ইরানের সঙ্গে চলমান যুদ্ধ ‘খুব শিগগিরই’ শেষ হয়ে যাবে বলে মন্তব্য করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। একই সঙ্গে যুদ্ধের অবসান হলে বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দাম উল্লেখযোগ্যভাবে কমে আসবে বলেও আশা প্রকাশ করেছেন তিনি।
সোমবার (২৮ সেপ্টেম্বর) ওয়াশিংটন ডিসিতে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলার সময় ট্রাম্প এসব মন্তব্য করেন। এর আগে তিনি জানিয়েছিলেন, ইরান যুদ্ধের অবসান নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের কর্মকর্তারা মধ্যস্থতাকারীদের মাধ্যমে তেহরানের সঙ্গে যোগাযোগ করছেন। ফলে ট্রাম্পের নতুন মন্তব্যের সঙ্গে চলমান কূটনৈতিক তৎপরতারও যোগসূত্র রয়েছে বলে প্রতীয়মান হচ্ছে।
ট্রাম্প বলেন, যুক্তরাষ্ট্র এই যুদ্ধে জয়ী হবে এবং যুদ্ধের সমাপ্তি খুব বেশি দূরে নয়। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, বিষয়টি ‘একভাবে হোক বা অন্যভাবে’ দ্রুতই নিষ্পত্তির দিকে যাবে। তিনি আরও বলেন, যুদ্ধ শেষ হলে গ্যাস ও তেলের দাম দ্রুত নিচের দিকে নামবে।
ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচিও ট্রাম্পের বক্তব্যের গুরুত্বপূর্ণ অংশ ছিল। তিনি আবারও বলেন, ইরান কোনোভাবেই পারমাণবিক অস্ত্রের অধিকারী হতে পারবে না। তাঁর মতে, ইরানের পারমাণবিক সক্ষমতা ঠেকানোই সংঘাতের অন্যতম প্রধান লক্ষ্য।
যুদ্ধের পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে আলোচনার পথ খোলার চেষ্টা চলছে। রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মধ্যস্থতাকারীদের মাধ্যমে দুই পক্ষের মধ্যে যোগাযোগ হয়েছে। কাতারও এই কূটনৈতিক প্রচেষ্টায় ভূমিকা রাখছে। আলোচনায় ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচির পাশাপাশি গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ হরমুজ প্রণালি নিয়ে সমঝোতার বিষয়টি গুরুত্ব পাচ্ছে।
এর আগে ইরান হরমুজ প্রণালি পুনরায় খোলার বিষয়ে একটি প্রস্তাব দিয়েছিল। তবে ট্রাম্প প্রশাসন সেই প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেছিল। একই সময়ে যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকেও নতুন করে আলোচনায় বসার সম্ভাবনার কথা জানানো হয়। ফলে সামরিক সংঘাতের পাশাপাশি কূটনৈতিক তৎপরতাও এখন পরিস্থিতির গুরুত্বপূর্ণ অংশ হয়ে উঠেছে।
ট্রাম্পের বক্তব্যের পর তেলের বাজারে ইতিবাচক প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। ৩০ সেপ্টেম্বরের বাজার পরিস্থিতিতে আন্তর্জাতিক তেলের দাম প্রায় ২ দশমিক ৫ শতাংশ কমেছে বলে গালফ নিউজ জানিয়েছে। বিনিয়োগকারীরা মধ্যপ্রাচ্য থেকে অপরিশোধিত তেল সরবরাহ স্বাভাবিক হওয়ার সম্ভাবনার দিকে নজর রাখছেন।
হরমুজ প্রণালি এই পরিস্থিতিতে বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ। বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি পরিবহনপথ হওয়ায় সেখানে সামরিক উত্তেজনা ও নৌ চলাচলে বিঘ্ন ঘটলে আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের সরবরাহ নিয়ে উদ্বেগ বাড়ে। বিপরীতে সংঘাত কমে গেলে এবং এই পথে জাহাজ চলাচল স্বাভাবিক হলে সরবরাহ বাড়ার প্রত্যাশায় তেলের দামে চাপ তৈরি হতে পারে।
এর আগেও ট্রাম্প যুদ্ধ শেষ হলে তেলের দাম কমার পূর্বাভাস দিয়েছিলেন। ১২ সেপ্টেম্বর আয়ারল্যান্ডে সাংবাদিকদের তিনি বলেছিলেন, যুদ্ধ ‘খুব শিগগিরই’ শেষ হতে পারে এবং নভেম্বরের মধ্যবর্তী নির্বাচনের পর তা শেষ হওয়ার সম্ভাবনার কথা উল্লেখ করেছিলেন। তখনও তিনি যুদ্ধ শেষ হলে তেলের দাম কমে আসবে বলে মন্তব্য করেন।
তবে এবার ট্রাম্প যুদ্ধ শেষ হওয়ার সময়কে আরও কাছাকাছি হিসেবে তুলে ধরেছেন। তাঁর বক্তব্য বাস্তবে কত দ্রুত সংঘাতের অবসান ঘটাবে, তা নির্ভর করছে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে চলমান সামরিক ও কূটনৈতিক পরিস্থিতির ওপর। বর্তমানে মধ্যস্থতাকারীদের তৎপরতা, হরমুজ প্রণালির পরিস্থিতি এবং ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি—এই তিনটি বিষয়ই সংকটের পরবর্তী গতিপথে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে আছে।