রাজধানীর মিরপুরে কে এম মাহমুদুল হাসান নামে এক পুলিশ কর্মকর্তার মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। রোববার (৪ অক্টোবর) বিকেলে মিরপুরের আলোক হাসপাতাল থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়। প্রাথমিকভাবে পুলিশ ধারণা করছে, তিনি আত্মহত্যা করেছেন। তবে এর পেছনে কী কারণ ছিল, তা জানতে তদন্ত চলছে।
মাহমুদুল হাসান ভাসানটেক থানায় উপপরিদর্শক (এসআই) হিসেবে কর্মরত ছিলেন। তার গ্রামের বাড়ি গাইবান্ধা জেলায়। তিনি মিরপুরের ১৩ নম্বর সেকশনের একটি বাসায় থাকতেন।
কাফরুল থানার পুলিশ পরিদর্শক সাইফুল ইসলাম ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, খবর পেয়ে পুলিশ মিরপুরের আলোক হাসপাতালে যায় এবং সেখান থেকে মাহমুদুল হাসানের মরদেহ উদ্ধার করে।
পুলিশের এই কর্মকর্তা পরিবারের সদস্যদের বরাত দিয়ে জানান, মিরপুরের বাসায় মাহমুদুল হাসান আত্মহত্যা করেন বলে প্রাথমিকভাবে জানা গেছে। ঘটনার সময় বাসায় পরিবারের অন্য কোনো সদস্য ছিলেন না। পরে তারা বাসায় ফিরে তাকে ঝুলন্ত অবস্থায় দেখতে পান। এরপর দ্রুত তাকে আলোক হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
মরদেহ উদ্ধারের পর প্রয়োজনীয় আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে ময়নাতদন্তের জন্য সোহরাওয়ার্দী মেডিক্যাল কলেজের মর্গে পাঠানো হয়। পুলিশ জানিয়েছে, সোমবার তার ময়নাতদন্ত সম্পন্ন হয়েছে।
পুলিশের প্রাথমিক ধারণা, মাহমুদুল হাসান আত্মহত্যা করেছেন। তবে কী কারণে তিনি এমন সিদ্ধান্ত নিয়েছেন, সে বিষয়ে এখনো নিশ্চিত কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি। ঘটনাটি তদন্ত করে দেখছে পুলিশ।
তার মৃত্যু ঘিরে কোনো সন্দেহজনক পরিস্থিতি বা অন্য কোনো কারণ রয়েছে কি না, সেটিও তদন্তের অংশ হিসেবে খতিয়ে দেখা হচ্ছে। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন এবং তদন্তের অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনার পর মৃত্যুর প্রকৃত কারণ সম্পর্কে আরও স্পষ্ট ধারণা পাওয়া যেতে পারে।
মাহমুদুল হাসান ভাসানটেক থানায় দায়িত্ব পালন করছিলেন। কর্মরত অবস্থায় তার এমন মৃত্যুতে সহকর্মীদের মধ্যেও শোকের পরিবেশ তৈরি হয়েছে। তবে তার মৃত্যুর কারণ সম্পর্কে তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছানো যাচ্ছে না।