
রাতের অন্ধকারে টর্চলাইট জ্বালিয়ে দুই পক্ষের লোকজন দেশীয় অস্ত্র নিয়ে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়েন বলে জানিয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, কাশীনগর গ্রামের দশম শ্রেণির এক শিক্ষার্থীকে দীর্ঘদিন ধরে বিয়ের প্রস্তাব দিয়ে আসছিলেন একই গ্রামের হুমায়ুন মিয়ার ছেলে রাকিব। তবে কিশোরীর পরিবার ওই বিয়েতে সম্মতি দেয়নি। এ নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে বিরোধ তৈরি হয়। বিরোধের জেরে সম্প্রতি কিশোরীর পড়ালেখাও বন্ধ করে দেয় তার পরিবার বলে জানা গেছে।
মঙ্গলবার রাতে রাকিব ওই কিশোরীর সঙ্গে দেখা করতে তার বাড়ির সামনে যান। এ সময় কিশোরীর পরিবারের সদস্যরা তাঁকে গালিগালাজ করেন বলে অভিযোগ রয়েছে। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে প্রথমে দুই পক্ষের মধ্যে কথা-কাটাকাটি শুরু হয়। একপর্যায়ে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠলে উভয় পক্ষের লোকজন সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়েন।
স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, রাতের অন্ধকারে টর্চলাইট জ্বালিয়ে সংঘর্ষ চলতে থাকে। এতে দুই পক্ষের অন্তত ১০ জন আহত হন। সংঘর্ষের সময় কয়েকটি বাড়িঘরে হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাটের অভিযোগও পাওয়া গেছে। তবে কারা এসব ঘটনার সঙ্গে জড়িত, কী পরিমাণ ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে এবং আহত ব্যক্তিদের মধ্যে কারও অবস্থা গুরুতর কি না, সে বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য পাওয়া যায়নি।
খবর পেয়ে বিজয়নগর থানা-পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি শান্ত করে। এ ঘটনায় নতুন করে কোনো সংঘর্ষের আশঙ্কা রয়েছে কি না, কিংবা ক্ষতিগ্রস্ত বাড়িঘরের বিষয়ে কী পদক্ষেপ নেওয়া হবে, সে সম্পর্কেও তাৎক্ষণিকভাবে বিস্তারিত জানা যায়নি।
বিজয়নগর থানার পরিদর্শক (তদন্ত) রাজীব চন্দ্র সরকার বলেন, কিশোরীর বিয়েসংক্রান্ত বিরোধের জেরে দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ হয়েছে। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি শান্ত করে। তবে এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত কোনো পক্ষ থানায় লিখিত অভিযোগ দেয়নি।
এদিকে, ঘটনাটি ঘিরে এলাকায় উত্তেজনা সৃষ্টি হয়েছে বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে। সংঘর্ষের প্রকৃত কারণ, ভাঙচুর ও লুটপাটের অভিযোগের সত্যতা এবং আহত ব্যক্তিদের বিষয়ে বিস্তারিত জানতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের পরবর্তী পদক্ষেপ গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। থানায় লিখিত অভিযোগ না থাকায় এ ঘটনায় আনুষ্ঠানিক আইনগত পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে কি না, তা এখনো স্পষ্ট নয়।