
বৃহস্পতিবার (২২ অক্টোবর) সৌদি আরবের জেনারেল অথরিটি অব সিভিল এভিয়েশনের (জিএসিএ) বরাতে এ তথ্য প্রকাশ করেছে তুরস্কভিত্তিক সংবাদমাধ্যম ডেইলি সাবাহ।
জিএসিএর বিবৃতিতে বলা হয়, হামলার ঘটনায় প্রথমে একজনের মৃত্যুর খবর জানানো হয়েছিল। পরে পরিস্থিতি পর্যালোচনা ও তথ্য হালনাগাদের পর নিহতের সংখ্যা বেড়ে দুজনে দাঁড়ায়। আহত আটজনের মধ্যে সৌদি আরবের একজন, ভারতের দুজন, ইয়েমেনের দুজন, বাংলাদেশের দুজন এবং নেপালের একজন নাগরিক রয়েছেন।
আহত ব্যক্তিদের বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। তবে তাঁদের শারীরিক অবস্থার বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য তাৎক্ষণিকভাবে জানানো হয়নি। হামলার ধরন, কী পরিমাণ ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে এবং এর পেছনে কারা জড়িত—এসব বিষয়েও বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করা হয়নি।
হামলার পর নিরাপত্তাব্যবস্থা জোরদার করে বিমানবন্দরের কার্যক্রম পুনরায় চালু করা হয়েছে বলে জানিয়েছে সৌদি কর্তৃপক্ষ। সংশ্লিষ্ট নিরাপত্তা সংস্থাগুলোর সঙ্গে সমন্বয় করে ঘটনার ক্ষয়ক্ষতি নিরূপণ এবং যাত্রী ও বিমানবন্দরের কর্মীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার কাজ চলছে।
জিএসিএ জানিয়েছে, দেশের বেসামরিক বিমান চলাচল ব্যবস্থার নিরাপত্তা বজায় রাখতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে। বিমানবন্দরের মতো গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনায় হামলার ঘটনায় যাত্রীদের নিরাপত্তা, ফ্লাইট পরিচালনা এবং আঞ্চলিক বিমান চলাচলের ওপর সম্ভাব্য প্রভাব নিয়েও উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।
বিশ্লেষকদের মতে, ইয়েমেনের সশস্ত্র বিদ্রোহী গোষ্ঠী হুতি এবং সৌদি নেতৃত্বাধীন জোটের মধ্যে চলমান সংঘাতের প্রেক্ষাপটে বিমানবন্দরে হামলার ঘটনাটি ঘটেছে। অতীতে এই সংঘাতকে কেন্দ্র করে সৌদি আরবের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো, বিমানবন্দর ও জ্বালানি স্থাপনা লক্ষ্য করে হামলার ঘটনা ঘটেছে।
এসব হামলার কারণে দেশটির বিমান চলাচল ও অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডেও বিঘ্ন সৃষ্টি হয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। নিরাপত্তা পরিস্থিতির অবনতির কারণে রিয়াদের প্রধান বিমানবন্দর বন্ধ রাখা এবং একটি বড় বিনিয়োগ সম্মেলন পিছিয়ে দেওয়ার ঘটনাও সামনে এসেছে। তবে দাম্মাম বিমানবন্দরের সর্বশেষ হামলার সঙ্গে এসব ঘটনার সুনির্দিষ্ট যোগসূত্র সম্পর্কে কর্তৃপক্ষের বিস্তারিত বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
সরকারি পরিসংখ্যানের ভিত্তিতে বার্তা সংস্থা এএফপির হিসাব অনুযায়ী, চলতি মাসে সৌদি আরবের বিমানবন্দরগুলোতে হামলার ঘটনায় মোট ২২ জন নিহত হয়েছেন। এর আগে গত ১১ অক্টোবরও দাম্মামের কিং ফাহাদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে হামলার ঘটনা ঘটেছিল।
পরপর হামলার ঘটনায় সৌদি আরবের গুরুত্বপূর্ণ বিমান চলাচল অবকাঠামোর নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে। বিশেষ করে আন্তর্জাতিক যাত্রী, প্রবাসী শ্রমিক এবং বিমানবন্দরে কর্মরত বিভিন্ন দেশের নাগরিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এখন গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে।
দাম্মাম সৌদি আরবের পূর্বাঞ্চলের একটি গুরুত্বপূর্ণ শহর। কিং ফাহাদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর দেশটির অন্যতম প্রধান বিমানবন্দর হিসেবে অভ্যন্তরীণ ও আন্তর্জাতিক যোগাযোগে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। সেখানে হামলায় দুই বাংলাদেশি আহত হওয়ার ঘটনায় সৌদি আরবে বসবাসরত বাংলাদেশি প্রবাসীদের মধ্যেও উদ্বেগ তৈরি হতে পারে।
তবে আহত বাংলাদেশিদের নাম, তাঁদের কর্মস্থল, বর্তমান শারীরিক অবস্থা কিংবা ঘটনার পর তাঁদের বিষয়ে বাংলাদেশ দূতাবাসের কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে কি না—এসব তথ্য তাৎক্ষণিকভাবে জানা যায়নি। একইভাবে হামলার জন্য দায়ী ব্যক্তি বা গোষ্ঠী সম্পর্কে সৌদি কর্তৃপক্ষের চূড়ান্ত ঘোষণা পাওয়া যায়নি। ফলে ঘটনার পূর্ণাঙ্গ চিত্র জানতে তদন্তের পরবর্তী তথ্যের অপেক্ষা করতে হবে।