দুর্যোগ মোকাবেলার পরিকল্পনা যেন শুধু কাগজে-কলমে সীমাবদ্ধ না থাকে, বরং বাস্তবে কার্যকর হয়, সে বিষয়ে গুরুত্ব দিয়েছেন রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তিনি বলেছেন, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা হতে হবে বিজ্ঞানভিত্তিক, স্বচ্ছ ও জবাবদিহিমূলক। একই সঙ্গে দুর্যোগের ক্ষয়ক্ষতি কমাতে দূরদর্শী নীতি, সমন্বিত পরিকল্পনা এবং জনগণের সক্রিয় অংশগ্রহণ নিশ্চিত করার ওপর জোর দিয়েছেন তিনি।
মঙ্গলবার সকালে রাজধানীর চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে আন্তর্জাতিক দুর্যোগ প্রশমন দিবস উপলক্ষে আয়োজিত এক আলোচনাসভায় এসব কথা বলেন রাষ্ট্রপতি। অনুষ্ঠানে তিনি দেশের দুর্যোগ মোকাবেলার সক্ষমতা বাড়ানো এবং ঝুঁকি কমাতে পরিকল্পিত উদ্যোগ গ্রহণের প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরেন।
রাষ্ট্রপতি বলেন, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনার অন্যতম শক্তি হচ্ছে জনগণের অংশগ্রহণ। দুর্যোগের আগে প্রস্তুতি, দুর্যোগ চলাকালে উদ্ধার ও সহায়তা কার্যক্রম এবং পরবর্তী পুনর্বাসন—প্রতিটি পর্যায়ে সংশ্লিষ্ট সবার সমন্বিত ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ। পরিকল্পনা প্রণয়নের পাশাপাশি সেগুলোর যথাযথ বাস্তবায়ন, নিয়মিত তদারকি এবং দায়িত্বশীলদের জবাবদিহি নিশ্চিত করা প্রয়োজন।
দেশের উদীয়মান ঝুঁকিগুলোর মধ্যে ভূমিকম্পকে অন্যতম হিসেবে উল্লেখ করেন মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তিনি বলেন, নগর এলাকায় ভবন নির্মাণবিধি যথাযথভাবে প্রয়োগ না হওয়ায় ভূমিকম্পের ঝুঁকি বেড়েছে। ঘনবসতিপূর্ণ শহরগুলোতে ভবনের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং নির্মাণসংক্রান্ত নিয়মকানুন কার্যকরভাবে মানা জরুরি। ভূমিকম্পের মতো আকস্মিক দুর্যোগে প্রাণহানি ও সম্পদের ক্ষতি কমাতে আগাম প্রস্তুতি এবং ঝুঁকি বিবেচনায় পরিকল্পনা গ্রহণের ওপরও গুরুত্ব দেন তিনি।
বিশেষ করে নগরায়ণের বিস্তার ও জনবসতির ঘনত্ব বিবেচনায় নিয়ে দুর্যোগ মোকাবেলার পরিকল্পনা সাজানোর প্রয়োজনীয়তা রয়েছে। শুধু জরুরি পরিস্থিতিতে উদ্ধার তৎপরতা চালানো নয়, বরং দুর্যোগের আগেই ঝুঁকিপূর্ণ অবকাঠামো চিহ্নিত করা, সচেতনতা বাড়ানো এবং প্রস্তুতিমূলক ব্যবস্থা জোরদার করাও গুরুত্বপূর্ণ।
আলোচনাসভায় দুর্যোগ ব্যবস্থাপনার পরিকল্পনায় নারী, শিশু, প্রবীণ ও প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের বিশেষ গুরুত্ব দেওয়ার আহ্বান জানান রাষ্ট্রপতি। দুর্যোগের সময় এসব জনগোষ্ঠী নানা ধরনের ঝুঁকির মুখে পড়তে পারেন। তাই তাঁদের প্রয়োজন ও সুরক্ষার বিষয়টি পরিকল্পনার কেন্দ্রে রাখতে হবে।
রাষ্ট্রপতির বক্তব্যে দুর্যোগ মোকাবেলায় কার্যকর পরিকল্পনা, বিজ্ঞানভিত্তিক সিদ্ধান্ত, স্বচ্ছতা, জবাবদিহি এবং জনসম্পৃক্ততার বিষয়গুলো গুরুত্ব পায়। এসব উদ্যোগ বাস্তবায়নের মাধ্যমে দুর্যোগের ক্ষয়ক্ষতি কমানো এবং মানুষের জীবন ও সম্পদের নিরাপত্তা বাড়ানো সম্ভব।