গাজীপুরের টঙ্গীতে নেশার টাকা না দেওয়ায় ববিতা খাতুন (৩৫) নামে এক পোশাককর্মীকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে গুরুতর জখম করার অভিযোগ উঠেছে তাঁর স্বামী খোকনের (৪২) বিরুদ্ধে। সোমবার দুপুরে টঙ্গীর পাগাড় হাজী মার্কেট এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। পরে স্থানীয়রা খোকনকে আটক করে গণধোলাই দিয়ে পুলিশের কাছে সোপর্দ করেন।
আহত ববিতা পাগাড় এলাকার সিরাজুল ইসলামের ভাড়া বাসায় স্বামীর সঙ্গে থাকেন। তিনি স্থানীয় ‘এচিমন’ নামের একটি পোশাক কারখানায় অপারেটর হিসেবে কর্মরত। তাঁর স্বামী খোকন পেশায় রিকশাচালক।
স্থানীয় বাসিন্দাদের বরাত দিয়ে জানা যায়, খোকন ও ববিতা বেশ কিছুদিন ধরে পাগাড় এলাকায় ভাড়া বাসায় বসবাস করছেন। সোমবার সকালে খোকন নেশা করার জন্য ববিতার কাছে টাকা চান। তবে তিনি টাকা দিতে রাজি না হওয়ায় দুজনের মধ্যে কথা-কাটাকাটি হয়।
পরে দুপুরে খাবার খেয়ে কর্মস্থলের উদ্দেশে বাসা থেকে বের হন ববিতা। এ সময় খোকন তাঁর পিছু নিয়ে ধারালো অস্ত্র দিয়ে মাথা, কাঁধ ও হাতে এলোপাতাড়ি কোপ দেন বলে অভিযোগ। হামলায় ববিতা গুরুতর আহত হন। একপর্যায়ে তাঁর বাঁ হাতের তিনটি আঙুল বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়।
ববিতার চিৎকার শুনে আশপাশের লোকজন ঘটনাস্থলে ছুটে আসেন। তাঁরা খোকনকে আটক করেন এবং পরে তাকে গণধোলাই দিয়ে পুলিশের কাছে হস্তান্তর করেন।
গুরুতর আহত অবস্থায় ববিতাকে উদ্ধার করে প্রথমে টঙ্গী সরকারি হাসপাতালে নেওয়া হয়। তাঁর শারীরিক অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক উন্নত চিকিৎসার জন্য তাঁকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠান।
টঙ্গী পূর্ব থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ মাকছুদুল আলম বলেন, ববিতার স্বামী খোকনকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। এ ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার প্রক্রিয়া চলছে।