জামালপুরের মেলান্দহে বিয়ের মাত্র ২০ দিনের মাথায় এক বিএনপি নেতার স্ত্রীকে নিয়ে চলে যাওয়ার অভিযোগ উঠেছে তাঁর কথিত মামা হিসেবে পরিচিত এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় প্রতারণা ও স্বর্ণালংকার আত্মসাতের অভিযোগে করা মামলায় অভিযুক্ত ব্যক্তি ও ওই নারীকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। তাঁদের কাছ থেকে অভিযোগের বিষয়ে তথ্য সংগ্রহের পর শুক্রবার (২৩ অক্টোবর) বিকেলে আদালতে পাঠানো হয়েছে।
গ্রেপ্তার ব্যক্তির নাম এমদাদুল হক অরচন (৪৫)। তিনি মেলান্দহ পৌরসভার বর্জ্যবাহী গাড়ির চালক এবং উপজেলার শাহজাদপুর এলাকার মৃত আব্দুল হামিদের ছেলে। অন্যদিকে, গ্রেপ্তার নারী সুমি আক্তারের বয়স ২৭ বছর। তিনি কামদেববাড়ী এলাকার শাহিন মন্ডলের মেয়ে। অরচনকে সুমির কথিত মামা হিসেবে পরিচয় দেওয়া হয়েছে।
মামলার বাদী মো. সুজন ঝাউগড়া ইউনিয়ন বিএনপির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক। তাঁর বাড়ি উপজেলার দক্ষিণ ঝাউগড়া এলাকায়। তিনি অভিযোগ করেছেন, বিয়ের সময় স্ত্রীকে দেওয়া প্রায় সাত লাখ টাকার স্বর্ণালংকার নিয়ে সুমি অরচনের সঙ্গে চলে গেছেন।
মামলার এজাহার সূত্রে জানা গেছে, গত ১ অক্টোবর সুমি আক্তারের সঙ্গে রেজিস্ট্রি কাবিননামার মাধ্যমে সুজনের বিয়ে হয়। বিয়ের সময় স্ত্রীকে দুটি স্বর্ণের আংটি, একটি চেইন, এক জোড়া বালা ও এক জোড়া কানের দুলসহ বিভিন্ন স্বর্ণালংকার উপহার দেন তিনি। এজাহারে এসব অলংকারের আনুমানিক মূল্য ৬ লাখ ৯৬ হাজার ৫০০ টাকা উল্লেখ করা হয়েছে।
সুজনের অভিযোগ, বিয়ের পর থেকেই সুমির কথিত মামা অরচন তাঁকে বিভিন্নভাবে প্ররোচিত করে আসছিলেন। এর ধারাবাহিকতায় গত ২০ অক্টোবর সন্ধ্যা ৬টার দিকে সুজন বাড়িতে না থাকার সুযোগে অরচন তাঁদের বাড়িতে যান। সেখানে সুমিকে তাঁর বাবার বাড়িতে যাওয়ার কথা বলেন তিনি।
এ সময় সুজনের মা ছেলের বাড়িতে ফেরার পর সুমিকে যেতে বলেছিলেন বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে। তবে সেই অপেক্ষা না করেই সুমি অরচনের সঙ্গে বাড়ি থেকে চলে যান বলে দাবি করেছেন সুজন।
পরে ওই রাতে স্ত্রীর মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করেন তিনি। কিন্তু ফোন বন্ধ পান। পরদিন ছোট ভাইয়ের স্ত্রী ও ভাতিজাকে শ্বশুরবাড়িতে পাঠিয়ে সুমির খোঁজ নেওয়ার চেষ্টা করেন সুজন। তবে সেখানেও তাঁকে পাওয়া যায়নি। এরপর খোঁজাখুঁজি করতে গিয়ে অরচনের সঙ্গে সুমি চলে যাওয়ার বিষয়টি জানতে পারেন বলে দাবি করেন তিনি।
ঘটনার পর সুজন থানায় লিখিত অভিযোগ করেন। এর ভিত্তিতে শুক্রবার ভোররাতে জামালপুর পৌর এলাকার একটি ভাড়া বাসা থেকে অরচনকে গ্রেপ্তার করে মেলান্দহ থানা পুলিশ। পরে তাঁর দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে সুমি আক্তারকেও গ্রেপ্তার করা হয়। এরপর দুজনকে মামলার আসামি হিসেবে আদালতে পাঠানো হয়।
ঘটনায় মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছেন বলে জানিয়েছেন সুজন। তাঁর ভাষ্য, বিয়ের মাত্র ২০ দিনের মাথায় এমন পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে হবে, তা তিনি কল্পনাও করেননি। অনেক আশা নিয়ে স্ত্রীকে ঘরে এনেছিলেন। বিয়ের সময় তাঁকে স্বর্ণালংকারও দিয়েছিলেন। এত অল্প সময়ের মধ্যে এমন ঘটনা ঘটায় তিনি হতাশ ও মর্মাহত।
এ বিষয়ে মেলান্দহ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এটিএম মাহমুদুল হক জানান, প্রতারণা ও স্বর্ণালংকার আত্মসাতের অভিযোগে করা মামলায় এমদাদুল হক অরচন ও সুমি আক্তারকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। শুক্রবার তাঁদের আদালতে পাঠানো হয়েছে।
উল্লেখ্য, স্বর্ণালংকার আত্মসাৎ ও প্রতারণার অভিযোগগুলো মামলার এজাহার এবং বাদীর বক্তব্যের ভিত্তিতে উঠে এসেছে। অভিযোগের বিষয়ে আদালতে বিচারিক প্রক্রিয়ায় তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হবে।