রাজশাহীর নগরীতে মাদক ব্যবসায় বাধা দেওয়াকে কেন্দ্র করে আব্দুল বারী (২৫) নামে এক যুবককে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগ উঠেছে। শনিবার দিবাগত রাত ১টার দিকে নগরীর ডিঙ্গাডোবা এলাকার বাকীর মোড়ে এ ঘটনা ঘটে।
নিহত আব্দুল বারী ওই এলাকার বদরুল্লাহর ছেলে। হামলার পর গুরুতর আহত অবস্থায় স্থানীয়রা তাঁকে উদ্ধার করে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন। পরে তাঁর মরদেহ হাসপাতালের মর্গে রাখা হয়।
স্থানীয় বাসিন্দাদের ভাষ্য, কয়েক দিন ধরে বাকীর মোড় এলাকায় বহিরাগত কয়েকজন যুবক মাদক বিক্রি করছিলেন। বিষয়টি নিয়ে আব্দুল বারী আপত্তি জানালে শনিবার বিকেলে তাঁদের সঙ্গে তাঁর কথা-কাটাকাটি হয়। একপর্যায়ে তা হাতাহাতিতে গড়ায়। পরে ওই যুবকেরা ঘটনাস্থল থেকে চলে যান।
স্থানীয়দের অভিযোগ, এর কয়েক ঘণ্টা পর গভীর রাতে প্রায় ৫০ জন যুবক ওই এলাকায় আসেন। তাঁরা আব্দুল বারীকে তাঁর বাসা থেকে ডেকে বাইরে নিয়ে যান। এরপর বাকীর মোড় এলাকায় তাঁদের সঙ্গে তাঁর আবারও কথা-কাটাকাটি হয়। একপর্যায়ে ধারালো অস্ত্র দিয়ে তাঁকে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে গুরুতর আহত করা হয় বলে অভিযোগ করেন স্থানীয়রা।
হামলার পর আশপাশের লোকজন এগিয়ে এসে রক্তাক্ত অবস্থায় আব্দুল বারীকে উদ্ধার করেন। দ্রুত হাসপাতালে নেওয়া হলেও তাঁর জীবন রক্ষা করা সম্ভব হয়নি।
ঘটনার বিষয়ে রাজপাড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবুল কালাম আজাদ বলেন, নিহতের পরিবারের সদস্যরা এখনো থানায় মামলা করতে আসেননি। মরদেহ রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে রাখা হয়েছে। নিয়ম অনুযায়ী ময়নাতদন্ত করা হবে।
ওসি বলেন, মামলা না হওয়া পর্যন্ত হত্যাকাণ্ডের প্রকৃত কারণ নিশ্চিত করে বলা যাচ্ছে না। তবে মাদক ব্যবসায় বাধা দেওয়াকে কেন্দ্র করে আব্দুল বারীকে হত্যা করা হয়েছে বলে প্রাথমিকভাবে শোনা যাচ্ছে। মামলা হলে তদন্তের মাধ্যমে ঘটনার বিস্তারিত কারণ এবং জড়িত ব্যক্তিদের বিষয়ে নিশ্চিত হওয়া যাবে।
পুলিশের পক্ষ থেকে হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িতদের বিষয়ে এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য জানানো হয়নি। নিহতের পরিবারের পক্ষ থেকে মামলা দায়েরের পর তদন্তের অগ্রগতি এবং হামলার পেছনের কারণ আরও স্পষ্ট হতে পারে।
এদিকে আব্দুল বারীর মৃত্যুর ঘটনায় এলাকায় উত্তেজনা ও উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। মাদক বিক্রির অভিযোগকে কেন্দ্র করে আগের বিরোধের জেরেই এই হামলা হয়েছে কি না, নাকি এর পেছনে অন্য কোনো কারণ ছিল—তা তদন্তের পরই নিশ্চিত হওয়া যাবে।