নেপালের ভয়াবহ আকস্মিক বন্যা ও ভূমিধসে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের জন্য মানবিক সহায়তা পাঠানোর উদ্যোগ নিয়েছে বাংলাদেশ সরকার। দুর্যোগের পর জরুরি প্রয়োজন মেটাতে বিভিন্ন ধরনের ত্রাণসামগ্রী প্রস্তুত করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার (২৭ আগস্ট) দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয় এ তথ্য জানিয়েছে।
মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, নেপালে পাঠানোর জন্য প্রস্তুত করা ত্রাণসামগ্রীর তালিকায় রয়েছে তাঁবু, মশারি, শুকনো খাবারের প্যাকেট, টর্চ লাইট, বেলচা, স্লিপিং ব্যাগ, পানির কনটেইনার ও বডি ব্যাগ। দুর্যোগের কারণে বাস্তুচ্যুত ও আটকে পড়া মানুষের তাৎক্ষণিক প্রয়োজন বিবেচনায় এসব সামগ্রী পাঠানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
নেপালের উত্তরাঞ্চলের সীমান্তবর্তী রাসুয়া জেলায় সাম্প্রতিক বন্যা ও ভূমিধস পরিস্থিতি ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে। ভোতি কোশি নদীর পানি বেড়ে যাওয়ার পর ওই এলাকায় আকস্মিক বন্যা দেখা দেয়। এর প্রভাব সীমান্তের অপর পাশের চীনের তিব্বত অঞ্চলেও পড়েছে।
দুর্যোগের কারণে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির পাশাপাশি বিপুলসংখ্যক মানুষ নিখোঁজ হয়েছেন। মন্ত্রণালয়ের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, এখন পর্যন্ত প্রায় ১ হাজার ৩৮৪ জন নিখোঁজ রয়েছেন। নিখোঁজদের মধ্যে প্রায় ৮০০ জন বিদেশি নাগরিক বলে জানা গেছে। ফলে উদ্ধার তৎপরতার পাশাপাশি নিখোঁজ ব্যক্তিদের সন্ধান এবং দুর্গত এলাকায় জরুরি সহায়তা পৌঁছে দেওয়া বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
হঠাৎ বন্যার মতো দুর্যোগে দুর্গত মানুষের সবচেয়ে জরুরি প্রয়োজন হয়ে পড়ে নিরাপদ আশ্রয়, খাবার, বিশুদ্ধ পানি ও প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম। এ কারণে বাংলাদেশের পাঠানো সহায়তার তালিকায় তাঁবু ও স্লিপিং ব্যাগের মতো আশ্রয়সংক্রান্ত সামগ্রীর পাশাপাশি শুকনো খাবার ও পানির কনটেইনার রাখা হয়েছে। দুর্গম এলাকায় উদ্ধার ও ত্রাণ কার্যক্রমে ব্যবহারের জন্য বেলচা ও টর্চ লাইটও রয়েছে।
এ ছাড়া মশারি ও অন্যান্য প্রয়োজনীয় সামগ্রীও পাঠানো হচ্ছে। নিখোঁজ ও মৃত ব্যক্তিদের ব্যবস্থাপনার প্রয়োজন বিবেচনায় বডি ব্যাগও ত্রাণসামগ্রীর অংশ করা হয়েছে।
বাংলাদেশের দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, নেপালের ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের জরুরি প্রয়োজন মেটাতেই এই মানবিক সহায়তা পাঠানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। প্রতিবেশী দেশগুলোর দুর্যোগে বাংলাদেশের পক্ষ থেকে মানবিক সহায়তার এ উদ্যোগ দুই দেশের পারস্পরিক সহযোগিতার ক্ষেত্রেও তাৎপর্যপূর্ণ।
বর্তমানে নেপালের দুর্গত এলাকাগুলোতে উদ্ধার ও সহায়তা কার্যক্রম চালানো হচ্ছে। বিপুলসংখ্যক মানুষের নিখোঁজ থাকার কারণে পরিস্থিতি এখনো উদ্বেগজনক। এমন অবস্থায় জরুরি ত্রাণসামগ্রী পৌঁছানো দুর্গত জনগোষ্ঠীর তাৎক্ষণিক চাহিদা পূরণে সহায়ক হবে বলে আশা করা হচ্ছে।