মক্কা চুক্তি নিয়ে তুরস্ক সরকারের সঙ্গে আলোচনা হয়েছে বলে জানিয়েছেন বিরোধীদলীয় নেতা ও বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির শফিকুর রহমান। তুরস্ক সফরে দুই দেশের মধ্যে শিক্ষা, তৈরি পোশাকশিল্পসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নিয়েও আলোচনা হয়েছে। আন্তর্জাতিক পরিসরে বাংলাদেশের অবস্থান তুলে ধরার লক্ষ্যেই এ সফরে অংশ নিয়েছিলেন বলে জানিয়েছেন তিনি।
রোববার (১১ অক্টোবর) সকালে তুরস্ক সফর ও সৌদি আরবে ওমরাহ পালন শেষে দেশে ফিরে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে এসব কথা বলেন শফিকুর রহমান।
তিনি জানান, তুরস্কে অনুষ্ঠিত একটি আন্তর্জাতিক সম্মেলনে অংশ নেওয়ার পাশাপাশি দেশটির সরকারের সঙ্গে বিভিন্ন বিষয়ে আলোচনা করার সুযোগ হয়েছে। আলোচনায় বাংলাদেশের শিক্ষা খাত, তৈরি পোশাকশিল্প এবং মক্কা চুক্তির মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয় স্থান পেয়েছে। তবে এসব বিষয়ে আলোচনার বিস্তারিত, নির্দিষ্ট সিদ্ধান্ত কিংবা সম্ভাব্য চুক্তির বিষয়ে তিনি আলাদা করে কিছু জানাননি।
শফিকুর রহমান বলেন, তুরস্ক সফরের অন্যতম উদ্দেশ্য ছিল আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বাংলাদেশকে তুলে ধরা। বিভিন্ন দেশের প্রতিনিধিদের অংশগ্রহণে আয়োজিত এ ধরনের সম্মেলন বাংলাদেশের পরিস্থিতি, সম্ভাবনা ও স্বার্থ তুলে ধরার সুযোগ তৈরি করে। পাশাপাশি দ্বিপক্ষীয় আলোচনার মাধ্যমে বিভিন্ন ক্ষেত্রে সহযোগিতার ক্ষেত্র নিয়েও মতবিনিময় করা যায়।
বিশ্ব পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে জামায়াত আমির বলেন, বিশ্ব বর্তমানে অস্থিরতার মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। এ পরিস্থিতিতে কোনো ধরনের হামলাই বিশ্বের জন্য কল্যাণকর নয়। সংঘাতের পরিবর্তে আলোচনার পথ অনুসরণ করে বিশ্বে শান্তি ফিরিয়ে আনা উচিত বলে মন্তব্য করেন তিনি।
এর আগে গত ৭ অক্টোবর তুরস্কের ইস্তাম্বুল বিশ্ববিদ্যালয়ে আয়োজিত ‘সেকেন্ড ইন্টারন্যাশনাল কনফারেন্স অন বাংলাদেশ স্টাডিজ’-এ অংশ নিতে দেশটিতে যান শফিকুর রহমান। সম্মেলনে বাংলাদেশ ও তুরস্কসহ বিভিন্ন দেশের বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ, নীতিনির্ধারক, কূটনীতিক, গবেষক এবং বিভিন্ন সংস্থা ও প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিরা অংশ নেন।
সম্মেলনটিতে বাংলাদেশের বিভিন্ন বিষয় আন্তর্জাতিক পরিসরে আলোচনার সুযোগ তৈরি হয়। শফিকুর রহমানের বক্তব্য অনুযায়ী, সফরটি শুধু সম্মেলনে অংশগ্রহণের মধ্যে সীমাবদ্ধ ছিল না; তুরস্ক সরকারের সঙ্গে বৈঠক ও আলোচনায় দুই দেশের স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয়ও উঠে এসেছে।
শিক্ষা ও তৈরি পোশাকশিল্প বাংলাদেশের জন্য গুরুত্বপূর্ণ খাত। এসব ক্ষেত্রে আন্তর্জাতিক সহযোগিতা, অভিজ্ঞতা বিনিময় ও নতুন সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা দুই দেশের সম্পর্ক এগিয়ে নেওয়ার ক্ষেত্রে ভূমিকা রাখতে পারে। তবে তুরস্ক সরকারের সঙ্গে আলোচনার পর এসব বিষয়ে কোনো সুনির্দিষ্ট উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে কি না, সে বিষয়ে সফর শেষে দেওয়া বক্তব্যে বিস্তারিত জানানো হয়নি।