
নিহত মাসুদ গাজী ও অভিযুক্ত সিদ্দিক গাজী আপন ভাই। তাঁদের বাবার রেখে যাওয়া জমির মালিকানা ও বণ্টন নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে দুই ভাইয়ের মধ্যে বিরোধ চলছিল বলে জানা গেছে। সেই বিরোধের জেরেই মঙ্গলবার সকালে তাঁদের মধ্যে বাগ্বিতণ্ডা হয়। একপর্যায়ে পরিস্থিতি সহিংস রূপ নেয়।
শালিখা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আশিকুর রহমান জানান, জমিজমা নিয়ে বিরোধের একপর্যায়ে দুই ভাইয়ের মধ্যে কথা-কাটাকাটি শুরু হয়। এ সময় সিদ্দিক গাজী লাঠি দিয়ে তাঁর ছোট ভাই মাসুদকে আঘাত করেন। এতে মাসুদ গুরুতর আহত হন এবং ঘটনাস্থলেই তাঁর মৃত্যু হয় বলে জানা গেছে।
ঘটনার পর পুলিশ অভিযুক্ত সিদ্দিক গাজীর স্ত্রী কাকলী বেগম এবং তাঁদের ছোট ভাই বাবুল গাজীর স্ত্রী সেতু বেগমকে আটক করেছে। তবে এ ঘটনায় তাঁদের সুনির্দিষ্ট ভূমিকা কী, সে বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য জানা যায়নি। ঘটনার প্রকৃত কারণ ও এর সঙ্গে কারা জড়িত, তা খতিয়ে দেখছে পুলিশ।
পুলিশ জানায়, নিহত মাসুদ গাজীর মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য মাগুরা সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার পর মৃত্যুর বিষয়ে আরও বিস্তারিত তথ্য জানা যেতে পারে।
পৈতৃক সম্পত্তি নিয়ে বিরোধের জেরে আপন ভাইয়ের হাতে আরেক ভাইয়ের মৃত্যুর এ ঘটনায় এলাকায় উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। পারিবারিক ও জমিজমাসংক্রান্ত বিরোধ অনেক সময় সহিংসতায় রূপ নিয়ে প্রাণহানির মতো মর্মান্তিক পরিণতি ডেকে আনে। এ ধরনের বিরোধের ক্ষেত্রে আইনগত প্রক্রিয়ায় সমাধান খোঁজা এবং সংঘাত এড়িয়ে চলা জরুরি।
এ ঘটনায় পরবর্তী আইনগত পদক্ষেপ সম্পর্কে পুলিশ তাৎক্ষণিকভাবে বিস্তারিত কিছু জানায়নি। আটক দুই নারীকে জিজ্ঞাসাবাদ এবং ঘটনার অন্যান্য দিক যাচাইয়ের মাধ্যমে তদন্ত এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে।