আফগানিস্তানের উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় কুনার প্রদেশে পাকিস্তানের বিমান হামলায় একই পরিবারের তিন সদস্য নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় আহত হয়েছেন আরও চারজন। সোমবারের এ হামলার পর প্রায় তিন মাসের তুলনামূলক শান্ত পরিস্থিতির মধ্যে আবারও আফগানিস্তান ও পাকিস্তানের সম্পর্ক উত্তপ্ত হয়ে ওঠার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। আফগান কর্মকর্তাদের বরাতে এ তথ্য জানিয়েছে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমগুলো।
আফগানিস্তানের তালেবান সরকারের উপমুখপাত্র হামদুল্লাহ ফিতরাত জানান, কুনার প্রদেশের একটি বাড়িতে পাকিস্তানি বিমান হামলা চালানো হয়। এতে একই পরিবারের তিন সদস্য প্রাণ হারান এবং চারজন আহত হন। হামলায় বেসামরিক মানুষের হতাহতের ঘটনায় আফগান কর্তৃপক্ষ পাকিস্তানের সামরিক অভিযান নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে।
ফিতরাত আরও জানান, আফগানিস্তানের পাকতিকা প্রদেশের বারমাল জেলায় দুটি স্থানে বোমা হামলা চালানো হয়েছে। এতে একটি দোকান ও একটি পরিত্যক্ত বাড়ি ধ্বংস হয়েছে। তবে ওই দুই হামলায় কোনো হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি। হামলার বিষয়ে পাকিস্তানের সামরিক বাহিনী তাৎক্ষণিকভাবে কোনো মন্তব্য করেনি।
সাম্প্রতিক এ হামলার পেছনে দুই দেশের দীর্ঘদিনের নিরাপত্তা বিরোধ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। পাকিস্তানের অভিযোগ, আফগানিস্তানে অবস্থানরত সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলো সীমান্ত পেরিয়ে পাকিস্তানে হামলা চালাচ্ছে। বিশেষ করে পাকিস্তান তেহরিক-ই-তালেবান (টিটিপি)–সংশ্লিষ্ট গোষ্ঠীগুলোর তৎপরতা নিয়ে ইসলামাবাদ দীর্ঘদিন ধরে উদ্বেগ জানিয়ে আসছে। অন্যদিকে আফগানিস্তানের তালেবান সরকার এসব অভিযোগ অস্বীকার করে বলছে, পাকিস্তানের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা সমস্যা তাদের নিজেদের বিষয়।
সোমবারের বিমান হামলার কয়েক দিন আগে পাকিস্তানের উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলের কোহাটে একটি পুলিশ স্থাপনায় ভয়াবহ হামলা হয়। এতে অন্তত ১৬ জন নিহত হন। ওই হামলার পর সীমান্তপারের সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর বিরুদ্ধে পাকিস্তানের অভিযোগ আরও জোরালো হয়।
এর আগে জুলাইয়ে আফগানিস্তান পাকিস্তানের দিকে ড্রোন হামলা চালিয়েছিল। পাকিস্তান তখন দাবি করে, তাদের বাহিনী ওই ড্রোন শনাক্ত করে ভূপাতিত করেছে।
দুই দেশের মধ্যে সাম্প্রতিক সময়ের সবচেয়ে বড় উত্তেজনার ঘটনা ঘটে মার্চে। তখন কাবুলে একটি মাদকাসক্তি নিরাময়কেন্দ্রে পাকিস্তানের বিমান হামলার অভিযোগ তোলে আফগানিস্তান। আফগান কর্তৃপক্ষের দাবি ছিল, হামলায় ৪০০ জনের বেশি মানুষ নিহত হন। তবে পাকিস্তান এ অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করে জানায়, তাদের লক্ষ্য ছিল সামরিক স্থাপনা ও সন্ত্রাসীদের সহায়তাকারী অবকাঠামো।
নতুন করে কুনার ও পাকতিকা প্রদেশে হামলার ঘটনায় দুই দেশের সীমান্ত পরিস্থিতি আবারও অস্থিতিশীল হয়ে উঠতে পারে বলে আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। দুই পক্ষের পরস্পরবিরোধী অভিযোগের মধ্যেই পরিস্থিতির দিকে নজর রাখছেন সংশ্লিষ্টরা।