চুয়াডাঙ্গা পৌর এলাকার রেলপাড়ায় একটি ভাড়া বাসা থেকে জাহানারা (৫০) নামে এক নারীর ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। শনিবার (২৯ আগস্ট) সকালে নিজ বসতঘর থেকে তাঁর মরদেহ উদ্ধার করা হয়। পরে ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহ চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে।
নিহতের মৃত্যু আত্মহত্যা নাকি অন্য কোনো কারণে হয়েছে, তা নিয়ে স্বজনদের মধ্যে সন্দেহ দেখা দিয়েছে। এ কারণে ঘটনাটিকে গুরুত্ব দিয়ে মৃত্যুর প্রকৃত কারণ অনুসন্ধান করছে পুলিশ।
জাহানারা চুয়াডাঙ্গা শহরের মসজিদপাড়ার মো. জামাল শেখের স্ত্রী। প্রায় আট মাস ধরে তিনি স্বামীর সঙ্গে রেলপাড়া এলাকায় মো. তৌফিকুল ইসলাম জোয়ার্দারের বাড়িতে ভাড়া থাকতেন।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্র জানায়, শনিবার সকালে বাড়ির একটি কক্ষে সিলিংয়ের সঙ্গে ওড়না পেঁচানো অবস্থায় জাহানারার মরদেহ দেখতে পাওয়া যায়। বিষয়টি জানাজানি হলে স্থানীয়দের মধ্যে চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়। পরে খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করে।
নিহতের স্বামী জামাল শেখের দাবি, তাঁর স্ত্রী দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন শারীরিক জটিলতায় ভুগছিলেন। বিশেষ করে পিত্তথলি, লিভার ও পাকস্থলীর সমস্যায় তিনি ভুগেছেন। এসব সমস্যার চিকিৎসায় তাঁর শরীরে একাধিক অস্ত্রোপচারও করা হয়েছিল। দীর্ঘদিনের শারীরিক অসুস্থতা থেকে তৈরি হওয়া কষ্ট ও মানসিক চাপের কারণে তিনি আত্মহত্যা করে থাকতে পারেন বলে ধারণা করছেন স্বামী।
তবে জাহানারার স্বজনেরা বিষয়টিকে এত সহজভাবে দেখছেন না। তাঁদের মধ্যে মৃত্যুর কারণ নিয়ে সন্দেহ তৈরি হয়েছে। পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, পারিবারিক বিভিন্ন বিষয় নিয়ে জাহানারার সঙ্গে পরিবারের সদস্যদের মনোমালিন্য চলছিল। বিশেষ করে পুত্রবধূর সঙ্গে তাঁর সম্পর্কের টানাপোড়েন ছিল বলে জানা গেছে। এসব বিষয় মৃত্যুর ঘটনার সঙ্গে কোনোভাবে সম্পর্কিত কি না, তা নিয়েও স্বজনেরা প্রশ্ন তুলেছেন।
স্বজনদের সন্দেহের কারণে পুলিশও ঘটনাটিকে শুধু আত্মহত্যা হিসেবে ধরে নিচ্ছে না। মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়েছে। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদনের পাশাপাশি ঘটনাস্থলের পরিস্থিতি ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বক্তব্য পর্যালোচনা করে মৃত্যুর কারণ নিশ্চিত করার চেষ্টা করা হবে।
চুয়াডাঙ্গা সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মারুফ রহমান বলেন, জাহানারা দীর্ঘদিন ধরে শারীরিক নানা জটিলতায় ভুগছিলেন। একই সঙ্গে তাঁর পারিবারিক কিছু মনোমালিন্যের বিষয়ও জানা গেছে। তবে স্বজনেরা মৃত্যুর ঘটনায় সন্দেহ প্রকাশ করায় প্রকৃত কারণ জানতে ময়নাতদন্তের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
ওসি আরও বলেন, ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন হাতে পাওয়ার পর মৃত্যুর সঠিক কারণ সম্পর্কে ধারণা পাওয়া যাবে। পাশাপাশি ঘটনাটির অন্যান্য দিকও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
পুলিশের তদন্ত ও ময়নাতদন্তের ফলাফল না পাওয়া পর্যন্ত জাহানারার মৃত্যুকে আত্মহত্যা বা হত্যাকাণ্ড—কোনোটিই নিশ্চিত করে বলা যাচ্ছে না। বর্তমানে মৃত্যুর কারণ নির্ধারণই তদন্তের প্রধান বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে।