দেশে ডেঙ্গু পরিস্থিতি এখনো উদ্বেগজনক। গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে ৮৬৮ জন ডেঙ্গু আক্রান্ত রোগী দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। তবে এই সময়ে ডেঙ্গুতে কারও মৃত্যু হয়নি।
বৃহস্পতিবার স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হেলথ ইমার্জেন্সি অপারেশন সেন্টার ও কন্ট্রোলরুম থেকে পাঠানো ডেঙ্গুবিষয়ক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এসব তথ্য জানানো হয়।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হিসাব অনুযায়ী, নতুন আক্রান্তদের মধ্যে সবচেয়ে বেশি রোগী ভর্তি হয়েছেন ঢাকা বিভাগে। এ বিভাগে গত এক দিনে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ৩১৬ জন। এরপর রয়েছে খুলনা বিভাগ, যেখানে নতুন রোগীর সংখ্যা ২০৫ জন। বরিশাল বিভাগে ১১০ জন এবং চট্টগ্রাম বিভাগে ১০৯ জন ডেঙ্গুরোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন।
এ ছাড়া রাজশাহী বিভাগে ৭৩ জন, ময়মনসিংহ বিভাগে ৩৮ জন এবং রংপুর বিভাগে ১৭ জন নতুন রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। অর্থাৎ রাজধানী ও আশপাশের পাশাপাশি দেশের বিভিন্ন বিভাগেও ডেঙ্গুর সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়ার চিত্র পাওয়া যাচ্ছে।
চলতি বছরের ২৬ আগস্ট পর্যন্ত দেশে ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি রোগীর মোট সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৩২ হাজার ২৪৮ জন। এর মধ্যে চিকিৎসা নিয়ে সুস্থ হয়ে হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র পেয়েছেন ৩০ হাজার ৭৭ জন। বর্তমানে দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন ২ হাজার ৮৩ জন।
এ বছর ডেঙ্গুতে এখন পর্যন্ত মোট ৮৮ জনের মৃত্যু হয়েছে। যদিও সর্বশেষ ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে কোনো মৃত্যুর খবর পাওয়া যায়নি। ফলে মৃত্যুর মোট সংখ্যা অপরিবর্তিত রয়েছে।
গত এক দিনে বিভাগভিত্তিক হাসপাতালে ভর্তি রোগীর চিত্রে দেখা যায়, ঢাকা ও খুলনা বিভাগে সংক্রমণের চাপ তুলনামূলক বেশি। বিশেষ করে ৩১৬ জন নতুন রোগী নিয়ে ঢাকা বিভাগ এককভাবে সবচেয়ে বেশি রোগীর তালিকায় রয়েছে। রাজধানী ঢাকাসহ ঘনবসতিপূর্ণ এলাকাগুলোতে এডিস মশার বিস্তার ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণে বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
ডেঙ্গুর মৌসুমে জ্বর, শরীর ব্যথা, মাথাব্যথা, চোখের পেছনে ব্যথা, বমি বা অতিরিক্ত দুর্বলতার মতো উপসর্গ দেখা দিলে অবহেলা না করে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি। বিশেষ করে জ্বর কমে যাওয়ার পরও রোগীর অবস্থা খারাপ হতে পারে বলে চিকিৎসকেরা সতর্ক করে থাকেন।
ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণে ব্যক্তিগত সচেতনতার পাশাপাশি মশার প্রজননস্থল ধ্বংস করা গুরুত্বপূর্ণ। বাড়ি, অফিস, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও আশপাশের এলাকায় জমে থাকা পানি নিয়মিত পরিষ্কার করা, পানির পাত্র ঢেকে রাখা এবং অপ্রয়োজনীয় পাত্র বা বস্তু সরিয়ে ফেলা এডিস মশার বিস্তার কমাতে সহায়ক হতে পারে।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সর্বশেষ হিসাব বলছে, দেশে ডেঙ্গু আক্রান্তের সংখ্যা ইতোমধ্যে ৩২ হাজার ছাড়িয়েছে। এক দিনে নতুন করে ৮৬৮ জনের হাসপাতালে ভর্তি হওয়ার ঘটনা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে নজরদারি ও প্রতিরোধমূলক কার্যক্রম আরও জোরদারের প্রয়োজনীয়তাই সামনে আনছে।