
র্যালিকে কেন্দ্র করে সকাল থেকেই নয়াপল্টন ও আশপাশের এলাকায় নেতাকর্মীদের উপস্থিতি বাড়তে থাকে। রাজধানীর বিভিন্ন থানা, ওয়ার্ড এবং ঢাকার আশপাশের জেলা ও উপজেলা থেকে খণ্ড খণ্ড মিছিল নিয়ে দলীয় কার্যালয়ের সামনে জড়ো হন বিএনপি এবং এর অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা। সময় গড়ানোর সঙ্গে সঙ্গে পুরো এলাকায় উৎসবমুখর পরিবেশ তৈরি হয়।
অংশগ্রহণকারীদের অনেকের হাতে ছিল জাতীয় ও দলীয় পতাকা, ব্যানার, ফেস্টুন এবং বিএনপির শীর্ষ নেতাদের ছবি সংবলিত প্ল্যাকার্ড। বিভিন্ন স্লোগানে মুখর হয়ে ওঠে নয়াপল্টন ও এর আশপাশের সড়ক। র্যালিতে অংশ নিতে আসা নেতাকর্মীদের উপস্থিতিতে কেন্দ্রীয় কার্যালয়কেন্দ্রিক এলাকায় ব্যাপক জনসমাগম দেখা যায়।
র্যালি শুরুর আগে নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে আয়োজিত সংক্ষিপ্ত সমাবেশে বক্তব্য দেন দলের চেয়ারম্যান তারেক রহমান। এ সময় দলের ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব, জাতীয় স্থায়ী কমিটির সদস্যসহ কেন্দ্রীয় পর্যায়ের জ্যেষ্ঠ নেতারা উপস্থিত ছিলেন। সমাবেশ শেষে তাঁর নেতৃত্বেই আনুষ্ঠানিকভাবে র্যালি শুরু হয়।
আয়োজকদের পরিকল্পনা অনুযায়ী, নয়াপল্টন থেকে শুরু হওয়া র্যালিটি প্রধান বিচারপতির বাসভবন ও হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টালের সামনে দিয়ে বাংলামোটর ও ফার্মগেট অতিক্রম করে মানিক মিয়া অ্যাভিনিউয়ে গিয়ে শেষ হওয়ার কথা রয়েছে। নির্ধারিত এই পথ ধরে র্যালিটি এগিয়ে নেওয়ার জন্য দলীয় পর্যায়ে প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি নেওয়া হয়।
র্যালিকে কেন্দ্র করে সড়কে শৃঙ্খলা বজায় রাখা এবং কর্মসূচি শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্ন করতে বিএনপির পক্ষ থেকে বিশেষ ব্যবস্থা নেওয়া হয়। দলটির স্বেচ্ছাসেবকেরা বিভিন্ন স্থানে দায়িত্ব পালন করেন। র্যালির গতিপথে শৃঙ্খলা রক্ষা, অংশগ্রহণকারীদের চলাচল নিয়ন্ত্রণ এবং সাধারণ মানুষের ভোগান্তি কমানোর বিষয়েও নজর রাখা হয়।
অন্যদিকে, সম্ভাব্য যানজট ও অপ্রীতিকর পরিস্থিতি এড়াতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যদের সতর্ক অবস্থানে থাকতে দেখা যায়। রাজধানীর গুরুত্বপূর্ণ সড়ক ও র্যালির নির্ধারিত পথ ঘিরে নিরাপত্তার বিষয়টি গুরুত্ব পায়। এ ধরনের বড় রাজনৈতিক কর্মসূচিতে জনসমাগমের পাশাপাশি যান চলাচল স্বাভাবিক রাখাও প্রশাসনের জন্য গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হয়ে দাঁড়ায়।
জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস উপলক্ষে শুধু রাজধানী ঢাকাতেই নয়, দেশের বিভিন্ন জেলা ও মহানগরেও শনিবার র্যালির আয়োজন করে বিএনপি। কেন্দ্রীয় কর্মসূচির সঙ্গে সমন্বয় রেখে স্থানীয় পর্যায়েও দলীয় নেতাকর্মীরা এসব কর্মসূচিতে অংশ নেন।
দলীয় কর্মসূচির ধারাবাহিকতায় আগামী ৮ নভেম্বর দেশের বিভিন্ন থানা ও উপজেলা পর্যায়ে র্যালি আয়োজনের কথা রয়েছে। এর মধ্য দিয়ে জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস উপলক্ষে বিএনপির ঘোষিত কর্মসূচি তৃণমূল পর্যায়েও বিস্তৃত হচ্ছে।
রাজধানীর নয়াপল্টন থেকে তারেক রহমানের নেতৃত্বে শুরু হওয়া এই র্যালিকে কেন্দ্র করে বিএনপির কেন্দ্রীয় ও স্থানীয় পর্যায়ের নেতাকর্মীদের মধ্যে ব্যাপক সক্রিয়তা দেখা যায়। দলীয় কর্মসূচিতে বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীদের অংশগ্রহণের মধ্য দিয়ে দিবসটি উপলক্ষে বিএনপির সাংগঠনিক উপস্থিতিও তুলে ধরার চেষ্টা করা হয়।