
শনিবার (তারিখ জানা যায়নি) রাত ৮টার দিকে উপজেলার বুড়াইচ ইউনিয়নের ফলিয়া বাজারে এ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। আগুনের খবর পেয়ে আলফাডাঙ্গা ও বোয়ালমারী উপজেলা ফায়ার সার্ভিসের চারটি ইউনিট ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগুন নেভানোর কাজ শুরু করে। প্রায় দুই ঘণ্টার চেষ্টায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আনতে সক্ষম হন ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা। তবে এর আগেই গুদামে রাখা বিপুল পরিমাণ পাট ও দোকানের অধিকাংশ মালামাল পুড়ে যায়।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, শনিবার রাত ৮টার দিকে ফলিয়া বাজারের একটি পাটের গুদামে প্রথম আগুন দেখতে পান স্থানীয় লোকজন। মুহূর্তের মধ্যে আগুনের শিখা ছড়িয়ে পড়তে থাকলে আশপাশের ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানেও আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। একপর্যায়ে আগুন পাশের গুদাম ও দোকানগুলোতে ছড়িয়ে পড়ে। এতে একে একে সাতটি পাটের গুদাম, দুটি কাঁচামালের দোকান এবং একটি চায়ের দোকান সম্পূর্ণ পুড়ে যায়।
বাজারে পাটের গুদামগুলোতে বিপুল পরিমাণ পাট মজুত থাকায় আগুন দ্রুত ছড়িয়ে পড়েছিল বলে স্থানীয়দের বর্ণনায় উঠে এসেছে। আগুনের তীব্রতা বাড়তে থাকায় ক্ষতিগ্রস্ত প্রতিষ্ঠানগুলোর মালামাল সরিয়ে নেওয়ার সুযোগও সীমিত হয়ে পড়ে। পরে ফায়ার সার্ভিসের চারটি ইউনিট একযোগে কাজ করে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে। অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় কিছু মালামাল উদ্ধার করা সম্ভব হলেও সামগ্রিক ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ বেশ বড় বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে।
ফলিয়া বাজারের ব্যবসায়ী কাশেম মন্ডল জানান, রাত ৮টার দিকে স্থানীয় লোকজন প্রথম একটি পাটের গুদামে আগুন দেখতে পান। খবর পেয়ে তিনি দ্রুত ঘটনাস্থলে গিয়ে গুদামগুলোতে দাউদাউ করে আগুন জ্বলতে দেখেন। পরে আগুন ছড়িয়ে পড়ে আশপাশের গুদাম ও দোকানে।
কাশেম মন্ডলের ভাষ্য অনুযায়ী, সাতটি গুদামে থাকা প্রায় তিন হাজার মণ পাট আগুনে পুড়ে গেছে। এসব পাটের বাজারমূল্য আনুমানিক দুই কোটি টাকা। এ বিপুল পরিমাণ পাট নষ্ট হওয়ায় সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ীরা বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়েছেন।
ফরিদপুর ফায়ার সার্ভিসের উপসহকারী পরিচালক সোহেল রানা জানান, আগুন লাগার খবর পাওয়ার পর আলফাডাঙ্গা ও বোয়ালমারী উপজেলা ফায়ার সার্ভিসের চারটি ইউনিট ঘটনাস্থলে গিয়ে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে। এ সময় কিছু মালামাল উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে। তবে আগুনের সূত্রপাত কীভাবে হয়েছে, তা এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
তিনি আরও জানান, অগ্নিকাণ্ডের কারণ অনুসন্ধানে তদন্ত করা হচ্ছে। একই সঙ্গে ক্ষয়ক্ষতির প্রকৃত পরিমাণ নিরূপণের কাজ চলছে।
পাট বাংলাদেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ কৃষিপণ্য ও রপ্তানিমুখী শিল্পের কাঁচামাল। উৎপাদন থেকে বাজারজাতকরণ পর্যন্ত বিভিন্ন পর্যায়ে কৃষক, ব্যবসায়ী ও শ্রমজীবী মানুষের আয়ের সঙ্গে এ পণ্য জড়িয়ে রয়েছে। ফলে গুদামে মজুত পাট পুড়ে গেলে সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ীদের পাশাপাশি স্থানীয় পাটবাণিজ্যেও আর্থিক প্রভাব পড়তে পারে।
ফলিয়া বাজারের এ অগ্নিকাণ্ডে ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ীদের প্রকৃত ক্ষতির পরিমাণ তদন্ত শেষে স্পষ্ট হবে। আগুনের সূত্রপাত, তা দ্রুত ছড়িয়ে পড়ার কারণ এবং অগ্নিনিরাপত্তাব্যবস্থায় কোনো ঘাটতি ছিল কি না, সেসব বিষয়ও তদন্তের মাধ্যমে নিশ্চিত হওয়া প্রয়োজন। আপাতত আগুন লাগার কারণ সম্পর্কে ফায়ার সার্ভিসের পক্ষ থেকে নিশ্চিত কোনো তথ্য জানানো হয়নি।