ইয়েমেনের বিভিন্ন অঞ্চলে সৌদি আরব ৩২টি বিমান হামলা চালিয়েছে বলে দাবি করেছে ইরান-সমর্থিত হুথি বিদ্রোহীরা। মঙ্গলবার সৌদি আরবে হুথিদের বড় ধরনের হামলার এক দিন পর বুধবার এই দাবি সামনে এলো। সৌদি ভূখণ্ডে চালানো ওই হামলায় ৭৩ জন আহত হওয়ার কথা জানিয়েছিল দেশটির কর্তৃপক্ষ।
হুথিদের পরিচালিত আল-মাসিরাহ টেলিভিশনের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, কয়েক ঘণ্টার মধ্যে সৌদি যুদ্ধবিমান ইয়েমেনের মারিব, আল-জাওফ, তাইজ ও হোদেইদাহ প্রদেশের বিভিন্ন এলাকায় এসব হামলা চালায়। তবে হামলার লক্ষ্যবস্তু কী ছিল, এতে কী ধরনের ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বা হতাহতের ঘটনা ঘটেছে কি না—এ বিষয়ে তাৎক্ষণিকভাবে বিস্তারিত জানানো হয়নি।
হুথিদের এই দাবির বিষয়ে সৌদি আরবের পক্ষ থেকেও এখন পর্যন্ত কোনো আনুষ্ঠানিক মন্তব্য পাওয়া যায়নি। ফলে ৩২টি বিমান হামলার সংখ্যা এবং এসব হামলার ক্ষয়ক্ষতির তথ্য স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।
এর আগে সৌদি কর্তৃপক্ষ জানিয়েছিল, মঙ্গলবার ভোরে হুথিদের চালানো হামলার কারণে দেশটির কয়েকটি তেল স্থাপনার কার্যক্রম সাময়িকভাবে বন্ধ রাখতে হয়। ওই হামলায় ৭৩ জন আহত হন। সৌদি আরবে হামলার পরপরই ইয়েমেনে সৌদি বিমান হামলার খবর প্রকাশ করে হুথিদের গণমাধ্যম।
ইয়েমেনে সাম্প্রতিক সময়ে নতুন করে সংঘাত তীব্র হয়েছে। গত সপ্তাহে বাব আল-মান্দেব প্রণালির কাছাকাছি ভূখণ্ড দখলের লক্ষ্য নিয়ে হুথিরা বড় ধরনের অভিযান শুরু করলে সেখানে লড়াই ছড়িয়ে পড়ে। কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ এই প্রণালিটি লোহিত সাগরকে এডেন উপসাগরের সঙ্গে যুক্ত করেছে। আন্তর্জাতিক বাণিজ্য ও জ্বালানি পরিবহনের ক্ষেত্রেও এর গুরুত্ব অনেক।
ইয়েমেনের চলমান সংঘাতের সঙ্গে আঞ্চলিক উত্তেজনারও ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক রয়েছে। হরমুজ প্রণালি ঘিরে উত্তেজনা এবং উপসাগরীয় অঞ্চল থেকে তেল পরিবহনে সম্ভাব্য বাধার প্রেক্ষাপটে বাব আল-মান্দেবও সৌদি আরবের জ্বালানি পরিবহনের জন্য গুরুত্বপূর্ণ রুট হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
এদিকে নতুন করে শুরু হওয়া সংঘাতে এখন পর্যন্ত ৫০০ জনের বেশি মানুষ নিহত হয়েছেন বলে জানা গেছে। এএফপির হিসাব অনুযায়ী, নিহতদের বেশিরভাগই দুই পক্ষের যোদ্ধা। সংঘাতের মাত্রা বাড়তে থাকায় ইয়েমেনের বেসামরিক জনগোষ্ঠীর নিরাপত্তা এবং গুরুত্বপূর্ণ নৌপথে আন্তর্জাতিক জাহাজ চলাচল নিয়েও উদ্বেগ বাড়ছে।