টাঙ্গাইলের ভূঞাপুরে একটি শিল্পপ্রতিষ্ঠানে পাঁচ লাখ টাকা চাঁদা দাবি ও হত্যার হুমকি দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় কয়েকজন যুবকের বিরুদ্ধে। এ ঘটনার পর আতঙ্কিত হয়ে প্রতিষ্ঠানটির ম্যানেজার সাজিদুর রহমান ওরফে শাহজাহান স্ট্রোক করে মারা গেছেন বলে মামলার অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।
এ ঘটনায় গত ২৭ আগস্ট ভূঞাপুর থানায় হত্যা মামলা করেছেন ওই শিল্পপ্রতিষ্ঠানের সুপারভাইজার আকতার হোসেন। মামলায় তিনজনের নাম উল্লেখ করা হয়েছে। তারা হলেন—পাথাইলকান্দী গ্রামের আসলাম মিয়ার ছেলে ওয়ারেস, আব্দুল হাইয়ের ছেলে লিখন এবং সার পলশিয়া গ্রামের বাছেদের ছেলে শামীম।
মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, ভূঞাপুরের ফুড অফিসার্স যমুনা জুট ইন্ডাস্ট্রি নামের প্রতিষ্ঠানটিতে স্থানীয় কয়েকজন যুবক বিভিন্ন সময়ে পাঁচ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করে আসছিলেন। টাকা না দেওয়ায় গত ২২ আগস্ট রাতে চার থেকে পাঁচজন যুবক প্রতিষ্ঠানে গিয়ে ম্যানেজার শাহজাহানকে ভয়ভীতি দেখান বলে অভিযোগ করা হয়েছে।
এ সময় তারা ২৪ আগস্ট আবার প্রতিষ্ঠানে এসে পাঁচ লাখ টাকা নিয়ে যাওয়ার কথা জানান। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে টাকা প্রস্তুত না রাখলে শাহজাহানকে হত্যা করে গুম করার হুমকি দেওয়া হয় বলেও মামলার অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।
এই ঘটনার পর থেকেই শাহজাহান আতঙ্কিত হয়ে পড়েন বলে দাবি করেছেন মামলার বাদী। পরিবারের পাশাপাশি কর্মস্থলেও তার মধ্যে উদ্বেগ ও ভয়ের পরিস্থিতি তৈরি হয়েছিল বলে অভিযোগে বলা হয়েছে।
মামলার তথ্য অনুযায়ী, ২৪ আগস্ট সন্ধ্যায় কয়েকজন যুবক মোটরসাইকেলে করে আবার ওই শিল্পপ্রতিষ্ঠানে আসেন এবং শাহজাহানকে খুঁজতে থাকেন। এ সময় আতঙ্কিত হয়ে তিনি অসুস্থ হয়ে পড়েন এবং স্ট্রোকে আক্রান্ত হন বলে অভিযোগ করা হয়েছে। পরে তাকে দ্রুত হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।
শাহজাহানের মৃত্যুর পর ঘটনাটি নিয়ে এলাকায় আলোচনা তৈরি হয়। পরে তার কর্মস্থলের সুপারভাইজার আকতার হোসেন থানায় গিয়ে তিনজনের নাম উল্লেখ করে হত্যা মামলা করেন। মামলায় চাঁদা দাবি, হত্যার হুমকি এবং এর পরিপ্রেক্ষিতে ম্যানেজারের মৃত্যুর বিষয়গুলো তুলে ধরা হয়েছে।
তবে শাহজাহানের মৃত্যুর সঙ্গে চাঁদা দাবির ঘটনার সরাসরি সম্পর্ক কীভাবে প্রতিষ্ঠিত হবে, সেটি তদন্তের বিষয়। পুলিশ মামলার অভিযোগ যাচাই করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার কথা জানিয়েছে।
ভূঞাপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) একেএম রেজাউল করিম বলেন, এ ঘটনায় থানায় লিখিত অভিযোগ পাওয়া গেছে। মামলার আসামিদের গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
পুলিশের তদন্তে চাঁদা দাবির অভিযোগ, হুমকির ঘটনা এবং শাহজাহানের মৃত্যুর পারস্পরিক সম্পর্কসহ সংশ্লিষ্ট অন্যান্য বিষয় খতিয়ে দেখা হবে। অভিযোগের সত্যতা ও ঘটনার প্রকৃত কারণ তদন্ত শেষে আরও স্পষ্ট হবে।