
বুধবার (২৮ অক্টোবর) দুপুর আড়াইটার দিকে বগুড়া জেলা গোয়েন্দা পুলিশের কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান জেলা পুলিশের মিডিয়া মুখপাত্র ও অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আতোয়ার রহমান।
গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলেন দিনাজপুরের হাকিমপুর উপজেলার দক্ষিণ বাসুদেবপুর গ্রামের সাদিকুল ইসলাম ও আলমগীর হোসেন এবং জয়পুরহাটের পাঁচবিবি উপজেলার ভীমপুর গ্রামের রবিউল ইসলাম ও বালিঘাটা বাজার এলাকার আসাদুজ্জামান শাহিদ।
পুলিশ জানায়, গ্রেপ্তার আলমগীর হোসেনের বিরুদ্ধে মাদক, বিশেষ ক্ষমতা আইন ও মারামারিসহ বিভিন্ন অভিযোগে ১০টি মামলা রয়েছে। অন্যদিকে রবিউল ইসলামের বিরুদ্ধে মাদকদ্রব্য-সংক্রান্ত তিনটি মামলা আদালতে বিচারাধীন।
পুলিশের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, গত ৫ অক্টোবর বগুড়া শহরের গালাপট্টি এলাকার স্বর্ণ ব্যবসায়ী খায়রুল ইসলাম ২৪ ক্যারেটের ১০টি স্বর্ণের বার জয়পুরহাটে পাঠানোর ব্যবস্থা করেন। বারগুলোর মোট ওজন ছিল ১০২ ভরি ১২ আনা। স্বর্ণগুলো তাঁর খালাতো ভাই বাপ্পি হোসেনের মাধ্যমে পাঠানো হচ্ছিল।
বাপ্পি হোসেন বাসে করে জয়পুরহাটের উদ্দেশে রওনা হন। দুপুর ১২টা ৫ মিনিটের দিকে বাসটি বগুড়ার শিবগঞ্জ উপজেলার মোকামতলা-জয়পুরহাট সড়কের উথলি এলাকায় পৌঁছালে তিন থেকে চারজন ব্যক্তি নিজেদের পুলিশ পরিচয় দিয়ে বাসটি থামান।
এরপর তাঁরা বাপ্পি হোসেনকে জোর করে বাস থেকে নামিয়ে মারধর করেন। তাঁর কাছে থাকা স্বর্ণের বারগুলো এবং একটি মুঠোফোন ছিনিয়ে নিয়ে তাঁকে আহত অবস্থায় ফেলে রেখে পালিয়ে যান। পরে শিবগঞ্জের বালা রোডের গুজিয়া হাট মণ্ডলপাড়ার একটি ফাঁকা জমি থেকে তাঁকে উদ্ধার করা হয় বলে পুলিশ জানিয়েছে।
ঘটনার পর স্বর্ণ ব্যবসায়ী খায়রুল ইসলাম লিখিত অভিযোগ করেন। ওই অভিযোগের ভিত্তিতে ২৭ অক্টোবর শিবগঞ্জ থানায় মামলা করা হয়। এরপরই ছিনতাইয়ের ঘটনায় জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে মাঠে নামে জেলা গোয়েন্দা পুলিশ।
সংবাদ সম্মেলনে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আতোয়ার রহমান জানান, ঘটনার তদন্তে প্রথমে পঞ্চগড়, দিনাজপুর ও জয়পুরহাট জেলার বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালানো হয়। অভিযানের একপর্যায়ে পঞ্চগড়ের তেঁতুলিয়া উপজেলার তরিনয়হাট এলাকা থেকে সাদিকুল ইসলামকে গ্রেপ্তার করা হয়।
সাদিকুলের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে দিনাজপুরের হাকিমপুর উপজেলার মহিলা কলেজ এলাকা থেকে আলমগীর হোসেনকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরে আলমগীরের বসতবাড়িতে তল্লাশি চালিয়ে স্বর্ণ বিক্রির ২৯ লাখ টাকা উদ্ধার করে পুলিশ।
তদন্তের পরবর্তী পর্যায়ে গ্রেপ্তার দুজনের দেওয়া তথ্য এবং প্রযুক্তির সহায়তায় জয়পুরহাটের পাঁচবিবি উপজেলার ভীমপুর এলাকা থেকে রবিউল ইসলাম ও আসাদুজ্জামান শাহিদকে গ্রেপ্তার করা হয়।
পুলিশ জানায়, পরে দিনাজপুরের হাকিমপুরে সাদিকুলের বসতবাড়ি থেকে আরও ১৮ লাখ টাকা উদ্ধার করা হয়। এ ছাড়া জয়পুরহাটের পাঁচবিবি উপজেলার বড়মানিক গ্রামে শাহিদের গরুর খামারের কার্যালয়ে তল্লাশি চালিয়ে পাওয়া যায় আরও ৪১ লাখ টাকা।
তিনটি স্থান থেকে উদ্ধার করা অর্থের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে মোট ৮৮ লাখ টাকা। পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, এসব অর্থ ছিনতাই করা স্বর্ণ বিক্রির টাকা।
বাস থামিয়ে পুলিশের পরিচয় ব্যবহার করে যাত্রীকে মারধর এবং মূল্যবান সামগ্রী ছিনিয়ে নেওয়ার এ ঘটনায় নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। বিশেষ করে স্বর্ণের মতো মূল্যবান পণ্য এক স্থান থেকে অন্য স্থানে পরিবহনের ক্ষেত্রে অপরাধীরা কীভাবে সুযোগ নেয়, তা এ ঘটনায় সামনে এসেছে।
তবে ঘটনার সঙ্গে কার কী ধরনের সম্পৃক্ততা রয়েছে, তা নির্ধারণে তদন্তের ফল গুরুত্বপূর্ণ। পুলিশ এখন পর্যন্ত চারজনকে গ্রেপ্তার এবং স্বর্ণ বিক্রির ৮৮ লাখ টাকা উদ্ধারের তথ্য জানিয়েছে। উদ্ধার করা অর্থের বাইরে ছিনতাই হওয়া স্বর্ণের বার ও মুঠোফোনের বর্তমান অবস্থান সম্পর্কে সংবাদ সম্মেলনে বিস্তারিত তথ্য দেওয়া হয়নি।
আতোয়ার রহমান জানান, গ্রেপ্তার চার আসামিকে আদালতে পাঠানো হয়েছে। মামলাটির তদন্ত ও ঘটনার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট অন্য তথ্য যাচাইয়ের বিষয়ে পুলিশের কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে।