দেশের বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীরাও মন্ত্রিসভায় অনুমোদিত নতুন জাতীয় বেতন কাঠামোর সুবিধা পাবেন। এ জন্য তাদের অন্তর্ভুক্ত করে পৃথক প্রজ্ঞাপন জারির প্রস্তুতি চলছে। আগামী সপ্তাহে এ বিষয়ে দৃশ্যমান অগ্রগতি হতে পারে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।
শিক্ষা মন্ত্রণালয় সূত্র জানায়, এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীদের নতুন পে স্কেলে অন্তর্ভুক্ত করতে পৃথক গেজেট জারির বিষয়ে শিক্ষা মন্ত্রণালয় ও অর্থ মন্ত্রণালয়ের উচ্চপর্যায়ে মৌখিক আলোচনা হয়েছে। তবে এখন পর্যন্ত এই আলোচনা আনুষ্ঠানিক প্রশাসনিক কার্যক্রমের অংশ হয়নি। প্রজ্ঞাপন জারির পরই এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীদের নতুন বেতন কাঠামোর আওতায় আনার বিষয়টি আনুষ্ঠানিক রূপ পাবে।
এর আগে গত ১ সেপ্টেম্বর নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে দেওয়া এক পোস্টে শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন জানিয়েছিলেন, এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীদেরও নতুন বেতন কাঠামোয় বেতন দেওয়া হবে। মন্ত্রীর ওই বক্তব্যের পর থেকেই এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীদের মধ্যে নতুন পে স্কেল কার্যকর হওয়ার বিষয়টি নিয়ে আলোচনা চলছে।
মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা জানান, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান এবং প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষাবিষয়ক উপদেষ্টা দেশের বাইরে থাকায় এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীদের জন্য পৃথক গেজেট জারির বিষয়ে এখন পর্যন্ত কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া সম্ভব হয়নি। প্রধানমন্ত্রী দেশে ফেরার পর আগামী সপ্তাহে এ বিষয়ে পদক্ষেপ নেওয়া হতে পারে বলে তারা জানিয়েছেন।
বর্তমানে সারা দেশে ছয় লাখের বেশি শিক্ষক-কর্মচারী এমপিওভুক্ত। এর মধ্যে মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তরের অধীনে রয়েছেন প্রায় চার লাখ শিক্ষক-কর্মচারী। মাদরাসা শিক্ষা অধিদপ্তরের অধীনে আছেন প্রায় পৌনে দুই লাখ এবং কারিগরি শিক্ষা অধিদপ্তরের অধীনে রয়েছেন ২৩ হাজারের বেশি।
এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীরা বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে কর্মরত হলেও তাদের বেতন-ভাতার একটি বড় অংশ সরকারি ব্যবস্থার মাধ্যমে দেওয়া হয়। কিছু প্রতিষ্ঠানের নিজস্ব আয় তুলনামূলক বেশি হওয়ায় তারা এমপিও সুবিধার বাইরে অতিরিক্ত অর্থ দিতে পারে। তবে দেশের অধিকাংশ বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সেই আর্থিক সক্ষমতা নেই।
ফলে নতুন জাতীয় বেতন কাঠামোয় এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীদের অন্তর্ভুক্তির বিষয়টি তাদের বেতন-ভাতা ও আর্থিক সুবিধার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। এখন পৃথক প্রজ্ঞাপন জারির আনুষ্ঠানিক সিদ্ধান্তের দিকেই নজর সংশ্লিষ্টদের।