
নিহত রবীন্দ্র মনিঋষি ময়মনসিংহের ধোবাউড়া উপজেলার বাসিন্দা। তাঁর বাবার নাম রঞ্জিত মনিঋষি। জীবিকার তাগিদে তিনি ভালুকার জামিরদিয়া এলাকায় বসবাস করতেন। সেখানে কাসেমের বাড়িতে ভাড়া থেকে নিজের সেলুন পরিচালনা করতেন তিনি। ওই সেলুনে চুল কাটার কাজ করেই চলত তাঁর সংসার।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ঘটনার দিন বিকেলে সাদ্দাম হোসেন (২৬) রবীন্দ্রের সেলুনে যান। একপর্যায়ে চুল কাটার টাকা চাওয়াকে কেন্দ্র করে তাঁদের মধ্যে বিরোধের সৃষ্টি হয়। এর জেরে সাদ্দাম ধারালো চাকু দিয়ে রবীন্দ্রের ওপর হামলা চালান। তাঁর বুকে ও গলায় ছুরিকাঘাত করা হয়।
দোকান থেকে বাড়ির উঠান—কোথাও রক্ষা পাননি রবীন্দ্র
স্থানীয়দের বর্ণনা অনুযায়ী, সেলুনে হামলার পর প্রাণ বাঁচাতে রবীন্দ্র দৌড়ে পাশের একটি মুদিদোকানে আশ্রয় নেওয়ার চেষ্টা করেন। দোকানটি অভিযুক্ত সাদ্দামের বাবা বাবুল মিয়ার। কিন্তু সেখানেও তাঁর ওপর হামলা চালানো হয়। একপর্যায়ে রবীন্দ্র পাশের একটি বাড়িতে আশ্রয় নেওয়ার চেষ্টা করেন। সেখানেও তাঁর ওপর ছুরিকাঘাত করা হয়। বাড়ির উঠানে গুরুতর আহত অবস্থায় পড়ে যান তিনি। পরে তাঁর মৃত্যু হয়।
ঘটনার আকস্মিকতায় স্থানীয়দের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য হাসপাতালে পাঠায়। কী পরিস্থিতিতে বিরোধটি প্রাণঘাতী হামলায় রূপ নেয়, তা খতিয়ে দেখছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী।
আগেও হত্যার হুমকি দেওয়ার অভিযোগ স্ত্রীর
নিহত রবীন্দ্রের স্ত্রী সূচিত্রা রানী ঋষি অভিযোগ করেছেন, সাদ্দাম প্রায়ই তাঁর স্বামীর কাছ থেকে নেশা করার জন্য টাকা নিতেন। এ ছাড়া সেলুনে চুল কাটিয়ে পারিশ্রমিক না দেওয়ার ঘটনাও ঘটত। এসব বিষয় নিয়ে তাঁদের মধ্যে বিরোধ ছিল বলে দাবি করেন তিনি। তাঁর অভিযোগ, এর আগেও সাদ্দাম তাঁর স্বামীকে হত্যার হুমকি দিয়েছিলেন।
তবে স্ত্রীর এসব অভিযোগের বিষয়ে তদন্তের বিস্তারিত তথ্য এখনো জানা যায়নি। ঘটনার পেছনে অর্থ লেনদেন ও পূর্ববিরোধের ভূমিকা ছিল কি না, তা তদন্তের মাধ্যমে নিশ্চিত হওয়া যাবে।
অভিযুক্তকে আটক, আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন
ভালুকা মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম জানান, হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগে মঙ্গলবার রাত সোয়া আটটার দিকে জামিরদিয়া এলাকা থেকে সাদ্দাম হোসেনকে আটক করা হয়েছে। তিনি একই এলাকার বাসিন্দা বাবুল মিয়ার ছেলে।
ওসি আরও জানান, এ ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার প্রক্রিয়া চলছে। হত্যাকাণ্ডের প্রকৃত কারণ, হামলার ধারাবাহিকতা এবং সংশ্লিষ্ট অভিযোগগুলো তদন্তের মাধ্যমে যাচাই করা হবে।
একজন মানুষের জীবিকার জন্য পরিচালিত ছোট্ট সেলুনকে ঘিরে শুরু হওয়া বিরোধ শেষ পর্যন্ত প্রাণঘাতী ঘটনায় রূপ নেওয়ায় এলাকায় উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। পারিশ্রমিক নিয়ে বিরোধ থাকলেও তা মেটানোর জন্য আইনসম্মত পথ রয়েছে। ব্যক্তিগত বিরোধে সহিংসতার আশ্রয় নেওয়া যে কতটা ভয়াবহ পরিণতি ডেকে আনতে পারে, রবীন্দ্র মনিঋষির মৃত্যু সেই বাস্তবতাই সামনে এনেছে।