নেত্রকোনায় ফ্যামিলি কার্ড করে দেওয়ার কথা বলে কয়েকজনের কাছ থেকে তিন হাজার টাকা করে নেওয়ার অভিযোগে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) নেত্রী সাদিয়া আক্তারকে (২৩) গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। এ ঘটনায় তাঁর বিরুদ্ধে প্রতারণার মামলা হয়েছে।
মঙ্গলবার বিকেলে পৌর শহরের বলাইনগুয়া মীরবাড়ি রোড এলাকার একটি বাসা থেকে স্থানীয় লোকজন সাদিয়াকে আটক করে পুলিশে সোপর্দ করেন। পরে পুলিশ তাঁকে ওই মামলায় গ্রেপ্তার দেখায়।
সাদিয়া আক্তার নেত্রকোনা সদর উপজেলার মদনপুর ইউনিয়নের তেঁতুলিয়া গ্রামের সাইফুল ইসলামের মেয়ে। তিনি নেত্রকোনা সরকারি কলেজের স্নাতক (সম্মান) তৃতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী। পাশাপাশি জেলা এনসিপির সাংগঠনিক সম্পাদকের দায়িত্বে রয়েছেন।
পুলিশ ও স্থানীয় বাসিন্দাদের ভাষ্য অনুযায়ী, ফ্যামিলি কার্ড করে দেওয়ার কথা বলে সাদিয়া কয়েকজনের কাছ থেকে টাকা নেন। মঙ্গলবার বিকেলে কুড়পাড় এলাকায় আরও একজনের কাছ থেকে টাকা নিতে গেলে স্থানীয় লোকজন বিষয়টি জানতে পারেন। পরে তাঁকে আটক করে পুলিশে খবর দেওয়া হয়।
এ ঘটনায় বুধবার সকালে পৌর শহরের বলাইনগুয়া চেয়ারম্যানবাড়ি এলাকার বাসিন্দা সুমন মিয়ার স্ত্রী প্রিয়া আক্তার বাদী হয়ে নেত্রকোনা মডেল থানায় প্রতারণার মামলা করেন।
মামলার বাদী প্রিয়া আক্তার জানান, তিনি নিজেসহ পাঁচজনকে ফ্যামিলি কার্ড করে দেওয়ার কথা বলে সাদিয়া প্রথমে প্রত্যেকের কাছ থেকে পাঁচ হাজার টাকা চান। পরে পাঁচজনের কাছ থেকে তিন হাজার টাকা করে নেন। মঙ্গলবার তাঁদের কাছ থেকে আরও দুই হাজার টাকা চাওয়া হয়। পরদিন ফ্যামিলি কার্ড হয়ে যাবে বলেও আশ্বাস দেওয়া হয়েছিল।
প্রিয়া আক্তারের দাবি, তাঁরা ফ্যামিলি কার্ড পাওয়ার আশায় সাদিয়াকে টাকা দিয়েছিলেন। পরে আরও কয়েকজনের কাছ থেকে টাকা নেওয়ার চেষ্টা করলে স্থানীয় লোকজন তাঁকে আটক করেন।
এদিকে নেত্রকোনা সদর উপজেলায় ফ্যামিলি কার্ড দেওয়ার বিষয়ে এখনো কোনো আলোচনা বা সিদ্ধান্ত হয়নি বলে জানিয়েছেন সদর উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক তাজ উদ্দিন ফারাস। ফ্যামিলি কার্ড দেওয়ার কথা বলে কেউ টাকা চাইলে তাঁকে পুলিশে সোপর্দ করার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।
তবে সাদিয়ার বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগের বিষয়ে এনসিপির জেলা কমিটির সদস্যসচিব ফাহিম রহমান খান পাঠান বলেন, বিষয়টি তাঁরা খোঁজ নিয়ে দেখছেন। সাদিয়া চক্রান্তের শিকার হয়ে থাকতে পারেন এবং তাঁর বিরুদ্ধে পরিকল্পিত ষড়যন্ত্রও হতে পারে। তবে টাকা নেওয়ার অভিযোগ প্রমাণিত হলে তাঁর বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
নেত্রকোনা মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবুল খায়ের মামলার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি বলেন, পুলিশের জিজ্ঞাসাবাদে সাদিয়া কয়েকজনের কাছ থেকে টাকা নেওয়ার কথা স্বীকার করেছেন। তাঁকে আদালতে পাঠানো হবে।