেশ্য বা ক্ষয়ক্ষতির সামগ্রিক মাত্রা নিয়ে নিশ্চিত সিদ্ধান্তে পৌঁছানোর মতো তথ্য এখনো সীমিত।
ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম ও রেড ক্রিসেন্টের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতেই বর্তমানে হতাহতের এই হিসাব পাওয়া যাচ্ছে। পরিস্থিতি পরিবর্তনের সঙ্গে সঙ্গে নিহত ও আহতের সংখ্যা সংশোধিত বা বাড়তে পারে।
সূত্র: টাইমস অব ইসরায়েল