ফেনীর ছাগলনাইয়া সীমান্ত এলাকায় অভিযান চালিয়ে ৩৬ কেজি ভারতীয় গাঁজা ও একটি সিএনজি অটোরিকশা জব্দ করেছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)। তবে অভিযানের সময় মাদক পরিবহনের সঙ্গে জড়িত কাউকে আটক করা সম্ভব হয়নি। জব্দ করা গাঁজা ও যানবাহন পরিত্যক্ত অবস্থায় পাওয়া যায় বলে জানিয়েছে বিজিবি।
শুক্রবার (২৮ আগস্ট) ফেনী ব্যাটালিয়ন (৪ বিজিবি) এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এসব তথ্য জানায়।
বিজিবি সূত্রে জানা গেছে, সীমান্ত এলাকায় মাদক ও চোরাচালান ঠেকাতে নিয়মিত অভিযানের পাশাপাশি বিশেষ নজরদারি চালানো হচ্ছে। এরই অংশ হিসেবে ছাগলনাইয়া সীমান্তের নির্দিষ্ট এলাকায় অভিযান পরিচালনা করেন বিজিবির সদস্যরা। অভিযানের একপর্যায়ে একটি সিএনজি অটোরিকশা পরিত্যক্ত অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখা যায়। পরে যানবাহনটি তল্লাশি করে এর সঙ্গে থাকা ৩৬ কেজি ভারতীয় গাঁজা উদ্ধার করা হয়।
বিজিবির ভাষ্য অনুযায়ী, উদ্ধার করা মাদকদ্রব্য ও সিএনজি অটোরিকশার বিষয়ে প্রয়োজনীয় আইনগত প্রক্রিয়া শুরু করা হয়েছে। জব্দ করা মালামাল সংশ্লিষ্ট থানায় হস্তান্তরের প্রক্রিয়া চলছে।
সীমান্তবর্তী এলাকায় ভারত থেকে বিভিন্ন ধরনের মাদকদ্রব্য অবৈধভাবে বাংলাদেশে প্রবেশ ঠেকাতে বিজিবি নিয়মিত টহল ও অভিযান পরিচালনা করে থাকে। এসব অভিযানে মাদকদ্রব্যের পাশাপাশি চোরাচালানে ব্যবহৃত যানবাহনও জব্দ করা হয়। ছাগলনাইয়া সীমান্তেও মাদক ও চোরাচালান প্রতিরোধে নজরদারি জোরদার করা হয়েছে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।
ফেনী ব্যাটালিয়ন (৪ বিজিবি) অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল এম এম জিল্লুর রহমান বলেন, সীমান্তে মাদক ও চোরাচালান প্রতিরোধে বিজিবির অভিযান অব্যাহত থাকবে। সীমান্ত এলাকায় অবৈধভাবে মাদক আনা-নেওয়া বন্ধ করতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে।
তিনি বলেন, মাদকদ্রব্যের প্রবেশ ঠেকাতে সীমান্তে বিজিবির সদস্যরা সতর্ক অবস্থানে রয়েছেন। নিয়মিত টহলের পাশাপাশি তথ্যের ভিত্তিতে বিভিন্ন এলাকায় বিশেষ অভিযানও পরিচালনা করা হচ্ছে।
এদিকে উদ্ধার হওয়া ৩৬ কেজি গাঁজা ভারতীয় বলে জানিয়েছে বিজিবি। তবে মাদকগুলো কোথা থেকে আনা হয়েছিল বা কারা এগুলো পরিবহনের সঙ্গে জড়িত ছিল, সে বিষয়ে প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে বিস্তারিত কিছু জানানো হয়নি। পরিত্যক্ত অবস্থায় সিএনজি ও গাঁজা উদ্ধারের ঘটনায় সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের শনাক্তে আইনগত প্রক্রিয়া অনুসরণ করা হচ্ছে।
বিজিবি জানিয়েছে, সীমান্ত দিয়ে মাদক ও চোরাচালান বন্ধে তাদের তৎপরতা চলমান থাকবে। মাদকদ্রব্যের অবৈধ প্রবেশ ঠেকানোর পাশাপাশি চোরাচালানে ব্যবহৃত যানবাহন শনাক্ত ও জব্দ করার ওপরও গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। উদ্ধার হওয়া মাদক ও সিএনজি অটোরিকশার বিষয়ে পরবর্তী আইনগত কার্যক্রম সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে সম্পন্ন করা হবে।