দেশে ডেঙ্গুর সংক্রমণ বাড়তে থাকায় পরিস্থিতি নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। গত ২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে আরও দুইজনের মৃত্যু হয়েছে। একই সময়ে দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে নতুন করে ভর্তি হয়েছেন ৯৯৬ জন ডেঙ্গুরোগী। ফলে চলতি বছরে ডেঙ্গুতে মৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৯০ জনে।
শনিবার (২৯ আগস্ট) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হেলথ ইমার্জেন্সি অপারেশন সেন্টার ও কন্ট্রোলরুম থেকে প্রকাশিত ডেঙ্গুবিষয়ক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এসব তথ্য জানানো হয়।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হিসাবে, গত ২৪ ঘণ্টায় হাসপাতালে ভর্তি হওয়া ৯৯৬ রোগীর মধ্যে সবচেয়ে বেশি রোগী রয়েছেন ঢাকা বিভাগে। এ বিভাগে নতুন করে ৩৯১ জন ডেঙ্গুরোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। এরপর খুলনা বিভাগে ২৬৩ জন এবং বরিশাল বিভাগে ১৩৪ জন রোগী ভর্তি হয়েছেন।
চট্টগ্রাম বিভাগে নতুন রোগী ভর্তি হয়েছেন ১০৩ জন। ময়মনসিংহ বিভাগে ৪৫ জন, রাজশাহী বিভাগে ৩৬ জন, রংপুর বিভাগে ২১ জন এবং সিলেট বিভাগে তিনজন ডেঙ্গুরোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন।
অঞ্চলভেদে নতুন রোগী ভর্তির এই পরিসংখ্যান থেকে দেখা যায়, রাজধানী ও এর আশপাশের পাশাপাশি দেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চল ও দক্ষিণাঞ্চলেও ডেঙ্গুর চাপ রয়েছে। বিশেষ করে ঢাকা ও খুলনা বিভাগে এক দিনে কয়েক শ রোগী হাসপাতালে ভর্তি হওয়া সংক্রমণের বিস্তারের একটি গুরুত্বপূর্ণ চিত্র তুলে ধরছে।
চলতি বছরের ২৯ আগস্ট পর্যন্ত দেশে ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন মোট ৩৩ হাজার ৫৮৬ জন। এর মধ্যে চিকিৎসা নিয়ে সুস্থ হয়ে হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র পেয়েছেন ৩১ হাজার ৩৯৫ জন। বর্তমানে দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন ২ হাজার ১০১ জন।
গত ২৪ ঘণ্টার দুই মৃত্যুর ফলে চলতি বছরে ডেঙ্গুতে মোট মৃতের সংখ্যা ৯০ জনে পৌঁছেছে। নতুন রোগী শনাক্ত ও হাসপাতালে ভর্তির পাশাপাশি মৃত্যুর ঘটনাও অব্যাহত থাকায় ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণে নজরদারি ও প্রতিরোধমূলক কার্যক্রম জোরদারের প্রয়োজনীয়তা সামনে এসেছে।
ডেঙ্গু সাধারণত এডিস মশার মাধ্যমে ছড়ায়। বর্ষাকালে জমে থাকা স্বচ্ছ পানিতে এ মশার প্রজননের সুযোগ তৈরি হওয়ায় সংক্রমণের ঝুঁকি বাড়তে পারে। বাসাবাড়ির ফুলের টব, ছাদ, পরিত্যক্ত পাত্র, ড্রাম কিংবা অন্যান্য পাত্রে জমে থাকা পানি নিয়মিত পরিষ্কার করা ডেঙ্গু প্রতিরোধের গুরুত্বপূর্ণ অংশ।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের চলতি বছরের হিসাবের সঙ্গে আগের বছরের পরিসংখ্যানের তুলনাও পরিস্থিতির গুরুত্ব বোঝায়। ২০২৫ সালের ১ জানুয়ারি থেকে ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত দেশে মোট ১ লাখ ২ হাজার ৮৬১ জন ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছিলেন। ওই বছর ডেঙ্গুতে মৃত্যু হয়েছিল ৪১৩ জনের।
চলতি বছরের ২৯ আগস্ট পর্যন্ত আক্রান্তের সংখ্যা গত বছরের মোট আক্রান্তের তুলনায় কম হলেও বছরের এখনো কয়েক মাস বাকি। ফলে ডেঙ্গুর মৌসুমে সংক্রমণ কোন দিকে যায়, সেটি পরিস্থিতি বোঝার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ হবে।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ২ হাজারের বেশি রোগী। নতুন করে প্রতিদিন বিপুলসংখ্যক রোগী হাসপাতালে ভর্তি হওয়ায় চিকিৎসাব্যবস্থার ওপরও চাপ তৈরি হচ্ছে। ডেঙ্গুতে আক্রান্তদের মধ্যে জ্বরসহ বিভিন্ন উপসর্গ দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া এবং প্রয়োজন অনুযায়ী পরীক্ষা করানো জরুরি বলে স্বাস্থ্যসংশ্লিষ্টরা মনে করেন।