
গত ৫ নভেম্বর বৃহস্পতিবার রাত আনুমানিক ১১টার দিকে রূপগঞ্জ উপজেলার তারাবো পৌরসভার উত্তর মাসাবো এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। আহত আবুল কালাম ওই এলাকার বাসিন্দা। তিনি আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়নের (এপিবিএন) সদস্য হিসেবে কর্মরত।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, আবুল কালাম দীর্ঘদিন ধরে নিজ এলাকায় মাদক কারবারের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করে আসছিলেন। মাদক ব্যবসার সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের কর্মকাণ্ডে বাধা দেওয়ার পাশাপাশি তাদের আইনের আওতায় আনতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে সহযোগিতাও করতেন তিনি। এ কারণে স্থানীয় কয়েকজন মাদক কারবারির সঙ্গে তার বিরোধ তৈরি হয়।
অভিযোগ রয়েছে, গত মাসে মাসাবো এলাকার চিহ্নিত মাদক কারবারি শাহাদাত হোসেন (৩২) ও এমদাদুল হককে (২৯) পুলিশের হাতে ধরিয়ে দিতে সহযোগিতা করেন আবুল কালাম। এ ঘটনার পর থেকে শাহাদাতের ছোট ভাই শাহজালাল তাকে বিভিন্নভাবে ভয়ভীতি দেখিয়ে আসছিলেন। এমনকি প্রাণনাশের হুমকিও দেওয়া হয়েছিল বলে অভিযোগ রয়েছে।
এরই ধারাবাহিকতায় গত বৃহস্পতিবার রাতে আবুল কালাম ছুটিতে গ্রামের বাড়িতে অবস্থান করার সময় শাহজালাল তাকে মুঠোফোনে কল করেন। কথা বলার একপর্যায়ে তাকে বাড়ি থেকে ডেকে একটি নির্জন স্থানে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে আগে থেকেই ওত পেতে থাকা শাহজালাল ও তার সহযোগী ১০ থেকে ১৫ জনের একটি দল তার ওপর অতর্কিতে হামলা চালায়।
প্রত্যক্ষদর্শী ও স্থানীয়দের বরাতে জানা যায়, হামলাকারীরা আবুল কালামকে ঘিরে ধরে এলোপাতাড়ি মারধর করে। একপর্যায়ে তার হাত-পা ভেঙে দেওয়া হয়। পরে ধারালো অস্ত্র দিয়ে পায়ের রগ কেটে দেওয়া হয় বলেও অভিযোগ উঠেছে। হামলার সময় তার চিৎকার শুনে আশপাশের লোকজন ঘটনাস্থলে ছুটে আসেন। স্থানীয়দের উপস্থিতি টের পেয়ে হামলাকারীরা দ্রুত সেখান থেকে পালিয়ে যায়।
পরে স্থানীয় বাসিন্দারা গুরুতর আহত অবস্থায় আবুল কালামকে উদ্ধার করে প্রথমে কাছের একটি বেসরকারি হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে প্রাথমিক চিকিৎসার পর তার শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকার জাতীয় অর্থোপেডিক হাসপাতাল ও পুনর্বাসন প্রতিষ্ঠানে (নিটোর) স্থানান্তর করা হয়। বর্তমানে তিনি সেখানে আশঙ্কাজনক অবস্থায় চিকিৎসাধীন রয়েছেন বলে জানা গেছে।
এ ঘটনায় এলাকায় আতঙ্ক ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। বিশেষ করে মাদক কারবারের বিরুদ্ধে অবস্থান নেওয়ায় একজন কর্মরত পুলিশ সদস্যকে এভাবে হামলার শিকার হতে হওয়ায় স্থানীয়দের মধ্যে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরাও নিজ এলাকায় নিরাপত্তার ঝুঁকিতে পড়লে সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়েও প্রশ্ন তৈরি হয়।
এ বিষয়ে রূপগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এ এইচ এম সালাউদ্দিন বলেন, পুলিশ সদস্য আবুল কালাম ছুটিতে গ্রামের বাড়িতে এসে মাদক কারবারিদের হামলার শিকার হয়েছেন। ঘটনাটি গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হচ্ছে। সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এদিকে হামলার সঙ্গে জড়িতদের দ্রুত শনাক্ত করে গ্রেপ্তার এবং ঘটনার পেছনের কারণ উদ্ঘাটনের দাবি উঠেছে। তবে অভিযোগের বিষয়ে অভিযুক্ত ব্যক্তিদের বক্তব্য এবং আহত পুলিশ সদস্যের সর্বশেষ শারীরিক অবস্থার বিস্তারিত আনুষ্ঠানিকভাবে জানা যায়নি। তদন্তের মাধ্যমে হামলার প্রকৃত ঘটনা ও জড়িতদের ভূমিকা নিশ্চিত হওয়া জরুরি।