গণহত্যা ও মানবতাবিরোধী অপরাধের সঙ্গে জড়িতদের বিচারের আওতায় আনতে প্রয়োজন হলে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের সংখ্যা আরও বাড়ানো হবে বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। তিনি বলেছেন, বিচারপ্রক্রিয়া চলমান থাকবে এবং অপরাধে জড়িতদের আইনের আওতায় আনার ক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় সক্ষমতা বাড়ানো হবে।
শনিবার (২৬ সেপ্টেম্বর) রাজধানীর ধোলাইখালের মেয়র সাদেক হোসেন খোকা মাঠে বিএনপি আয়োজিত এক সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। ‘পরিকল্পিত সন্ত্রাসের মাধ্যমে দেশকে অস্থিতিশীল করার অপচেষ্টার প্রতিবাদে’ এ সমাবেশের আয়োজন করা হয়।
সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল চালু আছে এবং বিচারকাজ অব্যাহত থাকবে। মামলার পরিমাণ ও প্রয়োজনীয়তা বিবেচনায় ট্রাইব্যুনালের সংখ্যা বাড়ানোর পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট জনবল ও অন্যান্য সক্ষমতা বৃদ্ধির বিষয়েও সরকার পদক্ষেপ নিতে পারে বলে জানান তিনি।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর ভাষ্য, যারা দেশে গণহত্যা চালিয়েছে এবং মানুষের ওপর গুলি চালিয়েছে, তাদের প্রত্যেককে বিচারের মুখোমুখি করা হবে। গত ১৭ বছরে মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে যাদের বিরুদ্ধে মামলা ও তদন্ত রয়েছে, তাদেরও আইনি প্রক্রিয়ার আওতায় আনার কথা বলেন তিনি।
এর আগে জাতীয় সংসদে জুলাই গণহত্যার বিচার নিয়ে আলোচনায়ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জানিয়েছিলেন, প্রয়োজন হলে ট্রাইব্যুনাল, প্রসিকিউশন দল, তদন্ত কর্মকর্তা এবং প্রয়োজনীয় সহায়ক জনবল বাড়ানো হবে। সংসদে দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, জুলাই-সংক্রান্ত বিপুলসংখ্যক অভিযোগের মধ্য থেকে যাচাই-বাছাই করে মামলা গ্রহণ এবং তদন্ত ও বিচার কার্যক্রম এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে। (bdnews24.com)
সমাবেশে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে দেশে ফিরিয়ে এনে বিচারের মুখোমুখি করার বিষয়েও কথা বলেন সালাহউদ্দিন আহমদ। তিনি বলেন, শেখ হাসিনাকে ফেরত পাঠানোর জন্য বাংলাদেশ সরকারের পক্ষ থেকে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে ভারতের কাছে আনুষ্ঠানিকভাবে অনুরোধ জানানো হয়েছে। তবে এখন পর্যন্ত ভারত সরকারের কাছ থেকে কোনো জবাব পাওয়া যায়নি বলে দাবি করেন তিনি।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, মানবতাবিরোধী অপরাধে সাজাপ্রাপ্ত আসামি ও তাদের সহযোগীরা যেসব দেশে অবস্থান করছেন, সেসব দেশের কাছেও তাদের বাংলাদেশে ফেরত পাঠানোর আহ্বান জানানো হয়েছে। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, দেশে ফিরে কেউ আপিলের সুযোগ চাইলে আইনগতভাবে সেই সুযোগ দেওয়ার ব্যবস্থা থাকবে।
সমাবেশে বিএনপির এই নেতা দেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়েও বক্তব্য দেন। তাঁর দাবি, বিএনপি সরকার দেশের স্থিতিশীলতা বজায় রাখা, গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠান শক্তিশালী করা এবং ভবিষ্যতে স্বৈরাচারী পরিস্থিতির পুনরাবৃত্তি ঠেকাতে সাংবিধানিক পরিবর্তনের পক্ষে কাজ করছে।
সংবিধান সংস্কার প্রক্রিয়ায় অংশগ্রহণের জন্য সরকার বিভিন্ন রাজনৈতিক পক্ষকে আহ্বান জানিয়েছে বলেও উল্লেখ করেন তিনি। তবে তাঁর অভিযোগ, বিরোধী পক্ষের কেউ কেউ আলোচনায় অংশ না নিয়ে রাজপথে আন্দোলনের কর্মসূচি বেছে নিয়েছে। সরকারের দায়িত্ব নেওয়ার মাত্র ছয়-সাত মাসের মধ্যে কেন লংমার্চের মতো কর্মসূচি দেওয়া হচ্ছে, সেই প্রশ্নও তোলেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী।
সমাবেশে জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধি নিয়েও বক্তব্য দেন সালাহউদ্দিন আহমদ। তিনি বলেন, দেশে জ্বালানি তেলের দাম বাড়ার বিষয়টি নিয়ে আলোচনা হলেও আন্তর্জাতিক বাজারের পরিস্থিতি সবসময় বিবেচনায় নেওয়া হচ্ছে না।
তাঁর দাবি, সীমান্ত দিয়ে জ্বালানি তেল পাচারের ঝুঁকি এবং আন্তর্জাতিক বাজারের দামের সঙ্গে সামঞ্জস্য রাখার প্রয়োজন বিবেচনা করে দেশে সীমিত পরিমাণে দাম সমন্বয় করা হয়েছে। বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দাম কমলে বাংলাদেশেও দাম কমানোর নীতির কথা জানান তিনি।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর বক্তব্য অনুযায়ী, আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধির প্রভাব দেশের বাজারেও পড়েছে। এতে সাধারণ মানুষের দুর্ভোগ তৈরি হওয়ায় সরকারের পক্ষ থেকে দুঃখ প্রকাশ করা হয়েছে বলেও জানান তিনি।
সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন মুক্তিযুদ্ধ প্রতিমন্ত্রী ইঞ্জিনিয়ার ইশরাক হোসেন। আরও বক্তব্য দেন মহানগর দক্ষিণ বিএনপির সদস্যসচিব তানভীর আহমেদ রবিন, যুগ্ম আহ্বায়ক আবদুস সাত্তার, সাইদুর রহমান মিন্টুসহ বিএনপির বিভিন্ন অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের নেতারা।