নেপালে ভয়াবহ বন্যা, আকস্মিক ঢল ও ভূমিধসে প্রাণহানির সংখ্যা বেড়ে ৯০৩ জনে পৌঁছেছে। একই দুর্যোগে এখনো ৪ হাজার ২৪৭ জন নিখোঁজ রয়েছেন। দুর্গম পাহাড়ি এলাকা, কাদা ও ধ্বংসস্তূপের কারণে নিখোঁজদের সন্ধানে চলমান উদ্ধার অভিযান কঠিন হয়ে পড়েছে।
দেশটির জাতীয় দুর্যোগ ঝুঁকি হ্রাস ও ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষের সর্বশেষ হিসাব অনুযায়ী, নিখোঁজ ৪ হাজার ২৪৭ জনকে উদ্ধারে বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালানো হচ্ছে। বন্যা ও ভূমিধসের পর অনেক সড়ক ও যোগাযোগপথ ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় দুর্গত এলাকায় পৌঁছানোও উদ্ধারকারীদের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
হিমালয় অঞ্চলে প্রবল বন্যা ও আকস্মিক ঢলের সঙ্গে ব্যাপক ভূমিধসের ঘটনা ঘটে। এতে বহু মানুষ ঘরবাড়ি হারানোর পাশাপাশি বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েন। কোথাও কোথাও কাদা ও ধ্বংসস্তূপের নিচে মানুষ আটকা পড়েছেন বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। নিখোঁজদের উদ্ধারে এসব স্থানে উদ্ধারকর্মীরা কাজ করছেন।
রাজধানী কাঠমান্ডুতেও নিখোঁজ স্বজনদের সন্ধানে মানুষের ভিড় দেখা যাচ্ছে। বিভিন্ন হাসপাতালের দেয়ালে নিখোঁজ ব্যক্তিদের ছবি টাঙিয়ে দিচ্ছেন পরিবারের সদস্যরা। কারও হাতে স্বজনের ছবি, কারও চোখে অপেক্ষা—কখনও কোনো হাসপাতাল কিংবা উদ্ধারকেন্দ্র থেকে প্রিয়জনের খবর আসবে, সেই আশাতেই দিন কাটছে তাদের।
নিখোঁজদের একটি বড় অংশের সঙ্গে জলবিদ্যুৎ প্রকল্পগুলোর সংশ্লিষ্টতা রয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। ত্রিশূলী-৩এ জলবিদ্যুৎকেন্দ্রে উদ্ধারকারীরা একটি গর্ত তৈরি করতে সক্ষম হয়েছেন। ওই পথ ব্যবহার করে ভেতরে প্রবেশ করে নিখোঁজদের সন্ধান চালানোর সুযোগ তৈরি হয়েছে। তবে সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, সেখানে এখনো ভেতর থেকে কোনো সাড়া পাওয়া যায়নি।
নেপালের জলবিদ্যুৎকেন্দ্রগুলোতে কর্মরত কয়েকশ মানুষ নিখোঁজদের তালিকায় রয়েছেন বলে ধারণা করা হচ্ছে। তাঁদের পাশাপাশি নিখোঁজদের মধ্যে বিভিন্ন দেশের বিদেশি নাগরিকও রয়েছেন। ফলে দুর্যোগটির প্রভাব শুধু নেপালের স্থানীয় জনগোষ্ঠীর মধ্যেই সীমাবদ্ধ নেই।
তবে ভয়াবহ প্রাণহানির মধ্যেও উদ্ধারকারীদের কয়েকটি সফল অভিযান স্বস্তির খবর দিয়েছে। বিভিন্ন এলাকায় ধ্বংসস্তূপ ও দুর্গম স্থান থেকে কিছু মানুষকে জীবিত উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে। ফলে নিখোঁজদের একটি অংশকে জীবিত উদ্ধারের আশাও এখনো ছাড়ছেন না উদ্ধারকর্মী ও স্বজনেরা।
তিব্বতেও বড় প্রাণহানি
নেপালের পাশাপাশি চীনের নিয়ন্ত্রণাধীন তিব্বতেও বন্যা ও ভূমিধসের প্রভাব পড়েছে। সরকারি হিসাবে সেখানে ১৬ জনের মৃত্যু হয়েছে। নিখোঁজ রয়েছেন আরও ৫৪৬ জন।
তিব্বতে নিখোঁজদের প্রায় অর্ধেকই বিদেশি নাগরিক বলে ধারণা করা হচ্ছে। ফলে সেখানে নিখোঁজ ব্যক্তিদের পরিচয় শনাক্ত করা এবং তাঁদের পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ করাও উদ্ধার ও অনুসন্ধান কার্যক্রমের গুরুত্বপূর্ণ অংশ হয়ে উঠেছে।
নেপাল ও তিব্বতের দুর্গম পাহাড়ি ভূপ্রকৃতিতে এমন দুর্যোগের পর উদ্ধারকাজে সময় অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ধ্বংসস্তূপের নিচে বা বিচ্ছিন্ন এলাকায় কেউ জীবিত থাকলে দ্রুত তাদের কাছে পৌঁছানোই এখন উদ্ধারকারীদের প্রধান লক্ষ্য। একই সঙ্গে নিখোঁজদের প্রকৃত সংখ্যা ও অবস্থান শনাক্ত করার কাজও চলছে।
দুর্যোগে মৃতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে কি না, তা এখনই নিশ্চিত নয়। নিখোঁজদের সন্ধান ও উদ্ধার অভিযান শেষ না হওয়া পর্যন্ত হতাহত ও নিখোঁজের সংখ্যা পরিবর্তিত হতে পারে বলে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের তথ্য থেকেই বোঝা যাচ্ছে।