নারায়ণগঞ্জের বন্দরে দিনদুপুরে স্বর্ণের দোকানে ঢুকে অস্ত্রের মুখে ডাকাতির ঘটনায় পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। অভিযানে তাদের কাছ থেকে লুট হওয়া স্বর্ণালংকার ও নগদ টাকা উদ্ধার করা হয়েছে। দোকানে ডাকাতির দৃশ্য ধরা পড়েছিল সিসিটিভি ক্যামেরায়। সেই ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর তদন্তে নামে পুলিশ।
রোববার (২৭ সেপ্টেম্বর) বিকেলে নারায়ণগঞ্জ জেলা পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান পুলিশ সুপার হাবিবুর রহমান।
পুলিশ জানায়, গত ২৫ সেপ্টেম্বর দুপুরে বন্দরের ঢাকেশ্বরী সোনাচড়া এলাকার একটি স্বর্ণের দোকানে ৭ থেকে ৮ জনের একটি দল ঢোকে। মুহূর্তেই অস্ত্রের ভয় দেখিয়ে দোকানের লোকজনকে জিম্মি করে তারা। এরপর দোকান থেকে স্বর্ণালংকার, রূপার গহনা, নগদ টাকা ও মোবাইল ফোন লুট করে নিয়ে যায়।
পুরো ঘটনার একটি অংশ দোকানের সিসিটিভি ক্যামেরায় ধরা পড়ে। পরে সেই ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে বিষয়টি পুলিশের নজরে আসে। এরপর ডাকাতদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে থানা পুলিশ ও গোয়েন্দা পুলিশের একাধিক দল মাঠে নামে।
পুলিশ সুপার হাবিবুর রহমান জানান, শনিবার রাত থেকে রোববার সকাল পর্যন্ত নারায়ণগঞ্জের বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে ডাকাতির ঘটনায় পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করা হয়। গ্রেপ্তাররা হলেন—আনোয়ার হোসেন (৩২), মিজান (২৬), অনিক (২২), সুমন বেপারী (৩৮) ও রাজু আহমেদ (২৪)।
অভিযানের সময় তাদের কাছ থেকে ডাকাতির ঘটনায় লুট হওয়া স্বর্ণালংকার ও নগদ টাকা উদ্ধার করা হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ। গ্রেপ্তার পাঁচজনের প্রত্যেকের বিরুদ্ধে একাধিক মামলা রয়েছে বলেও সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়।
স্বর্ণের দোকানে ডাকাতির তদন্তের মধ্যেই বন্দরে পৃথক অভিযানে অস্ত্র ও মাদক ব্যবসার সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে আরও দুজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
তারা হলেন—মতিউর রহমান জনি ওরফে ব্লাক জনি (৩৯) ও তার সহযোগী রিফাত হাসান (২৬)।
পুলিশ সুপার জানান, শনিবার রাতে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে বন্দরের ঘাড়মোড়া এলাকায় অভিযান চালানো হয়। সেখানে একটি হাঁসের খামারের মাটির নিচে প্লাস্টিকের বস্তায় লুকিয়ে রাখা ১৬টি দেশীয় অস্ত্রের সন্ধান পায় পুলিশ। পরে অস্ত্রগুলো জব্দ করা হয় এবং এ ঘটনায় জনি ও রিফাতকে গ্রেপ্তার করা হয়।
পুলিশের দাবি, জনির বিরুদ্ধে অস্ত্র, চাঁদাবাজি, ছিনতাই ও মাদক ব্যবসাসহ একাধিক মামলা রয়েছে।
একদিকে দিনের আলোয় স্বর্ণের দোকানে ডাকাতি, অন্যদিকে খামারের মাটির নিচে অস্ত্র মজুত—দুটি ঘটনায় বন্দরে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে নতুন করে আলোচনা তৈরি হয়েছে। তবে এসব ঘটনায় আরও কেউ জড়িত কি না, তা খতিয়ে দেখতে পুলিশের অভিযান ও তদন্ত অব্যাহত রয়েছে।