
রোববার (২৫ অক্টোবর) গোপালগঞ্জ সদর থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মো. ফুলমিয়া বাদী হয়ে মামলাটি করেন। এতে ৪০ জনের নাম উল্লেখ করা হয়েছে। পাশাপাশি অজ্ঞাতনামা আরও ৬০ জনকে আসামি করা হয়েছে।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, একই ঘটনায় এর আগে গ্রেপ্তার হওয়া সাতজনকে রোববার আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়। পরে নতুন করে আরও ১৮ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়। তবে সর্বশেষ গ্রেপ্তার হওয়া ব্যক্তিদের পরিচয় এবং তাঁদের বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্ট অভিযোগের বিস্তারিত পুলিশ প্রকাশ করেছে কি না, সে বিষয়ে প্রতিবেদনে তথ্য উল্লেখ করা হয়নি।
পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, শনিবার (২৪ অক্টোবর) গোপালগঞ্জ সদর উপজেলার রঘুনাথপুর বুড়িমার গাছতলা এলাকায় এ হামলার ঘটনা ঘটে। ওই এলাকায় ছাত্রলীগ ও যুবলীগের একদল নেতা-কর্মী ঝটিকা মিছিল বের করেন। মিছিল থেকে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার পক্ষে এবং ‘জয় বাংলা’ স্লোগান দেওয়া হচ্ছিল বলে জানিয়েছে পুলিশ।
এ সময় এলাকায় নিয়মিত টহলে থাকা পুলিশের একটি দল মিছিলটি দেখতে পায়। পুলিশ সদস্যরা মিছিলটি থামানোর চেষ্টা করলে পরিস্থিতির অবনতি ঘটে। অভিযোগ অনুযায়ী, মিছিলে অংশ নেওয়া ব্যক্তিদের একাংশ লাঠিসোঁটা ও দেশীয় অস্ত্র নিয়ে পুলিশের ওপর আকস্মিক হামলা চালায়। একপর্যায়ে তাঁরা পুলিশের একটি পিকআপ ভ্যান ভাঙচুর করেন।
এ ঘটনায় মামলার বাদী এসআই মো. ফুলমিয়াসহ পুলিশের দুই সদস্য আহত হন। আহত পুলিশ সদস্যদের শারীরিক অবস্থা সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য পাওয়া যায়নি। হামলার সময় ঘটনাস্থলে ঠিক কতজন উপস্থিত ছিলেন, সে বিষয়েও সুনির্দিষ্ট কোনো তথ্য জানানো হয়নি।
গোপালগঞ্জের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার কাজী হুমায়ুন রশীদ গ্রেপ্তারের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। এ ঘটনায় জড়িত অন্য আসামিদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে পুলিশের অভিযান চলছে।
পুলিশের ওপর হামলা, সরকারি দায়িত্ব পালনে বাধা এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর যানবাহন ভাঙচুরের মতো ঘটনায় সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে প্রচলিত আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়ার সুযোগ রয়েছে। তবে এ মামলায় গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগের চূড়ান্ত সত্যতা আদালতের বিচারিক প্রক্রিয়ায় নির্ধারিত হবে।
এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত ২৫ জন গ্রেপ্তার হলেও মামলার বাকি আসামিদের গ্রেপ্তারের বিষয়ে পরবর্তী সময়ে পুলিশের পক্ষ থেকে আরও তথ্য আসতে পারে। একই সঙ্গে হামলার ঘটনার পূর্ণাঙ্গ বিবরণ এবং আহত পুলিশ সদস্যদের বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য পাওয়া গেলে ঘটনার সামগ্রিক চিত্র আরও স্পষ্ট হবে।