নেপালে আকস্মিক বন্যা ও এর ফলে সৃষ্ট দুর্যোগে মৃতের সংখ্যা বেড়ে ৭৩৪ জনে দাঁড়িয়েছে। একই সময়ে উদ্ধারকারীরা ৮ হাজার ১৮৬ জনকে জীবিত অবস্থায় উদ্ধার করে নিরাপদ আশ্রয়ে নিতে সক্ষম হয়েছেন। তবে পরিস্থিতি এখনো পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে আসেনি। প্রায় তিন হাজার মানুষ এখনো নিখোঁজ রয়েছেন বলে আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমের প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে।
রবিবার নেপালের সংবাদমাধ্যম কাঠমান্ডু পোস্ট ও নেপাল নিউজের প্রতিবেদনে এসব তথ্য উঠে এসেছে। দেশটির জাতীয় দুর্যোগ ঝুঁকি প্রশমন ও ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষের (NDRRMA) তথ্য অনুযায়ী, রবিবার সকাল ৯টা পর্যন্ত বন্যাকবলিত বিভিন্ন এলাকা থেকে ৭৩৪টি মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে।
মৃত্যুর হিসাবে সবচেয়ে বেশি ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে চিতাওয়ান জেলায়। সেখানে ২৫৯টি মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছে পূর্ব নাওয়ালপারাসি, যেখানে ১৮৪ জনের মরদেহ পাওয়া গেছে। পশ্চিম নাওয়ালপারাসিতে উদ্ধার করা হয়েছে ৮২টি মরদেহ।
এ ছাড়া গোর্খায় ৫৮টি, নুয়াকোটে ৫২টি, ধাধলিংয়ে ৫০টি, তানাহুনে ৩৬টি এবং রাসুয়ায় ১৩টি মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। বন্যায় আহতদের মধ্যেও অনেকে চিকিৎসা নিয়েছেন; মোট ২৪২ জন আহত ব্যক্তি চিকিৎসাধীন রয়েছেন অথবা চিকিৎসা শেষে বাড়ি ফিরেছেন।
দুর্যোগ মোকাবিলায় নেপালের নিরাপত্তা বাহিনীর বড় ধরনের উদ্ধার অভিযান চলছে। এখন পর্যন্ত সেনাবাহিনী, পুলিশ ও সশস্ত্র পুলিশ বাহিনীর মোট ১৯ হাজার ৮৯৫ সদস্য উদ্ধারকাজে অংশ নিয়েছেন। এর মধ্যে নেপালি সেনাবাহিনী ২ হাজার ৯৭৪ জনকে, নেপাল পুলিশ ২ হাজার ৬৯৯ জনকে এবং সশস্ত্র পুলিশ বাহিনী ২ হাজার ৫১৩ জনকে উদ্ধার করেছে।
দুর্গম ও পানিবন্দী এলাকায় উদ্ধারকাজে হেলিকপ্টারও ব্যবহার করা হচ্ছে। বিশেষ অভিযানের মাধ্যমে জলবিদ্যুৎ প্রকল্পের টানেল থেকে ২৭৯ জন শ্রমিককে নিরাপদে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। একই ধরনের হেলিকপ্টার অভিযানে ২২৭ জন বিদেশি নাগরিককেও উদ্ধার করা হয়েছে।
উদ্ধারকাজের পাশাপাশি দুর্গত মানুষের কাছে খাবার ও প্রয়োজনীয় সামগ্রী পৌঁছে দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। ৩৭টি ট্রাক এবং সাতটি হেলিকপ্টারের মাধ্যমে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় খাদ্য ও নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য পাঠানো হচ্ছে। আহতদের চিকিৎসায় বিশেষায়িত সার্জিক্যাল মেডিকেল টিমও মোতায়েন করা হয়েছে।
স্থানীয় পর্যায়েও ত্রাণ কার্যক্রম চালানো হচ্ছে। ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের জরুরি প্রয়োজন মেটাতে স্থানীয় সরকারগুলোর মাধ্যমে নগদ সহায়তা বিতরণ শুরু হয়েছে। এতে দুর্গত পরিবারগুলো খাদ্য, চিকিৎসা ও অন্যান্য জরুরি প্রয়োজন মেটানোর সুযোগ পাচ্ছে।
তবে উদ্ধার অভিযান শেষ হওয়ার আগেই নিখোঁজ মানুষের সংখ্যা নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে। মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিএনএনের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এখনো প্রায় তিন হাজার মানুষ নিখোঁজ রয়েছেন। নিখোঁজদের মধ্যে সরকারি কর্মকর্তা ও নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যরাও রয়েছেন বলে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম জানিয়েছে।
এ অবস্থায় নিখোঁজ ব্যক্তিদের সন্ধান, দুর্গম এলাকায় আটকে পড়াদের উদ্ধার এবং ক্ষতিগ্রস্তদের কাছে দ্রুত ত্রাণ পৌঁছে দেওয়াই নেপাল সরকারের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। মৃতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে কি না, তা নির্ভর করছে উদ্ধারকারী দলগুলো কত দ্রুত দুর্গত ও দুর্গম এলাকাগুলোতে পৌঁছাতে পারে এবং সেখানে আটকে থাকা মানুষের সন্ধান পাওয়া যায় কি না, তার ওপর।